ENG
২৪ মে ২০১৭, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪

স্বাধীনতা ভোগ করতে কল্যাণ রাষ্ট্র দরকার: প্রধান বিচারপতি

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2017-05-19 21:48:47 BdST

bdnews24
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (ফাইল ছবি)

দেশের জনগণকে স্বাধীনতার সুফল ভোগের সুযোগ দিতে ‘কল্যাণকর রাষ্ট্রের’ দরকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় আদালত পরিদর্শন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, “স্বাধীনতার পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যেটার স্বপ্ন দেখেছিলেন- একটা কল্যাণকর রাষ্ট্র করার জন্যে। আমরা ব্রিটিশ আমলে ব্রিটিশদের পরাধীন ছিলাম, পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানিদের পরাধীন ছিলাম। আমাদের কোনো স্বাধীনতা ছিল না। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা কোনোটাই ছিল না।

“এটার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং এই স্বাধীনতা। জনগণকে এই স্বাধীনতা ভোগ করতে হলে একটা কল্যাণকর রাষ্ট্রের দরকার। এই যে উন্নতি, এই উন্নতিটা কোনো মতেই স্বীকৃতি পাবে না দেশের ন্যায় বিচার যদি প্রতিষ্ঠা না হয়।”

মৌলিক প্রয়োজন পূরণ হলে তার অধিকারের নিশ্চয়তা নিয়ে চিন্তা করে মন্তব্য করে এস কে সিনহা বলেন, “বেসিক তিনটা জিনিস যখন পূরণ হয়ে যায়, এরপরই মানুষ চিন্তা করে আমার অধিকারের নিশ্চয়তা থাকল কি না।

“আমার জান-মাল-সম্পদের, চার নম্বর যেটা অধিকার। এটা আমাদের সংবিধানেরই একটা মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে হলে আইনের শাসন দরকার।”

এর আগে সকালে বাঁশখালী ঋষিধামে ‘শ্রী গুরু মন্দির’ উদ্বোধন করেন প্রধান বিচারপতি।

ওই উদ্বোধনীতে তিনি বলেন, “কিছু স্বার্থানেষী মহল দেশের স্বাধীনতাকে ভুলুণ্ঠিত করার জন্যে, জাতির জনকের স্বপ্নকে ভুলুণ্ঠিত করার জন্যে উনাকে স্বপরিবারে মেরে শুধু ক্ষান্ত হয়নি, দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি চালু করেছে। আজকে কিন্তু সেই দিন নেই।

“আমাদের সংবিধান যেটা, বঙ্গবন্ধুর আমলে- যে কন্সটিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলি করেছিলেন। তারা যে সংবিধান প্রণয়ন করেছেন এটা সম্পর্ণভাবে ধর্মনিরপেক্ষ।”

বাংলাদেশকে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র অভিহিত করে নিজের প্রধান বিচারপতি অবস্থানে আসাকে এর বড় উদাহরণ হিসেবে দেখান এস কে সিনহা।

অনুষ্ঠানে সমবেত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সবসময় মনে আস্থা রাখবেন- এটা একটা ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। সেটা আপনারা আমাকে দেখেন। পৃথিবীতে কোনো মুসলমান দেশে আপনারা কল্পনাই করতে পারবেন না যে, ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে প্রধান বিচারপতি একজন...

“শুধু প্রধান বিচারপতি না, আজকে সরকারের মধ্যে অনেকজন সেক্রেটারি, সারা বাংলাদেশে অনেকজন জেলা প্রশাসক আছেন, অনেকজন পুলিশ সুপার আছেন। এখন কিন্তু সরকার… যার গুণাবলী আছে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তাদেরকে সেরকম নিয়োগ দিয়ে থাকে।”

জঙ্গিবাদী হামলায় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ জড়িত থাকার পেছনে ‘কিছু লোকের’ ধর্মের অপব্যাখ্যাকে দায়ী করেন প্রধান বিচারপতি।

তিনি বলেন, “কিছু লোক ধর্মের অপব্যাখ্যা করে। কোনো ধর্মই বলে না সন্ত্রাস করে মানুষ হত্যা করে ধর্ম পালন হবে। প্রত্যেক ধর্মেই বলা হচ্ছে শান্তির কথা। কিন্তু কিছু বিপথগামী ছেলে ধর্মের অপব্যাখ্যা করে সন্ত্রাসমূলক কাজ করছে।

“সরকার বা পুলিশের একার পক্ষে সন্ত্রাস দমন করা সম্ভবপর নয়। অপরিচিত কোনো ব্যক্তি যদি এখানে এসে থাকে, নিকটস্থ পুলিশকে খবর দেন।”

নির্ভয়ে যার যার ধর্ম পালন করতে দেশের সব ধর্মাবলম্বী মানুষের প্রতি আহ্বান জানান এস কে সিনহা।

পরে বিকালে বাঁশখালী আদালতের অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বলেন, “অপরিচিত লোক কোর্টের কাছে ঘেষতে দেবেন না। আপনারা যদি না পারেন, লোকাল পুলিশকে খবর দেবেন, যাতে এই কোর্টের নিরাপত্তা বজায় থাকে। বিচার যাতে নির্বিঘ্নে চলে।

“এখানে যদি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, আমি প্রধান বিচারপতি হিসেবে কোনো পিছপা হব না এখান থেকে বিচারক উইথড্র করে নেওয়ায়।”

বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বিচার বিভাগের প্রধান বলেন, “এখানে প্রহসনমূলক কোনো বিচার করতে চাই না। বিচারক যদি তার নিরাপত্তা না পায়, তাহলে কিন্তু সে মন দিয়ে বিচার করতে পারবে না।”