সেমি-ফাইনাল খেলতে পারা হবে দারুণ অর্জন: তামিম

চোট থেকে ফেরার লড়াইয়ে পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে নেপালে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলতে গিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। কিন্তু দেশে ফেরেন নতুন চোট নিয়ে। আঙুলে ব্যান্ডেজ নিয়ে আপাতত বাসায় সময় কাটছে তার। বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে, তিনি দেশে বসে, এই অভিজ্ঞতাও তার জন্য নতুন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া ওপেনার তার এই সিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্তের পর নানা বিতর্ক, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা, নিজের চোট ও প্রাসঙ্গিক আরও অনেক কিছু নিয়ে কথা বললেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে।

চোটের প্রসঙ্গেই শুরু করা যাক। আঙুলের কি অবস্থা?

তামিম ইকবাল: একটা চোট থেকে এখনও পুরোপুরি সেরে উঠিনি। এর মধ্যেই আরেকটি এসে গেল। দুর্ভাগ্যজনক, কী আর বলব। ক্রিকেটের ধরনই এরকম। বল হাতে লেগে গেল, এখানে আমার কিছু করার নেই। কপালে লেখা ছিল।

একটা ব্যাপার ভালো যে এখন আমার কোনো আন্তর্জাতিক সিরিজ নেই। তবে খারাপটা হলো, আমি জাতীয় লিগ খেলতে খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় ছিলাম। খুব ইচ্ছে ছিল, জাতীয় লিগের অন্তত তিনটি রাউন্ড খেলার। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের আগে জাতীয় ক্রিকেটাররা হয়তো চারটি পর্যন্ত ম্যাচ খেলতে পারবে লিগে। আমি তিনটি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা ফাইনাল করেছিলাম। জাতীয় লিগ চলার সময় আমার বোনের বিয়ে, একটি রাউন্ড তাই খেলার কথা ছিল না।

এখন সব বদলে গেল। এই অবস্থায় ফিজিও-ডাক্তার ও নির্বাচকদের সঙ্গে কথা বলে যা ঠিক হয়েছে, হয়তো জাতীয় লিগের চতুর্থ রাউন্ডে খেলতে পারব। এরপর টেস্ট স্কোয়াডে জায়গা পেলে জাতীয় দলে যোগ দেব। আপাতত এটাই পরিকল্পনা।

তবে সত্যিই খারাপ লাগছে যে আগের ম্যাচগুলি খেলতে পারছি না। জাতীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে অনেক অভিযোগ থাকে যে ঘরোয়া ক্রিকেট, বিশেষ করে লঙ্গার ভার্সন খেলতে চান না। আমি কিন্তু যখনই সুযোগ পাই, খেলে ফেলি। এরকম নয় যে এড়িয়ে যাই। এবারও খুব আগ্রহ ছিল খেলার, বিশেষ করে প্রথম দুই ম্যাচ চট্টগ্রামে বলে। খুব ভালো ব্যাটিং অনুশীলনের সুযোগ পাকিস্তান সিরিজের আগে। কিন্তু হলো না। একটা ম্যাচই হয়তো পারব এখন খেলতে।

আপনার কি চোট-আঘাত একটু বেশিই হয়? বিশেষ করে, ব্যাটসম্যান বিবেচনা করলে, ফাস্ট বোলার তো নন!

তামিম: এটা নরমালই হতে পারে, স্পোর্টসপারসনদের তো হয়ই। আল্লাহ যেটা ঠিক করে রাখেন, সেটাই হয়। এর চেয়ে অনেক খারাপও থাকতে পারতাম। আমি যেরকম আছি, এত ম্যাচ খেলেছি…১৪ বছরের ক্যারিয়ার হিসাব করলে, আমার ইনজুরি হয়তো পাবেন, কিন্তু ইনজুরির কারণে ম্যাচ খেলতে না পারা পাবেন খুব সামান্য। খুব কম।

নেপালে প্রথমবার গেলেন, খেললেন, কেমন অভিজ্ঞতা হলো? নিজে যদিও খুব ভালো করেননি, এমনিতে নেপালের ক্রিকেট কেমন দেখলেন?

