আবেগের ভেলায় এগিয়ে যেতে চান আর্থার

প্রধান কোচ মিকি আর্থারের (বায়ে) সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার পরামর্শক মাহেলা জয়াবর্ধনে। ছবি: আইসিসি।
ম্যাচ পরিস্থিতির পরিষ্কার প্রতিফলন পড়ে মিকি আর্থারের মুখে। তাকে দেখেই অনুমান করে নেওয়া যায় মাঠে কী হচ্ছে। দল ভালো খেললে উচ্ছ্বাস আর খারাপ করলে হতাশা ফুটে উঠে তার শরীরী ভাষায়। মিকি আর্থার জানালেন, তিনি এমনই থাকতে চান। যেকোনো পরিস্থিতিতে পাথরের মতো মুখ করে বসে না থেকে আবেগের ভেলায় চেপে এগিয়ে যেতে চান বহুদূর।

অন্য অনেকের তুলনায় অনেক কম বয়সে কোচিং ক্যারিয়ারে পা রাখা আর্থার শুরুতেই পেয়েছেন দারুণ সাফল্য। কঠিন সময়ের মুখোমুখিও হয়েছেন; সব মিলিয়ে এগিয়ে চলেছেন চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্যে দিয়ে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার ডাগ আউটে তিনি থাকবেন স্বরূপেই।

রোববার শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার দল সরাসরি জায়গা করে নিতে পারেনি সুপার টুয়েলভে। প্রাথমিক পর্ব পাড়ি দিয়ে পরের ধাপে উঠতে হবে লঙ্কানদের। আগামী সোমবার নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আইসিসির সঙ্গে আলাপকালে আর্থার ক্রিকেটের প্রতি তার ভালোবাসার কথা বললেন।

“ক্রিকেটের প্রতি এই প্যাশনটাকে আমি ভালোবাসি। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা উন্মাদনা পছন্দ করি। ভালোবাসি আবেগের স্রোতে ভাসতে।”

“কিছু মানুষের মতে, কোচদের গুরুগম্ভীর হওয়া উচিত আর তারা কেবল (ডাগআউটে) বসে থাকবে। এটা আমার ধরন নয়। আমি এভাবে পারি না। আমি এই যাত্রাটাকে ভালোবাসি।”

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেননি, তবে আর্থারের ঘরোয়া ক্যারিয়ার ছিল সমৃদ্ধ। ১১০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ১৩ সেঞ্চুরিতে রান করেছিলেন ৬ হাজার ৬৫৭। লিস্ট ‘এ’ খেলেছিলেন ১৫০টি, ২ সেঞ্চুরিতে রান ৩ হাজার ৭৭৪।

মাঠের অধ্যায় চুকিয়েই আর্থার নাম লেখান কোচিংয়ে, ২০০৩ সালে ঘরোয়া একটি দল দিয়ে শুরু। দুই বছর পরই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের। নড়বড়ে শুরু হলেও দলকে সাফল্য ঠিকই এনে দেন তিনি।

তার কোচিংয়েই ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্ট সিরিজ জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর সাদা পোশাকের প্রথম সিরিজ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়ায়ও। আর্থারের হাত ধরেই ২০০৭ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা খেলে সেমি-ফাইনাল।

২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পাট চুকিয়ে দায়িত্ব নেন অস্ট্রেলিয়ার কোচের। অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের প্রথম বিদেশি কোচ ছিলেন তিনি। তার সেই অধ্যায় সুখকর হয়নি। ২০১৩ সালে ছাঁটাই করা তাকে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে উঠল সেই প্রসঙ্গও। আর্থার বললেন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট সংস্কৃতি একই ভেবে ভুল করেছিলেন তিনি।

“অস্ট্রেলিয়াকে কোচিং করানো একটু ব্যতিক্রম ছিল। আমি সম্ভবত এই ভেবে ভুল করেছিলাম যে এটা দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে কাজ করার মতোই হবে। আর তা মোটেও তেমন ছিল না।”

২০১৬ সালে পাকিস্তানের দায়িত্ব নেন আর্থার। তার কোচিংয়ে পরের বছর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতে দলটি। তবে ২০১৯ সালে তার সঙ্গে আর চুক্তি বাড়ায়নি পিসিবি।

এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি যোগ দেন শ্রীলঙ্কার কোচ হিসেবে। দীর্ঘ সময় ধরে আছেন উপমহাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে। আছে সাফল্য-ব্যর্থতা। সময়টা বেশ ভালোই উপভোগ করেছেন বলে জানালেন ৫৩ বছর বয়সী আর্থার।

“ক্রিকেটের প্রতি এই উপহাদেশের মানুষের আবেগটা আমার খুব ভালো লাগে। পাকিস্তান ক্রিকেটের সঙ্গে তিনটা বছর ছিল অসাধারণ। কাজ করতে সাংস্কৃতিকভাবে সেখানে অনেক কিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়েছে। ধর্ম তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাই প্রার্থনার সময়ের সঙ্গে অনুশীলন সেশন মানিয়ে নিতে হতো। শ্রীলঙ্কার ছেলেরাও প্রায় একই, স্বীকার করতেই হবে। এই দলের অংশ হতে পারা দারুণ ব্যাপার।”