ENG
৩০ এপ্রিল ২০১৭, ১৭ বৈশাখ ১৪২৪

আমেরিকানদের ‘ট্রাম্প অ-সুখ’

  • নিউজ ডেস্ক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2017-03-20 21:53:29 BdST

সুখী মানুষের দেশের তালিকায় অবনমন ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের, যার জন্য দেশটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হওয়াকে দায়ী করা হচ্ছে।

সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশন নেটওয়ার্কের ২০১৭ সালের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রকে রাখা হয়েছে চতুর্দশ স্থানে (স্কোর ৬.৯৯৩)। গত বছর ৭ দশমিক ১০৬ পয়েন্ট নিয়ে দেশটির অবস্থান ছিল ত্রয়োদশ।

গত বছর শীর্ষ স্থানে থাকা ডেনমার্ককে টপকে এবার প্রথম স্থানে এসেছে তাদের প্রতিবেশী দেশ নরওয়ে (স্কোর ৭.৫৩৭)। ডেনমার্ক (৭.৫২২) নেমে গেছে দ্বিতীয় স্থানে।

এবারের তালিকায় শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে নরওয়ে ও ডেনমার্কের পরে রয়েছে যথাক্রমে আইসল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, কানাডা, নিউ জিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, সুইডেন ও ইসরায়েল।

.

.

সুখী দেশের তালিকায় যেমন ইউরোপের দেশগুলোর আধিপত্য, বিপরীতে দুঃখী দেশগুলোর অধিকাংশই আফ্রিকার।

তালিকায় সবার নিচে রয়েছে সাউথ আফ্রিকান রিপাবলিক (স্কোর ২.৬৯৩)। তালিকায় তাদের উপরের দেশগুলো হল বুরুন্দি, তানজানিয়া, সিরিয়া, রোয়ান্ডা, টোগো, গিনি, লাইবেরিয়া ও সাউথ সুদান।

এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থানের কোনো হেরফের হয়নি, স্থান গতবারের মতোই ১১০তম। তবে স্কোর সামান্য কমেছে; গতবার স্কোর ছিল ৪.৬৪৩, এবার ৪.৬০৮।

এই তালিকা অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশিদের চেয়ে সুখী পাকিস্তান (৮০তম), ভুটান (৯৭তম) ও নেপালের (৯৯তম) নাগরিকরা। বাংলাদেশিদের চেয়ে অসুখী ভারত (১২২তম) ও শ্রীলঙ্কার (১২০তম) নাগরিকরা।

মানুষ কীভাবে আছে, তা একটি সূচকের মাধ্যমে প্রকাশে প্রতি বছরই ‘দি ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট’ প্রকাশ করে আসছে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশন নেটওয়ার্ক। ২০ মার্চ জাতি সংঘ ঘোষিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে অব হ্যাপিনেস’ ঘিরে এই তালিকা প্রকাশ করে তারা।

১৫০টি দেশের প্রতিটির ১ হাজার মানুষকে করা প্রশ্নের ভিত্তিতে এই তালিকা করা হয়ে থাকে বলে বিবিসি জানিয়েছে।

দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, সামাজিক অবস্থা, মানুষের আয়ু, ইচ্ছা বাস্তবায়নের সক্ষমতা ইত্যাদি মূল্যায়ন করে এই তালিকা করা হয়।

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পর দেশে এই রকম বিক্ষোভ দেখতে হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (ফাইল ছবি-রয়টার্স)

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পর দেশে এই রকম বিক্ষোভ দেখতে হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (ফাইল ছবি-রয়টার্স)

যুক্তরাষ্ট্রের অবনমন এবং স্কোর কমে যাওয়া বিষয়টিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশন নেটওয়ার্ক। এজন্য প্রতিবেদনে একটি আলাদা অধ্যায়ও যোগ করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটলেও কেন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ আগের চেয়ে অসুখী বোধ করছে, তার কারণ হিসেবে বিতর্কিত ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়া এবং তাকে নিয়ে দেশটির নাগরিকদের আশঙ্কাকেই খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা।

“যুক্তরাষ্ট্রের এই সমস্যাটি সামাজিক সমস্যা, এটা অর্থনৈতিক সমস্যা নয়,” রয়টার্সকে বলেন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশন নেটওয়ার্কের পরিচালক জেফ্রে সাচ।

ট্রাম্প জমানায় নানামুখী সামাজিক সমস্যা বৃদ্ধি, বৈষম্য বৃদ্ধি, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য খাতে উল্টো রথ, পরস্পরের প্রতি আস্থাহীনতা বেড়ে যাওয়াকে কারণ মনে করছেন তিনি।