তামিম: টুর্নামেন্ট (এভারেস্ট প্রিমিয়ার লিগ) খারাপ নয়। তবে ওদের ওখানে ক্রিকেট খুব কম হয়। ক্রিকেটের সুযোগ-সুবিধা মোটেও ভালো নয়। একটিই মাত্র মাঠ। সেখানেও আবার একদিনের বৃষ্টিতে তিনদিন খেলা হয় না। তবে ওরা ক্রিকেটকে তুলে ধরার ও এগিয়ে নেওয়ার খুব চেষ্টা করছে।

নতুন টুর্নামেন্ট করতে গেলে, অনেক কিছু ভালো থাকে, আবার অনেক কিছু আরও ভালো করার সুযোগ থাকে। যেমন, ক্রিকেট বল আমাদের কাছে একটা বড় ইস্যু। ভালো কোয়ালিটির বলে খেলা হলে, আরেকটু ভালো সুযোগ-সুবিধা যদি থাকত অনুশীলনের, ওদের ক্রিকেটের জন্য ভালো হতো।

কিছু ভালো ক্রিকেটার ওদের আছে। তবে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে ওদের।

বিশ্বকাপ না খেলা নিয়ে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে কথা হয়নি তামিমের, তবে সাধারণ কথা হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে কথা হয়েছে ওদের সঙ্গে?

তামিম: খুব ভালো করেই। ক্রিকেট তো দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে ওখানে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের খোঁজখবর খুব রাখে তারা, সব ক্রিকেটারকে চেনে-জানে। এমনকি সাফ গেমসের ক্রিকেটে আমাদের দল খেলেছে নেপালে, সেটার খবরও তারা জানে। মাঠে দর্শক থাকে বেশ, লোকে পছন্দ করে।

তবে সার্বিক অবস্থায় যা বুঝলাম, আজ থেকে ধরুন ২০ বা ২৫ বছর আগে আমাদের দেশের ক্রিকেটের যা অবস্থা ছিল, ওরা এখন সেখানে দাঁড়িয়ে। খেলা হতো না বেশি, আন্তর্জাতিক ম্যাচের অপেক্ষায় তাকিয়ে থাকতে হতো, এখন ওরা সেই পর্যায়ে। তবে আমাদের তো কিছুটা হলেও ফ্যাসিলিটিজ ছিল, ওদের খুব কম।

বাংলাদেশ দল এখন বিশ্বকাপে, আপনি এখানে। বিশ্বকাপে আপনি নেই, আপনার ক্যারিয়ারে আগে কখনও হয়নি। যদিও সিদ্ধান্ত আপনার, তবু ভেতরটা কি একটু ফাঁকা লাগছে না?

তামিম: খারাপ তো লাগছেই। যদি বলি যে খারাপ লাগছে না, তাহলে মিথ্যে বলা হবে। আমি তো এটায় অভ্যস্ত নই। সবসময় দলের সঙ্গেই থাকি এমনিতে। তবে কথায় আছে, যা হয়, ভালোর জন্যই হয়। আমি নিজে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সিদ্ধান্তের পেছনের কারণও ব্যাখ্যা করেছি। এখানে নতুন করে কোনো বিতর্ক বা ভাবনায় আমি থাকতে চাই না।

সিদ্ধান্ত আপনার, কিন্তু সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যদের প্রভাবের নানা খবর উড়ছে!

তামিম: অমুকে চায়নি, তমুকে বলেনি, এসব নিয়ে ভাবতেও চাই না। আমি এতটুকুতেই থাকতে চাই যে সিদ্ধান্তটা আমিই নিয়েছি এবং এটাই সত্যি। কেউ আমাকে বলেওনি এমন কিছু করতে। কারও কথার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতেও চাই না আমি। আমার যেটা সঠিক মনে হয়েছে, খুব ভালোভাবে ব্যাখ্যা করেছি। আর কিছু বলার দরকার নেই।

কথা তো হবেই। বিশেষ করে, এরকম কোনো ঘটনা যখন হয়…বাংলাদেশের ক্রিকেটে তো আগে কখনও হয়েছে বলে মনে হয় না। তখন নানা কথা নানা জায়গা থেকে উঠে আসা স্বাভাবিক। শুধু ক্রিকেটে নয়, সব ক্ষেত্রেই আমাদের দেশে এরকম ঘটনায় নানা খবর শোনা যায়। এটা স্বাভাবিক। কেউ বলবে, আপনারা লিখবেন, এসব হবেই। আমি পরিষ্কারভাবে ভিডিওতে বলেছি, আমি সেখানেই থাকতে চাই।

কতক্ষণ লেগেছিল সিদ্ধান্তটা নিতে?

