স্বাস্থ্যের নরম সুর, চাইল পুলিশের সহায়তা

ফাইল ছবি
মহামারীকালে চলমান লকডাউনের মধ্যে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে পুলিশের সহায়তা চেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

পাশাপাশি  চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলেই তা দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

লকডাউন বাস্তবায়নে সড়কে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের হয়রানি এবং তা নিয়ে দুই পেশাজীবী সংগঠনের পাল্টাপাল্টি বিবৃতিতে উত্তাপ ছড়ানোর পর বুধবার সুর নরম দেখা যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের।

অধিদপ্তরের বুলেটিনে এনসিডিসির লাইন ডিরেক্টর ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গত এক বছর ধরে কঠিন পরিশ্রম করছেন। এ কারণে তাদের শুভেচ্ছা জানাই।

পাশাপাশি করোনাভাইরাস মহামারীর শুরু থেকেই চিকিৎসক,নার্স, টেকনিশিয়ানসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা সামনের সারির কর্মী হিসেবে যে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাও বলেন তিনি।

ডা. আমিন বলেন, “যে কোনো চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পূর্ণ সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।

“পরিচয়পত্র, যে কোনো ধরনের আইডি কার্ড প্রদর্শনকারী স্বাস্থ্যকর্মীকে সহানুভূতির সঙ্গে সহযোগিতা করা এবং দ্রুত ও বাধাহীন চলাচলের সুবিধা প্রদান করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি নৈতিক দায়িত্ব।”

লকডাউনের সময় কর্মস্থলে পৌঁছতে নানা ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হওয়া এড়াতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিচয়পত্র সব সময় সঙ্গে রাখার আহ্বান জানান ডা. আমিন।

“আপনাদের প্রতি অনুরোধ চলাচলের সময় আপনার দপ্তর থেকে সরবরাহকৃত পরিচয়পত্র বা একটি আইডিকার্ড সাথে রাখার চেষ্টা করবেন। এবং চাহিবামাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রদর্শন করবেন।”

চিকিৎসকদের পুলিশ হয়রানির নিন্দা জানিয়ে সোমবার বিবৃতিতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন বলেছিল, দেশের বেশিরভাগ চিকিৎসক প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সঙ্গে জড়িত। তারা সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন না। ফলে তাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আইডি কার্ড নেই।

মহামারীর রাশ টানতে গত ১৪ এপ্রিল সরকার জনসাধারণের চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পর পুলিশ জরুরি প্রয়োজনে কারও বের হতে মুভমেন্ট পাস দেওয়ার ব্যবস্থা করে।

এরপর ওই মুভমেন্ট পাস দেখার নামে পুলিশ হয়রানি করছে বলে অভিযোগ আসতে থাকে চিকিৎসকদের কাছ থেকে; যদিও জরুরি সেবায় রত চিকিৎসকদের পরিচয়পত্রই তাদের পাস বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এর মধ্যেই রোববার এলিফ্যান্ট রোডে পুলিশের তল্লাশিতে আটকা পড়েন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহযোগী অধ্যাপক। তখন তার সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তার তর্কাতর্কির একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর সোমবার বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতি আসে। দুই পক্ষই পরস্পরকে দোষারোপ করে শাস্তির দাবি জানায়।

বিষয়টি নজরে আসার পর দুই পেশাজীবী সংগঠনের পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেওয়াকে ‘অনভিপ্রেত’ বলে মন্তব্য করে হাই কোর্ট।

আরও পড়ুন:

চিকিৎসক-পুলিশ পাল্টাপাল্টি বিবৃতি  

চিকিৎসক-পুলিশ পাল্টাপাল্টি বিবৃতি অনভিপ্রেত: হাই কোর্ট