যুব কর্মকর্তাদের এক এলাকায় ৫ বছরের বেশি রাখতে মানা

দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় যুব উন্নয়ন কর্মকর্তারা বছরের পর বছর একই পদে চাকরি করছেন। কোথাও ২৪ বছর কোথাও ২০ বছর।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি বলছে, বিশেষ কারণ ছাড়া কেউ যেন পাঁচ বছরের বেশি সময় এক এলাকায় চাকরি করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

গত অগাস্ট মাসে কমিটির বৈঠকে এ আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন কমিটির সদস্য সাবেক ফুটবলার আব্দুস সালাম মুর্শেদী।

ওই বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, সালাম মুর্শেদী খুলনার রূপসা উপজেলার যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার দায়িত্বে একজনের ১৭ বছর ধরে থাকার কথা বলেছিলেন।

ওই বৈঠকে জেলা ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তারা কোন এলাকায় কত দিন চাকরি করছেন, তার তালিকা পরের বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য বলা হয়।

কমিটির বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা গত ২৪ বছর ধরে একই জায়গায় কাজ করছেন।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার কর্মকর্তা ২২ বছর, যশোরের অভয়নগরের কর্মকর্তা ২১ বছর, কিশোরগঞ্জের ইটনার কর্মকর্তা ২০ বছর, নেত্রকোনার বারহাট্টার কর্মকর্তা ২০ বছর ধরে একই কর্মস্থলে রয়েছেন।

বৈঠকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া পাঁচ বছর অন্তর বদলি বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সদস্য ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এর আগের মিটিংয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছিল। তারা জানিয়েছে। কমিটি এখন সুপারিশ করেছে। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।”

এই সুপারিশের কারণ ব্যাখ্যা করে সংসদীয় কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এক কর্মকর্তা এক জায়গায় দীর্ঘদিন চাকরি করলে নানা ধরনের অনিয়মের আশঙ্কা থাকে। তাছাড়া সরকারি কাজে একজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন এক এলাকায় কাজ করাও ঠিক নয়। সেজন্য কমিটি ওই সুপারিশ করেছে।”

এদিকে সংসদীয় কমিটিতে বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশন নিয়েও আলোচনা হয়।

জেলা পর্যায়ে টেনিস কোর্টগুলো সাধারণ খেলোয়ারদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সকল সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

এ বিষয়ে কমিটির সদস্য মাশরাফি বলেন, “প্রত্যেক জেলাতেই টেনিস কোর্ট আছে। কিন্তু সেগুলো সাধারণ খেলোয়াড়রা ব্যবহার করতে পারে না। জেলার বিভিন্ন কর্মকর্তারা সেটি ব্যবহার করেন। নতুন নতুন খোলোয়াড় যাতে উঠে আসতে পারে, সেজন্য টেনিস কোর্টগুলো সাধারণ খেলোয়াড়দের জন্য উন্মুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।”

বৈঠকে মন্ত্রণালয় জানায়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের আর্থিক সহায়তায় দেশের ৬৪ জেলায় বিদ্যমান টেনিস কোর্ট সংস্কার ও অবকাঠামোগুলো আধুনিকায়নের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এরইমধ্যে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অর্থায়নে দেশের ২৫টি জেলার টেনিস কোর্টের সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

শেখ জামালের নামে নামকরণকৃত কমপ্লেক্সে একটি ১৫০ জনের আবাসন ব্যবস্থা, মিলনায়তন, রুফটপ রেস্তোরাঁ, সুইমিংপুল, দ্বি-তল পার্কিং ইত্যাদি সুবিধাসহ বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে।

বৈঠকে ক্রীড়া পরিষদ জানায়, শেখ জামালের নামে ওই কমপ্লেক্স তৈরি হলে আবাসন ও ট্রান্সপোর্টেশন খরচ কমিয়ে আন্তর্জাতিক জুনিয়র ও প্রফেশনাল প্রতিযোগিতা আয়োজন সহজ হবে। বছরব্যাপী বিনা প্রতিবন্ধকতায় টেনিস প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করার জন্য ফেডারেশনের ৮টি টেনিস কোর্টে শেড নির্মাণ করা হলে রোদ, বৃষ্টি, কুয়াশা সকল মৌসুমেই টেনিস খেলা সম্ভব হবে।

প্রস্তাবিত বহুতল ভবনের কক্ষগুলোতে খেলোয়াড়দের আবাসনের ব্যবস্থা করা হলে সেই খরচ দিয়েই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা সম্ভব হবে।

এশিয়ান টেনিস ফেডারেশনের খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, কোচদের প্রশিক্ষণ, রিজিওনাল কোচেস কনফারেন্স আয়োজন, রিজিওনাল মিটিংসহ টেনিসের নানাবিধ ওয়ার্কশপ, সেমিনার ইত্যাদি আয়োজন সম্ভব হবে। জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারী খেলোয়াড়দের আবাসন সংকট নিরসন হবে।

ডেভিস কাপ, ফেড কাপসহ জুনিয়র প্রতিযোগিতাগুলো বাংলাদেশে নিয়মিত আয়োজন করা, জুনিয়র টেনিস ইনিশিয়েটিভ প্রোগ্রামের আওতায় দেশব্যাপী টেনিস প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানায় পরিষদ।

কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, আব্দুস সালাম মুর্শেদী, জুয়েল আরেং, মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং জাকিয়া তাবাসসুম অংশ নেন।