তামিম: আমার জীবনের প্রায় সব সিদ্ধান্তই খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়ে নেই। গাট ফিলিং যা বলে, করে ফেলি। ভাবনা তো থাকেই। তবে ফাইনাল ডিসিশান দ্রুত হয়ে যায়।

আর আমি সবসময় নিজের মনের কথা শুনি। ভুল হোক বা ঠিক, হৃদয়ের কথা শুনি। শুধু ক্রিকেটে নয়, জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও।

সিদ্ধান্ত নিয়ে তাহলে আক্ষেপ নেই?

তামিম: নাহ, একদমই না। যেটা বললাম, খারাপ লাগছে অবশ্যই। খেলাটাকে ভালোবাসি, খেলতে ভালোবাসি। দলকে তো মিস করছি। এমনিতে সবসময় দলের সঙ্গে থাকি। কিন্তু গত দুই-আড়াই মাস ইনজুরি ও আমার সিদ্ধান্ত মিলিয়ে দলের সঙ্গে নেই, খারাপ তো লাগেই। সেটা অন্য ব্যাপার। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার এক বিন্দু আক্ষেপ নেই।

সামনে অনেক খেলা আছে। টানা খেলা থাকলে যে পরিবারকে মিস করি, আপাতত তাদের সঙ্গে সময় কাটাই।

কোচ-অধিনায়কের সঙ্গে কথা হয়েছে এটা নিয়ে, আগে বা পরে?

তামিম: নাহ, একদমই না। রিয়াদ ভাইয়ের সঙ্গে (টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ) সেদিন প্র্যাকটিসে গিয়ে দেখা হয়েছে, নরমাল কথা হয়েছে। এসব নিয়ে আমরা কোনো কথা বলিনি।

বিশ্বকাপে দল কেমন করবে বলে মনে হয়?

তামিম: আমি তো আশাবাদী ভালো করবে। আর সত্যি বলতে, এখানে আমার দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব সবসময়ই থাকবে। এই টুর্নামেন্টে হয়তো খেলছি না, কিন্তু আমি তো এই দলেরই অংশ। সবসময় এটাই মনে করি। কাজেই আমার কথায় অবশ্যই থাকবে যে দল অনেক ভালো করবে।

‘অনেক ভালো’ মানে কত ভালো?

তামিম: যদি বাস্তবতার কথা বলেন, আমার কাছে মনে হয়, বাংলাদেশ দল সেমি-ফাইনালে খেলতে পারলে, তা দারুণ অর্জন হবে।

তার মানে, সেমি-ফাইনাল সম্ভব?

তামিম: ক্রিকেটে যে কোনো কিছুই সম্ভব।

নিজে না থাকলেও বিশ্বকাপে দল ভালো করবে বলেই বিশ্বাস তামিমের।

সেটা তো ক্রিকেটীয় অনিশ্চয়তা বা ধরন। কিন্তু দলের সম্ভাবনার কথা বললে…

তামিম: সম্ভব নয় কেন? বিশ্বাস না করার কোনো কারণ নেই। দল তো ভালো খেলছে। অবশ্যই সেমি-ফাইনাল খেলতে পারি আমরা।

সেমি-ফাইনালের আগে তো প্রথম রাউন্ড পার হতে হবে। বাংলাদেশকে প্রতিবারই এটা খেলতে হচ্ছে। আপনিও খেলেছেন। এই রাউন্ড আসলে কতটা সহজ কিংবা কঠিন?

