পঞ্চম ধাপে ২৯ পৌরসভায় ভোট রোববার

পঞ্চম ধাপে ২৯ পৌরসভায় ইভিএমে ভোটের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন।

রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট দিয়ে এসব পৌরসভার পৌনে ১৪ লাখ ভোটার মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে তাদের নতুন জনপ্রতিনিধি বেছে নেবেন।

ইতোমধ্যে চার ধাপের পৌর ভোট হয়েছে। এসব ভোটে গোলযোগ-সহিংসতার ঘটনায় খোদ নির্বাচন কমিশনারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে পঞ্চম ধাপের ভোটে ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিশন।

ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার শনিবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি- ফ্রি, ফেয়ার, পার্টিসিপেটারি এবং উৎসবমুখর পরিবেশে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

মেয়র পদে দলীয় প্রতীকের এ ভোটে কয়েকটি দল অংশ নিলেও বরাবরের মতই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীদের মধ্যে।

এ ধাপের ভোটে সহিংসতা-গোলযোগ যেন না হয়, কমিশন সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, আমরা আশা করি, সেই পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।  রিটার্নিং অফিসারদের সাথে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন যে সিচুয়েশন ভালো।  যেহেতু আমরা এবার সব পৌরসভায় আমরা ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করছি, সুতরাং ব্যালট পেপার ছেঁড়াছিঁড়ির কোনো বিষয় নেই।  যার ভোট, শুধু তিনি দিতে পারবেন। ” 

সহিংসতার শঙ্কার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সচিব বলেন, “যেখানেই কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে, সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাঠে আইন-শৃঙ্খলায় দায়িত্বে যারা আছেন, তাদেরকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নির্বাচনে সহিংসতায় মারা যাওয়া অবশ্যই দুঃখজনক। তবে আমরা আশা করছি, আগামী দিনে এ রকম ঘটনা আর ঘটবে না।… আমরা ওয়েট করি, দেখি…।”

সব শেষ ১৫ ফেব্রুয়ারির চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৬৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এর আগে ২৮ ডিসেম্বরের প্রথম ধাপে ৬৫ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ১৬ জানুয়ারির ৬২ শতাং এবং ৩০ জানুয়ারির তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে ৭০ দশমিক ৪২ শতাংশ ভোট পড়ে।

করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যে এ নির্বাচনে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা হয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছে ইসি।

নিরাপত্তা

নির্বাচনী এলাকায় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির বাড়তি সদস্য মাঠে নেমেছেন। আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে নির্বাহী ও বিচারিক হাকিমরাও মাঠে রয়েছেন।

ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, “আমাদের নীতিমালা অনুযায়ী কোথায় কতজন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে, কীভাবে হবে এর একটি গাইডলাইন আছে।  সেটা অনুযায়ী আমরা হোম মিনিস্ট্রিকে বলেছি। সেটা অনুযায়ী উনারা নিয়োগ দিয়েছেন। আমরা আশা করছি নির্বাচন ভালো হবে।”

ভোট তথ্য

ইসির জনসংয্গে পরিচালক যুগ্মসচিব এস এম আসাদুজ্জামান জানান, এ ধাপে নির্বাচনী লড়াইয়ে মেয়র পদে রয়েছেন ১০০ জন প্রার্থী। আর সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৪২ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১২৭০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

২৯ পৌরসভায় ভোটার রয়েছেন ১৩ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৫ জন।

১৯ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপে নির্বাচনের জন্য ৩১ পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করে ইসি। পরে অন্য ধাপ থেকে পঞ্চমে যুক্ত হয় নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভা।

অন্যদিকে উচ্চ আদালতের রায়ের কারণে যশোর পৌরসভার ভোট স্থগিত করা হয়। ভোটগ্রহণের আগ মুহূর্তে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে ইসি।

চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভায় মেয়র ও কাউন্সিলরসহ সব পদে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন। ফলে সব মিলিয়ে ২৯ পৌরসভায় ভোট হবে রোববার।

যেসব পৌরসভায় ভোট

চট্টগ্রামের মীরসরাই, বারইয়ারহাট ও  রাঙ্গুনিয়া; জামালপুর সদর, মাদারগঞ্জ ও ইসলামপুর; রাজশাহীর চারঘাট ও দুর্গাপুর; ভোলা সদর ও চরফ্যাশন; চাঁদপুরের মতলব ও শাহরাস্তি; ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও মহেশপুর;  লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল, হবিগঞ্জ সদর,  বগুড়া সদর, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, যশোরের কেশবপুর, মাদারীপুর সদর, রংপুরের হারাগাছ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, জয়পুরহাট সদর, মাদারীপুরের শিবচর, ময়মনসিংহের নান্দাইলও গাজীপুরের কালীগঞ্জ এবং নীলফামারীর সৈয়দপুর।

চার ধাপে ফল: আ.লীগ ১১৫, বিএনপি ১০, স্বতন্ত্র ৩০

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে এবার ছয় ধাপে পৌরসভা নির্বাচন করছে কমিশন।

প্রথম ধাপের তফসিলের ২৪টি পৌরসভায় ইভিএমে ভোট হয় ২৮ ডিসেম্বর। ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের, তৃতীয় ধাপের ভোট হয় ৩০ জানুয়ারি এবং  চতুর্থ ধাপে ভোটগ্রহন হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি।

সবশেষ চতুর্থ ধাপে আওয়ামী লীগের ৪৬ জন, বিএনপির ১ জন ও ৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মেয়র জয়ী হন। তৃতীয় ধাপে আওয়ামী লীগের ৪৬ জন, বিএনপির তিনজন ও স্বতন্ত্র ১৪ জন মেয়র নির্বাচিত হন।

দ্বিতীয় ধাপে আওয়ামী লীগের ৪৫ জন, বিএনপির চারজন, জাতীয় পার্টির একজন, জাসদের একজন এবং আটজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মেয়র পদে বিজয়ী হন। আর প্রথম ধাপে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীদের মধ্যে ১৮ জন, বিএনপির ধানের শীষের দুই জন এবং তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মেয়র পদে বিজয়ী হন।

২৮ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপের ভোট শেষে ১১ এপ্রিল ষষ্ঠ ধাপে ৯ পৌরসভায় ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

রোববার আরও কিছু উপ নির্বাচন

ইসির জনসংযোগ শাখার কর্মকর্তারা জানান, রোববার ঝিনাইদহের শৈলকুপা, ফরিদপুরের মধুখালী, রাজশাহীর পবা ও কুমিল্লার দেবিদ্বারে চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন হবে। 

এ ছাড়া আগে অনুষ্ঠিত সাতটি পৌরসভায় বন্ধ ঘোষিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে এবং মৃত্যুজনিত কারণে চট্টগ্রাম সিটির ৩১ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে, ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভার ৮ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৮ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ও সিরাজগঞ্জ পৌরসভর ৬ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদেও ভোট হবে এদিন।

এর মধ্যে চট্টগ্রাম সিটির ওই ওয়ার্ড ও শৈলকুপায় ভোট হবে ইভিএমে।