ENG
২৮ মে ২০১৭, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪

জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি

  • আজমল তানজীম সাকির (১৩), ঢাকা
    Published: 2017-05-19 21:53:07 BdST

bdnews24

উপন্যাস আর ছোট গল্প লিখে বাংলা কথাসাহিত্যে আপন আলোয় উজ্জ্বল হয়ে আছেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার কলম বলেছে সংগ্রামীদের গল্প, মধ্যবিত্তদের গল্প। মানুষের মন, জীবনকে অক্ষরে রূপ দিতে চাইতেন তিনি।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম হলো প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। তার ডাক নাম মানিক। ১৯০৮ সালের ১৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। যদিও তার পৈতৃক বাড়ি ছিল মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুর অঞ্চলের মালবদিয়া গ্রাম। বাবা হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাকুরির সূত্রে সাঁওতালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। এছাড়া বাবার চাকরির সুবাদে কলকাতা, বারাসাত, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন অঞ্চলে জীবন কাটিয়েছেন তিনি।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখালেখির পথে আসার গল্পটা অনেক মজার। ১৯২৬ সালে প্রবেশিকা ও ১৯২৮ সালে আইএসসি পাশ করে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে গণিতে অনার্সে ভর্তি হন তিনি। তখন ‘বিচিত্রা’ নামের একটি জনপ্রিয় পত্রিকা ছিল। বন্ধুদের সাথে মানিক বাজি ধরে বসলেন যে তার লেখা গল্প বিচিত্রাতে প্রকাশিত হবে। সেই বাজি জিতে ছিলেনও। পত্রিকাতে তার লেখা ‘অতসী মামী’ নামক গল্প প্রকাশিত হলে লেখালেখিকেই জীবিকা হিসেবে বেছে নেন তিনি।

গল্পটি প্রকাশিত হয়েছিল মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নামে। সেই থেকেই বাংলা সাহিত্যে মানিক বন্দ্যোপাধায়ের আগমন। তখন থেকেই সাহিত্যতে মন দেন তিনি। আর এর প্রভাবটা এসে পড়ে পড়ালেখায়। লেখালেখি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠলে পড়ালেখার ক্ষতি হয় তার। সাহিত্যে তার মন এতটাই বাঁধা পড়েছিল যে অনার্স পাশ আর করে ওঠা হয়নি তার।

মাত্র ২১ বছর বয়সে প্রকাশিত হয় তার লেখা ‘দিবারাত্রির কাব্য’ উপন্যাসটি। তার লেখা অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো পদ্মা নদীর মাঝি ও পুতুল নাচের ইতিকথা। এ দুইটি উপন্যাস বেশ জনপ্রিয়। ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসে তিনি তুলে ধরেন নদীর তীরে থাকা জেলেপাড়ার জীবনের সুখ-দুঃখ, সাহসসহ নানান রঙের গল্প। এ উপন্যাসের আলোকে চলচ্চিত্রও নির্মাণ করা হয়েছে। জননী, চিহ্ন, চতুষ্কোণসহ অন্যান্যও উপন্যাসও বাংলা সাহিত্যে সমাদৃত।

বেশ বিজ্ঞানমনষ্কও ছিলেন তিনি। তার লেখা ‘তৈলচিত্রের ভূত’ ছোটগল্পে তিনি ভূত নিয়ে মানুষের মনে বিরাজ করা ভয় আর কুসংস্কারকে তুলে ধরেছেন। এ গল্পটি ছিল কিশোরদের জন্য। কিশোরদের জন্য তিনি আরো অনেক গল্প লিখেছেন। তার লেখা কিশোর-উপন্যাস হলো মাঝির ছেলে। এছাড়া তিনটি সাহসী ভীরুর গল্প, কোথায় গেল?, জব্দ করার প্রতিযোগিতা, সূর্য বাবুর ভিটামিন সমস্যা ইত্যাদি।  তার অন্যান্য ছোটগল্প হলো প্রাগৈতিহাসিক, টিকটিকি, হারানের নাতজামাই, সমুদ্রের স্বাদ প্রভৃতি।

১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর এ কিংবদন্তী লেখক পৃথিবীকে বিদায় জানান। অকাল মৃত্যু ঘটে তার। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল মাত্র ৪৮।