‘টিকা নিয়ে বৈষম্য’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিএমও 
করোনাভাইরাসের টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বিভাজন দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের এক আলোচনায় যোগ দিয়ে এ বিষয়ে ছয় দফা প্রস্তাবও তিনি রেখেছেন বিশ্ব নেতাদের সামনে।

‘জাতিসংঘের সাধারণ এজেন্ডা: সমতা ও অন্তর্ভুক্তির নিশ্চিতে পদক্ষেপ’ শীর্ষক এ আয়োজনে ধারণ করা ভিডিও বক্তব্য দেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের একটি উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

“কোভিড-১৯ মহামারী দরিদ্রতম এবং সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে ফেলেছে। দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং বিভাজন দূর করার ক্ষেত্রে আমাদের কয়েক দশকের অগ্রগতি আবার পেছন দিকে হাঁটছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, কোন দেশ একা এই সঙ্কট মোকাবেলা করতে পারবে না। এ সঙ্কট থেকে উত্তরণে বৈশ্বিক পর্যায়ে সাহসী ও দৃঢ় পদক্ষেপ প্রয়োজন।

“আরো সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়ে তুলতে জাতিসংঘের ৭৫তম ঘোষণাপত্রের প্রতিশ্রুতি পূরণে আমাদের বহুপাক্ষীয় সহযোগিতা প্রয়োজন।”

আর সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ছয় দফা প্রস্তাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রথমত, এই সময়ের সবচেয়ে জরুরি দাবি হচ্ছে, ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করা।”

প্রধানমন্ত্রী তার দ্বিতীয় প্রস্তাবে বলেন, বিশ্বকে এখন একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিতে হবে, যেখাবে বৈষম্যকে সামগ্রিকভাবে মোকাবেলা করার পরিকল্পনা থাকবে।

“দারিদ্র, ক্ষুধা, লিঙ্গ সমতা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো এসডিজির লক্ষ্যগুলোর সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।”

তৃতীয় প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর যে বিশেষ অর্থায়নের প্রয়োজন, তা পূরণের ব্যবস্থা নিতে হবে। এলডিসি এং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোও এর মধ্যে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার চতুর্থ প্রস্তাবে কঠিন এই সময়ে অভিবাসী এবং ভাসমান মানুষের দুর্দশা লাঘবের ওপর জোর দিয়েছেন।

পঞ্চম প্রস্তাবে তিনি বলেন, এই ডিজিটাল যুগে সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ডিজিটাল বিভাজনও দূর করতে হবে।

সবশেষ প্রস্তাবে তিনি বলেন, “আমাদের অবশ্যই নারী এবং মেয়েদের জন্য আরো সুযোগ তৈরি করতে হবে, যাতে তারা সমাজে পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখতে পারে “

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় সমতার প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান এবং সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে সকল নাগরিকের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নীতি ও চেতনার অনুসরণে বাংলাদেশ সরকার এসডিজি বাস্তবায়ন এবং কোভিড সঙ্কট থেকে পুনরুদ্ধারে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে, যাতে কেউ পিছিয়ে না পড়ে।

“আমরা আমাদের সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশকে আমাদের মনোযোগের কেন্দ্রে রেখেছি। এর মধ্যে রয়েছে নারী, অতি দরিদ্র, জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী মানুষ এবং অন্যান্য ঝুঁকিতে থাকা গোষ্ঠী।’