তামিম: লোকে যতটা সহজ মনে করে, তার চেয়ে কঠিন। আসলে, বেশ কঠিন। কারণ, প্রচণ্ড রকম চাপ থাকে। এটা একটা এমন জায়গা, দল জিতলে বা কেউ ভালো করলে, সেভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। কিন্তু খারাপ করলে বড় বিপদ।

দিনশেষে মনে করা উচিত, এটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও মূল বিশ্বকাপেরই অংশ। এখানে দল বা ক্রিকেটাররা ভালো করলে, সেটার মূল্যায়ন হওয়া উচিত। হয়তো নিয়মিত প্রতিপক্ষদের সঙ্গে আমরা খেলছি না, কিন্তু ওরা তো বিশ্বকাপই খেলতে আসছে! মাঠে নামা মানেই জয়ের নিশ্চয়তা নয়।

গত বিশ্বকাপের কথাই ধরুন, ধর্মশালায় কন্ডিশন আমাদের জন্য কত কঠিন ছিল। প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আমাদের খারাপ অবস্থা ছিল, ৫ উইকেটে ১০০ রান ছিল ১৫ ওভারে (১১২ রান)। সেখান থেকে দেড়শ রানের মতো করতে পারি আমরা (তামিম ৮৩*, বাংলাদেশ ১৫৩)। পরে তাসকিন, আল আমিন ভালো বল করে, মাঝে মাশরাফি ভাই, সাকিব ভালো বল করায় জিতি আমরা। শেষ ওভার তাসকিন ভালো না করলে হারতেও পারতাম।

ওই ম্যাচ আমরা হেরে গেলে হয়তো প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদ পড়তে হতো। কারণ পরে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচে বৃ্ষ্টিতে খেলা হয়নি।

লোকে মনে রাখে যে নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড। ম্যাচের অবস্থা, কন্ডিশন, এসব ভুলে যায়। অবশ্যই আমরা চাই ভালোভাবে জিততে। কিন্তু সবসময় তো ক্রিকেটে তা হয় না।

এবার প্রথম রাউন্ডের দুই গ্রুপের মধ্যেও তুলনামূলক সহজ গ্রুপে বাংলাদেশ, খুব চ্যালেঞ্জিং কি হওয়ার কথা?

তামিম: আশা করি, দল ভালোভাবেই যাবে পরের রাউন্ডে। তবে ওরা তো ক্রিকেট খেলতে এসেছে! এই দলগুলির সঙ্গে আমরা নিয়মিত খেলি না। ওদের সম্পর্কে ধারণা কম থাকে। ভিডিও তো খুব বেশি পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও মাঠে তাদের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা ততটা নেই। কিছুটা অনিশ্চয়তা নিয়ে তাই নামতে হয়। সহজ মনে হলেও তাই সবসময় সহজ নয়। খুব ট্রিকি ও চাপের। তাই শেষ পর্যন্ত খুব সহজভাবে যদি আমরা না জিতি, সেখানেও অবাক হব না।

এই দলের শক্তির জায়গা কোনটা?

তামিম: আমার কাছে সবচেয়ে বড় শক্তি এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে, আত্মবিশ্বাস। জয়ের আত্মবিশ্বাস।

স্কিলের দিক থেকে বললে, আমাদের ব্যাটিং গভীরতা। অনেক নিচে পর্যন্ত ব্যাট করি আমরা। আট নম্বর পর্যন্ত ভালো ব্যাটসম্যান আমাদের। এটা বড় শক্তি।

বোলিং খুব ভালো আমাদের এবং মূল বোলার যারা, তারা খুব ভালো ফর্মে আছে। মুস্তাফিজ-সাকিব তো ঘরের মাঠের সিরিজগুলোর পর আইপিএলেও ভালো করেছে। মেহেদি, নাসুমরা ভালো ফর্মে আছে।

দলটা ব্যালান্সড। এখন পারফর্ম করার ব্যাপার। প্রতি ম্যাচেই অন্তত দুই-তিনজনকে ভালো পারফর্ম করতে হবে। সেটা যে কোনো দুই-তিনজন হতে পারে। সঙ্গে অন্যরা টুকটাক করলেই হবে। ৭-৮ জন তো আর একসঙ্গে ভালো করে না। এটুকু করলেই আমাদের হবে আশা করি।

দলের ঘাটতির জায়গা?

