ENG
২৬ জুন ২০১৭, ১২ আষাঢ় ১৪২৪

নতুন ধানেও কমছে না চালের দাম

  • ফয়সাল আতিক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2017-05-19 20:01:06 BdST

bdnews24

নতুন ধান বাজারে এলেও চালের দাম কমার আশা দেখাচ্ছেন না বিক্রেতারা।

রোজা সামনে রেখে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও চালের দাম বেড়েছে আরেক দফা। মিল মালিকরা বলছেন, এবার ধানের দাম বেশি, তাই চালের দামও শিগগির কমছে না।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম পর্যাপ্ত চাল মজুদ থাকার কথা বললেও গত সপ্তাহে ঢাকার বাজারে আরেক দফা দাম বাড়ার কথা জানিয়েছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।

মিরপুর-২ নম্বর কাঁচাবাজারের চাল বিক্রেতা আবুল কাশেম জানান, কচুক্ষেত বাজার থেকে চাল এনে এখানে বিক্রি করেন তিনি। এক সপ্তাহে সেখানে সব ধরনের চালের বস্তায় ২৫ থেকে ৩০ টাকা করে বেড়েছে।

মিনিকেট কেজি প্রতি ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, বিআর আঠাশ ৪৮ টাকায়, পাইজাম ৪৮ টাকায়, গুটি স্বর্ণা ৪৫ টাকায় বিক্রি করছেন বলে জানান তিনি।

আরেক বিক্রেতা নাজমুল হাসান জানান, একদিন আগে কচুক্ষেত থেকে ৪০ বস্তা চাল কিনেছেন তিনি, যেখানে প্রতি বস্তায় ৩০ টাকা করে বেশি গুণতে হয়েছে।

৫০ কেজির বস্তা মিনিকেট ২৫৮০ টাকা, বিআর আঠাশ ২৩৩০ থেকে ২৩৫০ টাকা, পাইজাম ২৩৩০ টাকা ও গুটি স্বর্ণা ২২০০ টাকায় কিনেছেন বলে জানান নাজমুল।

কচুক্ষেত বাজারের পাইকার স্মরণ আহমেদের সঙ্গে কথা বলেও চালের দাম বাড়ার তথ্য পাওয়া যায়।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নতুন ধান উঠায় চালের দাম কমার আশা থাকলেও মিল পর্যায়ে তো দাম কমেনি, বরং আরও বাড়ছে।

“ফলন কম হয়েছে, ধানের দাম বেশি-এমন যুক্তি দিচ্ছেন মিল মালিকরা।”

কুষ্টিয়া, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রশিদ, মোজাম্মেলসহ অন্যান্য কোম্পানির চাল আনেন এই ব্যবসায়ীরা।

আরএমডি রাইস মিলের ব্যবস্থাপক ও নওগাঁ জেলা চালকল সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ধানের ফলন কম হয়েছে। এছাড়া বাজারে ধানের দামও বাড়তি। সে কারণে নতুন মওসুমের ধান বাজারে এলেও চালের দাম কমছে না।

“এখন বাজারে নতুন জিরাশাইলের মণ এক হাজার টাকার কিছু উপরে। গত বছর এই সময়ে নতুন ধান ছিল ৭০০ টাকা মণ। অন্যান্য ধানের দাম ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এবার সেগুলো ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা। তাহলে এর প্রভাব তো বাজারে পড়বেই।” 

এই চালকল মালিকের ভাষ্য মতে, গত বছর বিঘাপ্রতি ধানের ফলন হয়েছিল ২৫ থেকে ২৬ মণ। এ বছর তা কমে ১৬ থেকে ১৭ মণ হয়েছে।

“দাম কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সরকার যদি আমদানি করে তাহলে কমবে, নইলে কমবে না। মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তা ২৪০০ টাকার নিচে নামবে না।”

বাজারে চালের অন্যতম বৃহৎ যোগানদাতা রশিদ রাইস এজেন্সির বিপণন বিভাগের কর্মকর্তা তারিক আনামও একই কথা বলেন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নতুন ধানের দাম এক হাজার টাকার উপরে, যেটা গত বছর ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা ছিল। সে কারণে এ বছর মওসুম শুরু হলেও চালের দাম কমানো যাচ্ছে না।

“বৃষ্টির কারণে অনেক ধান ও চাল নষ্ট হয়েছে, দাম বেশি থাকার এটাও একটা কারণ।”

সরকার এবার ৩৪ টাকা কেজি দরে চাল সংগ্রহ করছে বলে জানান এই দুই মিল মালিক।

গত মার্চের শেষ দিকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট, সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলের ছয় জেলার দুই লাখ ১৯ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়। ওই সময় থেকেই বাড়ছে চালের দাম।

সরকারের পক্ষ থেকে ধান-চালের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার তথ্য জানিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চালের দাম বৃদ্ধি করলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এরপরও চালের দাম বৃদ্ধিকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল।

গত মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও ও রংপুর অঞ্চলে চলমান গম ও বোরো সংগ্রহ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও চালকল মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “দেশে ধান-চালের সঙ্কট নেই। কিন্তু একশ্রেণির ব্যবসায়ী মজুতদার ও সরকারের বিরুদ্ধবাদী রাজনৈতিক দলের অনুসারী ও ব্যবসায়ীর যোগসাজশে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে।”

শুক্রবার মিরপুর-২ নম্বর কাঁচাবাজার, কচুক্ষেত বাজার ও মহাখালী কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, রোজায় চাহিদার শীর্ষে থাকা ছোলা গত সপ্তাহের মতোই কেজি প্রতি ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় খুচরা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মুগডাল, মসুর ডাল, খেসারি ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আলু বিক্রি হচ্ছে আগের দামে।

মিরপুর-২ নম্বরের মুদি দোকানি আকাশ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মসুর ডাল কেজি ৮০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা, মুগডাল ১৩০ টাকা, ছোলা ৮৫ থেকে ৯০ টাকা, খেসারি ডাল ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে এসব পণ্যে দাম বাড়েনি। 

ভারতীয় রসুনের দাম কিছুটা বাড়তি হলেও দেশি রসুন আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় রসুন ২৪০ টাকায় এবং দেশি রসুন ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

চালের দাম বেশি হলেও বাজারে মাছ, মাংস ও সবজির দামও স্থিতিশীল রয়েছে।

এক সপ্তাহ আগে সবে বরাত উপলক্ষে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৬০ টাকায় উঠলেও চলতি সপ্তাহে তা কমে আবার ১৫০ টাকায় নেমে এসেছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকায়।

মিরপুরের এই বাজারে ঢেঁড়শ ৩০ টাকা, পটল ৩০ টাকা, পেপে ৩৫ টাকা, কাকরোল ৪০ টাকা, লম্বা বেগুন ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকায় কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে।