স্বামীর জন্য রক্ত যোগাড়ের কথা বলে নিয়ে গৃহবধূকে ‘ধর্ষণ’

গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার মনোয়ার হোসেন সজল।
সাতক্ষীরা থেকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একজন রোগীকে রক্ত যোগাড় করে দেওয়ার নাম করে তার স্ত্রীকে মিরপুরে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই অভিযোগে মনোয়ার হোসেন সজল (৪৩) নামে মিরপুরের শ্যাওড়াপাড়ার এক বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তাকে সহযোগিতার অভিযোগে মশনুআরা বেগম ওরফে শিল্পী (৪০) নামে এক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে র‌্যাব-২ এর সহকারী পুলিশ সুপার জাহিদ আহসান জানিয়েছেন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রক্তশূন্যতাসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা নিয়ে এক ব্যক্তি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হন। স্ত্রী তার সাথে আসেন। তারা চিকিৎসার জন্য এবারই প্রথম ঢাকায় এসেছেন।

“ডাক্তারের পরামর্শে ওই দিনই তিনি রক্ত যোগাড় করতে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ব্ল্যাড ব্যাংকে যান। ব্ল্যাড ব্যাংকের সামনে ৩-৪ জনকে দেখে রক্তের প্রয়োজনীয়তার কথা জানালে এক ব্যাক্তি তাকে রক্ত যোগাড় করে দেবে বলে জানায়।

“পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর ওই মহিলাকে রক্ত দেওয়ার নাম করে মিরপুরের মধ্যমনিপুরপাড়ায় মাশনুআরা বেগম শিল্পীর বাসায় নিয়ে সজল ধর্ষণ করে। এই কথা জানালে হত্যার হুমকিও দেয়।”

এরপর হাসপাতালে ফিরে ওই গৃহবধূ ভয়ে এ বিষয়ে চুপ করে যান জানিয়ে এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, “গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর সজল আবার ওই মহিলার মোবাইলে ফোন করলে তার স্বামী ধরে এবং রক্ত যোগাড় হয়েছে বলে সজল জানায়। ফোন পেয়ে রক্ত আনার জন্য বললে ওই মহিলা সজলের ব্যাপারে পুরো ঘটনা স্বামীর কাছে খুলে বলে।

“এরপরেই ওই মহিলা এবং তার স্বামী র‌্যাব-২ অধিনায়কের কাছে পুরো ঘটনা লিখিতভাবে জানালে র‌্যাব তদন্ত করে সত্যতা পায় এবং শুক্রবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করে।”

সহকারী পুলিশ সুপার জাহিদ আহসান জানান, সজল বেকার, শেযারবাজারে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় তাদের নিজেদের বাড়ি রয়েছে। তার মা গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ওই হাসপাতালে ভর্তি আছেন। 

মায়ের কারণে সজলকে হাসপাতালে থাকতে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত মশনুআরা বেগম ওরফে শিল্পী তালাকপ্রাপ্তা। একাই মিরপুরের মধ্যমনিপুরের বাসায় থাকেন। টাকার বিনিময়ে সেখানে ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ ভাড়া দেন।

“এই বাসায় সজল প্রায়ই মেয়ে নিয়ে যেত এবং শিল্পীর সাথে তার অবৈধ সম্পর্ক ছিল বলেও  স্বীকার করেছে।”

ধর্ষিতা নারী একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের নার্স। তার স্বামী একজন কৃষক।