ENG
২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১ আশ্বিন ১৪২৪

বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে কলম হাতে ডিএল রায়

  • মেহেদী হাসান (১৬), বরিশাল  
    Published: 2017-05-17 21:50:36 BdST

bdnews24

বাঙালির দেশাত্ববোধ উজ্জীবিত হয়ে ওঠে যে গানটিতে, সেটি ডিএল রায়ের ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা’। তবে তিনি শুধু গানই লেখেননি, সাহিত্যে অনেক শাখায় তার কলম সার্থক হয়েছে। এমনকি কলম ধরেছিলেন রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও।

ডিএল রায় বা দ্বিজেন্দ্রলাল রায় বাজন্মেছিলেন ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই। পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তার নিবাস। ১৭ মে তার ১০৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী।

কৃষ্ণনগর রাজবংশের দেওয়ান কার্তিকেয়চন্দ্র রায় ছিলেন তার পিতা আর মায়ের নাম প্রসন্নময়ী দেবী।

পরিবারিক আবহ ছিল সাহিত্য চর্চার অনুকূল। আর তাই ছোটবেলা থেকেই ডিএল রায়ের সাহিত্যবোধ জেগে ওঠে। 

১৮৭৮ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কৃষ্ণনগর সরকারি কলেজ থেকে এফএ পাশ করেন। পরে হুগলী কলেজ থেকে বিএ ও ১৮৮৪ সালে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এমএ পাশ করেন।

কিছুদিন শিক্ষকতা করে কৃষিবিদ্যা বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষার জন্যে সরকারি বৃত্তি নিয়ে ইংল্যান্ড যান। সেখানে রয়্যাল এগ্রিকালচারাল কলেজ ও এগ্রিকালচারাল সোসাইটি থেকে কৃষিবিদ্যায় উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।

এরপর দেশে ফিরে জরিপ ও কর মূল্যায়নে প্রশিক্ষণ নিয়ে মধ্যপ্রদেশে সরকারি দপ্তরে যোগ দেন। পরে দিনাজপুরে সহকারী ম্যাজিস্ট্রেট পদে  নিয়োগ পান। ১৯১৩ সালে অসুস্থতার কারণে অবসর নেন। তবে সাহিত্যসাধনা চলতে থাকে পুরোদমে।

১৯০৫ সালে তিনি কলকাতায় পূর্ণিমা সম্মেলন নামে একটি সাহিত্য সংগঠন করেন এবং চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পরই ভারতবর্ষ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব নেন।

১৮৮৬ সালে  ইংল্যান্ডে পড়াশোনার সময় কালে প্রকাশিত হয় তার একমাত্র ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ লিরিকস অব ইন্ডিয়া। দীর্ঘ জীবনে তিনি রচনা করেছেন পাঁচ শতাধিক গান, কবিতা, নাটক ও রম্যরচনা।

তার রচিত গানগুলোতে দেশপ্রেম ও হাস্যরসের  প্রভাব ছিল খুব প্রখর। ধনধান্যে পুষ্পভরা, ওই মহাসিন্ধুর ওপার হতে, আমি তোমার কাছে ভাসিয়া যাই, মলয় আসিয়া বলে গেছে কানে, পতিতোদ্ধারিনী গঙ্গে, কে গান গেয়ে গেয়ে চলে যায়, নিখিল জগত সুন্দর সব, তোমারেই  ভালবেসেছি আমি, আজি বিমল নিদাঘ প্রভাতে গানগুলি শিল্পী ও শ্রোতার কাছে আজও সমান আবেদন রাখে।

তার রচিত কাব্য, আর্যগাথা (১৮৮৪), আষাঢ়ে (১৮৯৯), হাসির গান (১৯০০), মন্দ্র (১৯০২), আলেখ্য (১৯০৭), ত্রিবেণী (১৯১২); নাটক: একঘরে (১৮৮৯), কল্কি অবতার (১৮৯৫), বিরহ (১৮৯৭), প্রায়শ্চিত্ত (১৯০২), পুনর্জন্ম (১৯১১), আনন্দ-বিদায় (১৯১২), তারাবাঈ (১৯০৩), রানা প্রতাপসিংহ, দুর্গাদাস, সোহরাব রুস্তম ইত্যাদি বিশেষভাবে 
উল্লেখযোগ্য।

পড়া শেষ করে দেশে ফেরার পর সমুদ্র পাড়ি দেওয়ায় তাকে হিন্দু ধর্ম অনুসারে প্রায়শ্চিত্ত করতে বলা হলে অসম্মতি জানান। এ কারণে তাকে সহ্য করতে হয় সামাজিক উৎপীড়ন। 

১৮৯০ সালে বর্ধমান এস্টেটের সুজামুতা পরগনায় সেটলমেন্ট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কৃষকদের অধিকার নিয়ে বাংলার তৎকালীন ইংরেজ গভর্নরের সঙ্গে বিবাদে জড়ান। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধেও কলম হাতে প্রতিবাদী ছিলেন এই লেখক।