স্বপ্ন ভাঙা-গড়ার পথ পেরিয়ে বিশ্বকাপে পাপুয়া নিউ গিনি

স্বপ্ন ছোঁয়ার খুব কাছ থেকে বারবার খালি হাতে ফেরার আক্ষেপ পুড়িয়েছে। মনে ভর করেছে হতাশা। তবে সেটাকে পেয়ে বসতে দেয়নি তারা, কাজে লাগিয়েছে প্রেরণা হিসেবে। ঘুরে দাঁড়িয়ে নতুন করে চলার পথে যুগিয়েছে শক্তি। অদম্য মানসিকতার জোরেই শেষ পর্যন্ত বিশ্ব মঞ্চে পা রাখার গৌরব অর্জন করেছে পাপুয়া নিউ গিনি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তো বটেই, আইসিসির বৈশ্বিক কোনো টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো খেলতে যাচ্ছে ওশেনিয়ার দেশটি। ওমানের বিপক্ষে তাদের ম্যাচ দিয়েই রোববার পর্দা উঠবে এবারের টুর্নামেন্টের।

ক্রিকেটের বিশ্ব মঞ্চে প্রথমবার বাজানো হবে তাদের জাতীয় সংগীত। স্বাভাবিকভাবেই গর্বে বুক ভরে উঠবে দলটির ক্রিকেটারদের। তারাই যে মুখ উজ্জ্বল করেছে দেশের। পরিচয় করিয়ে দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটে।

এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না পাপুয়া নিউ গিনির। সবশেষ দুই আসরের বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে কাছে গিয়ে শেষ পর্যন্ত মূল পর্বে জায়গা করে নিতে না পারার ক্ষত এখনও তরতাজা। সেই ভাবনা মাথায় নিয়ে আরও একবার চেষ্টা চালাতে হয়েছে। অবশেষে লক্ষ্য পূরণের হাসি ফুটেছে তাদের মুখে।

ছবি: আইসিসি।

২০১৩ সালের বাছাই পর্বের প্লে-অফে হংকংয়ে বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ভাঙে পাপুয়া নিউ গিনির। হতাশা তাদের সঙ্গী হয় পরের আসরের বাছাই পর্বেও। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জিতলেই সরাসরি বিশ্বকাপে, এমন সমীকরণের ম্যাচে তারা অল্পের জন্য হেরে যায় যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে।

তবে ঠিক ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ২০১৯ সালের বাছাই পর্বে দাপট দেখায় দলটি। গ্রুপ পর্বে তাদের একমাত্র হার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। ৬ ম্যাচে পাঁচ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপের সেরা হয় তারা। সরাসরি জায়গা করে নেয় এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কেনিয়ার বিপক্ষে ১১৮ রানের পুঁজি নিয়ে ৪৫ রানের জয়ে শীর্ষে জায়গা করে নেয় পাপুয়া নিউ গিনি। এরপরও শীর্ষ দল হিসেবে সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অনিশ্চিত ছিল তাদের। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডস ১২.৩ ওভারের মধ্যে জিতে গেলে সরাসরি বিশ্বকাপে চলে যেত ডাচরাই। কিন্তু সেটা তারা না পারায় ইতিহাস গড়ে নিউ গিনি।

লম্বা সফর শেষে দেশকে প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে নেতৃত্ব দিবেন আসাদ ভালা। নিজেকে বেশ ভাগ্যবান মনে হচ্ছে তার। সঙ্গে জানালেন, দলের সবাই মুখিয়ে আছে বিশ্বকাপের আমেজে গা ভাসাতে।

“এটা আমার ও দলের সবার জন্য সত্যিই গর্বের মুহূর্ত। এই পর্যায়ে আসতে অনেক সময় লেগেছে। আমরা অনেকবারই খুব কাছাকাছি এসেছিলাম। এখন নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলা থেকে আমরা দিন দুয়েক দূরে। ছেলেরা রোববারের ম্যাচের জন্য মুখিয়ে আছে। মহামারীর এই সময়, দেশের মানুষের জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমরা তাদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছি।”

ছবি: আইসিসি।

পাপুয়া নিউ গিনির স্কোয়াডের বড় একটি অংশ হানুয়াবাডা গ্রাম ও এর আশপাশের এলাকা থেকে এসেছে। তাই রাজধানী পোর্ট মোরেসবির উপকণ্ঠের এই গ্রামকে দেশটির ক্রিকেটের হৃৎপিন্ড বলা যায়।

গত এক দশক ধরে দলটির সিনিয়র ক্রিকেটারদের গ্রুপটি প্রায় অপরিবর্তিত। এদের অনেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে টিকে আছেন এখনও। বলা যায়, বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার শেষ সুযোগ ছিল তাদের সামনে। দেয়ালে পিঠ থেকে যাওয়া অবস্থায় এই ক্রিকেটাররা খেলেছেন ভয়ডরহীন ক্রিকেট। মিলেছে সাফল্যও।

অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তাদের প্রস্তুতিও বেশ ভালো। সবার আগে ওমান যায় তারা। গত এক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে নিউ গিনির বিশ্বকাপ দল। এই সময়ে ক্রিকেট বিশ্বকাপ সুপার লিগ ২ এর ম্যাচ খেলেছে যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, নেপাল ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। পরে টি-টোয়েন্টি খেলেছে নামিবিয়ান, স্কটল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। যেখানে দুটি ছিল বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ।

সব মিলিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দারুণ অবস্থানে আছে দলটি। প্রাথমিক পর্ব পেরিয়ে সুপার টুয়েলভে জায়গা করে নিতে আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক ভালা।

“সত্যি বলতে, আমাদের নিজেদের ওপর বিশ্বাস আছে। সামর্থ্যের সেরাটা দিয়ে খেলতে চাই। নিজেদের প্রকাশ করতে চাই। ক্রিকেটের সেরা দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের পরীক্ষা করার জন্য আমরা দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে চাই। এই বিশ্বকাপেই আমরা থেমে যেতে চাই না। উন্নতি ধরে রেখে এগিয়ে যেতে চাই। ”

“২০১৯ বিশ্বকাপ বাছাই থেকে আমরা অনেক আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। গত ১৮ মাসে আমরা অনেক ক্রিকেট খেলেছি। অনেক ম্যাচ খেলায় আমাদের জন্য ভালো হয়েছে, বিশেষ করে ওমান ও দুবাইয়ে। এটা আমাদের ভালো অবস্থানে রেখেছে। রোববার, আমরা দুর্দান্তভাবে টুর্নামেন্ট শুরু করার ব্যাপার আত্মবিশ্বাসী।”

প্রাথমিক পর্বে ‘বি’ গ্রুপে নিউ গিনির পরের দুই ম্যাচ স্কটল্যান্ড ও বাংলাদেশের বিপক্ষে। গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল খেলবে সুপার টুয়েলভে।