বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ: আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান স্কটল্যান্ড

ছবি: আইসিসি
ক্রিকেটে ২০১৮ সালে হৃদয় ভাঙে স্কটল্যান্ডের। খুব-খুব কাছে গিয়েও পরের বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয় দেশটি। এরপর কঠিন পথ পেরিয়ে ফিরেছে বিশ্ব মঞ্চে। জায়গা করে নিয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রাথমিক পর্বে। আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান দেশটি সুপার টুয়েলভের স্বপ্ন নিয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, ওমান আর পাপুয়া নিউ গিনির।

১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের সঙ্গেই বিশ্বকাপে অভিষেক হয় স্কটল্যান্ডের। দুই সংস্করণ মিলিয়ে ছয়টি বিশ্ব আসরে খেলা দেশটির জয় কেবল একটি-২০১৬ টি-টোয়ন্টি বিশ্বকাপে হংকংয়ের বিপক্ষে।

বিশ্বকাপে সেটিই সবশেষ ম্যাচ হয়ে আছে স্কটল্যান্ডের। আগামী রোববার ফের বিশ্ব মঞ্চে পা রাখবে তারা। উদ্বোধনী দিনে মুখোমুখি হবে গ্রুপের ফেভারিট বাংলাদেশের।

এই প্রত্যাবর্তনও ভেস্তে যেতে বসেছিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ার দুয়ারে পৌঁছে গিয়েছিল স্কটল্যান্ড। সেখান থেকে ফিরে জায়গা করে নেয় ১৬ দলের মূল টুর্নামেন্ট।

২০১৯ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে হওয়া বাছাইয়ে ৭ দলের গ্রুপে বিস্ময়করভাবে প্রথম ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হেরে যায় স্কটল্যান্ড। পরে হারে নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়ার বিপক্ষেও। কেনিয়া, বারমুডা ও পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে তিন জয়ে চতুর্থ হয়ে কোনোমতে টিকে থাকে স্কটিশরা।

পঞ্চম স্থানের প্লে-অফ সেমি ফাইনালে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে উড়িয়ে নিশ্চিত করে বিশ্বকাপে খেলা। পরে প্লে-অফে ওমানকে হারিয়ে হয় পঞ্চম।

২০১৮ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাই থেকে ছিটকে পড়ার তেতো অভিজ্ঞতা তখনও মনে তরতাজা। তাই যেভাবেই হোক জায়গা করে নিতে পেরেই উছ্বসিত ছিলেন স্কটল্যান্ড অধিনায়ক কাইল কোয়েটজার। বাছাই উতরানোয় ড্রেসিং রুমে করেছিলেন সতীর্থদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা।

“আমরা অর্জন করেছি, যা পেতে চেয়েছিলাম। যা করেছি তার জন্য অবশ্যই আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত। এর আগে আমাদের উল্টো অভিজ্ঞতা হয়েছিল। জানি, এই অনুভূতিটা কেমন। এটা আমাদের প্রাপ্য।”

কোয়েটজার যে হৃদয় ভাঙার কথা বলেছিলেন সেটা ছিল ২০১৯ বিশ্বকাপের বাছাই। তিন জয় আর এক টাইয়ে গ্রুপ পর্ব পার হওয়া দলটি সুপার সিক্সে একটুর জন্য হয় চতুর্থ। তাই বিদায় নেয় একরাশ হতাশা নিয়ে।

চতুর্থ বললে ঠিক বোঝা যায় না, আসলে বিশ্বকাপের কতটা কাছে ছিল স্কটল্যান্ড। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আফগানিস্তানের সঙ্গে তাদের পয়েন্টের পার্থক্য ছিল স্রেফ ১। প্রথম পর্বে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টাই হওয়া ম্যাচ জিতলে হয়ত চিত্রটা অন্যরকম হত।

শেষ নয় এখানেই। সুপার সিক্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে হারে মাত্র ৫ রানে। শেষ দিকে আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে রিচি বেরিংটনের আউটে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান থেকে পিছিয়ে পড়েছিল স্কটল্যান্ড। লেগ স্টাম্পের বাইরে পড়া বলে এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানকে এলবিডব্লিউ দিয়েছিলেন আম্পায়ার। বাছাইয়ে ডিআরএস ছিল না বলে কিছুই করার ছিল না স্কটল্যান্ডের।

ওই ম্যাচে জিতলেই তারা ফাইনালে উঠত ও বিশ্বকাপে জায়গা করে নিত। সেবার না পারলেও পরের বছর বাছাইয়ে ঠিকই লক্ষ্য পূরণ করতে পারে স্কটল্যান্ড। কোয়েটজারের মতে, এটা তাদের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

“বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়াই অনেক বড় ব্যাপার; কিন্তু বিশ্ব মঞ্চে খেলা আমাদের সবার ও দেশের জন্য অনেক বড় সুযোগ।”

পাঁচ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে টুর্নামেন্টে যতটা সম্ভব দূরে যেতে চান কোয়েটজার। ক্রিকেটীয় স্কিলের সঙ্গে আত্মবিশ্বাসও স্কটিশ অধিনায়ককে আশা দেখাচ্ছে।

“ব্যাটিং, বোলিং আর ফিল্ডিংয়ের স্কিল আমাদের বরাবরই আছে। কিন্তু আমার মনে হয়, আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা আত্মবিশ্বাস। দল হিসেবে, দেশ হিসেবে আমরা এখন সত্যিই বিশ্বাস করি, বিশ্ব পর্যায়ে ও বিশ্বকাপে খেলার সামর্থ্য আমাদের আছে। তাই দল হিসেবে আমাদের শক্তির মূল জায়গা আত্মবিশ্বাস।”

আত্মবিশ্বাসী দল করতে পারে যেকোনো কিছু। আপাতত সেদিকেই নজর স্কটল্যান্ডের।