তামিম: নতুন কিছু নেই, পুরনো যা কিছু আপনারা সবাই জানেন। এসব নিয়ে আর কথারও কিছু নেই। মূল ব্যাপার হলো, দল মানসিকভাবে খুব ভালো ও চাঙা আছে। হয়তো মিরপুরের মতো উইকেট ওখানে পাব না, তবু মিল থাকবে কিছু। আর যেটা আমি সবসময়ই বলি, ক্রিকেট ৭০ শতাংশই হলো মনস্তাত্ত্বিক খেলা। মন যদি ভালো থাকে, সবাই যদি খুশি থাকে, ছেলেরা যদি জানে যে আমরা ভালো খেলছি, তাহলে ছোটখাটো অনেক ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়া যায়।

আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ সুপার লিগে শীর্ষ চারে থেকে বিশ্বকাপে যেতে চান ওয়ানডে অধিনায়ক।

সব মিলিয়ে বললে, বিশ্বকাপে আপনার চোখে ফেভারিট দল কোনটি বা কারা কারা?

তামিম: এবার বেশ কটি দল আছে, খুব কনফিউজিং। ২০১৯ বিশ্বকাপে যেমন বলা গেছে যে ইংল্যান্ড ফেভারিট বা ভারত, এবার বলা কঠিন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটা দুর্দান্ত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবসময়ই তারা দারুণ। ম্যাচ জেতানোর মতো ক্রিকেটার অনেক ওদের।

ভারত তো আছেই। সবসময়ই ফেভারিট। ইংল্যান্ড আছে। নিউ জিল্যান্ডকে কখনোই হিসাবের বাইরে রাখা যায় না। পাকিস্তানের এটা ঘরের মাঠ ছির এতদিন, ওরাও ফেভারিট। বড় মঞ্চে অস্ট্রেলিয়াকে গোনায় না ধরা ভুল হবে। এবার তাই অনুমান করা কঠিন।

আইপিএল কতটা দেখেছেন? উইকেট কেমন মনে হয়েছে?

তামিম: খেলা যতটুকু দেখেছি, আমার কাছে নানারকম মনে হয়েছে। কিছু উইকেটে বেশ ঘাস ছিল। সুইং-মুভমেন্ট পাওয়া গেছে শুরুতে। কিছু ছিল নিচু বাউন্সের, স্লো। বিশ্বকাপে কেমন উইকেট হবে, সেটা দেখাটা কৌতূহল জাগানিয়া হবে।

ওয়ানডে অধিনায়কের সঙ্গে আলাপচারিতা ওয়ানডে দিয়ে শেষ হোক। আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ সুপার লিগে বাংলাদেশ এখন আছে দুইয়ে। আরও চারটি সিরিজ আছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকায় সিরিজ আছে। সম্ভাবনা কতটুকু দেখছেন?

তামিম: আমরা ভালো অবস্থানে আছি। তবে পয়েন্ট টেবিল দুই মাসে বা দুই সিরিজে বদলে যেতে পারে। অনেক দলই এখনও খুব বেশি ম্যাচ খেলেনি। অধিনায়ক হিসেবে আমি চাইব, আমরা যেন শীর্ষ চারে থেকে শেষ করতে পারি। সেটা করতে পারলে খুব খুশি হয়ে বিশ্বকাপে যেতে পারব।

আমরা যদি বিশ্বকাপ জিততে চাই তাহলে শীর্ষ চারেই বাছাই শেষ করা উচিত। সেটা করতে পারলে, বড় গলায় বলা যাবে যে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া আমাদের লক্ষ্য। লোকে তখন আমাদের কথার মূল্যও দেবে। কিন্তু সাত-আটে থেকে বিশ্বকাপে গেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা পাত্তা পাবে না।

আমরা এখন ভালো জাযগায় আছি। বাকি কঠিন যে সিরিজগুলোর কথা বললেন, ওসবে ভালো করলে চারের মধ্যে থাকব আশা করি।

বাংলাদেশ পরের ওয়ানডে খেলবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। ৬-৭ মাসের বিরতির পর। ছন্দটা কি নষ্ট হওয়ার শঙ্কা আছে?

তামিম: অবশ্যই, একটা ফরম্যাট অনেক দিন না খেললে একটু কঠিন হয়ই। তবে এটাও বলতে হবে, ওয়ানডে ক্রিকেট আমরা সবচেয়ে ভালো খেলি, দর্শক-সমর্থক-দল, সবারই সবচেয়ে বিশ্বাসের ফরম্যাট। এখানে দল ভালোও করেছে। আশা করি, ফেরার পর দ্রুত ছন্দে ফিরে আসতে পারব।