মেট্রোরেলের দ্বিতীয় সেট ১৬ জুনের মধ্যে: কাদের

দেশের প্রথম মেট্রোরেলের দ্বিতীয় ট্রেন সেট ১৬ জুনের মধ্যে ঢাকায় এসে পৌঁছাবে বলে আশা করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ইতিমধ্যে দ্বিতীয় সেটের জাহাজীকরণ জাপানের কোবে সমুদ্রবন্দরে বুধবার সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার নিজের সরকারি বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে মেট্রোরেল নির্মাণ কাজের সর্বশেষ অগ্রগতির বিষয়ে কথা বলছিলেন তিনি।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, "প্রথম উড়াল মেট্রোরেলের জন্য ছয় কোচ বিশিষ্ট চব্বিশ সেট মেট্রোট্রেন আনা হবে; যাতে মোট কোচের সংখ্যা ১৪৪টি। তারমধ্যে গতকাল (বুধবার) ছয় কোচের প্রথম ট্রেন সেট ঢাকার উত্তরায় ডিপোর নবনির্মিত ডিএমটিসিএল জেটিতে পৌঁছেছে।

"আশা করা হচ্ছে আগামী ১৬ জুনের মধ্যে দ্বিতীয় সেটটি মোংলা বন্দর হয়ে উত্তরার ডিপোতে পৌঁছাবে।“

প্রথম মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজের সার্বিক অগ্রগতি এখন পর্যন্ত ৬১ দশমিক ৪৯ শতাংশ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রথম পর্যায়ে নির্মাণের জন্য নির্ধারিত উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে আগারগাঁও অংশের পূর্ত কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে ৮৩ দশমিক ৫২ শতাংশ।

ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল সিস্টেম এবং রোলিং স্টক ডিপো ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ কাজের সমন্বিত অগ্রগতি ৫২ দশমিক ২২ শতাংশ বলে জানান তিনি।

বুধবার প্রথম সেটের কোচগুলো মোংলা থেকে নদী পথে দিয়াবাড়ি ডিপোসংলগ্ন জেটিতে পৌঁছায়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এসব কোচ আনলোড করার কাজ শুরু হয়।

জাপানের খ্যাতনামা কাওয়াসাকি হ্যাভি ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি মেট্রোরেলের জন্য মোট ২৪ সেট কোচ তৈরি করছে।

সেখান থেকে প্রথম চালানের ছয়টি কোচ নিয়ে জাহাজ ৪ মার্চ জাপানের কোবে শহর ছাড়ে, ২৯ মার্চ মোংলা বন্দরে পৌঁছায়।

এমআরটি-৬ নামের মেট্রোরেলের উত্তরা থেকে আগারগাঁও ১১ দশমিক ২৯ কিলোমিটার অংশ পর্যন্ত ২০২১ সাল এবং আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার ২০২৩ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

সংবাদ সম্মেলনে দ্বিতীয় মেট্রোট্রেন সেটের জাহাজীকরণ জাপানের কোবে সমুদ্রবন্দরে বুধবার সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের জানান, তৃতীয় ও চতুর্থ মেট্রোট্রেন সেট ১১ জুন জাহাজীকরণ করার সম্ভাব্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৩ আগস্টের মধ্যে মোংলা বন্দর হয়ে উত্তরা ডিপোতে এগুলো পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, "পঞ্চম ট্রেন সেট জাপান থেকে শিপমেন্টের সম্ভাব্য তারিখ ১৬ জুলাই এবং বাংলাদেশে পৌঁছানোর সম্ভাব্য তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর।“

সংবাদ সম্মেলনের পরে মন্ত্রী গোপালগঞ্জ সড়ক জোন, বিআরটিসি ও বিআরটিএ এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় যুক্ত হন।

সভায় তিনি গোপালগঞ্জ জোনের প্রকৌশলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, "টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থলকে কেন্দ্র করে দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানান শ্রেণি পেশার মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে আসা যাওয়া করেন। তাই জোনের অধীন সড়কগুলো সারা বছরই মেইনটেইন এবং মনিটরিং আরও জোরদার করতে হবে।“

বিআরটিএ এর সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, "দ্রুত ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ড সংগ্রহ করে লাইসেন্স প্রদান করা এখন জরুরি। প্রয়োজনে ধাপে ধাপে কার্ডের সরবরাহ করতে হবে।"