দায়িত্ব ফেইসবুককেও নিতে হবে: আসক

কুমিল্লার কাপড়িয়াপট্টি শ্রী শ্রী চান্দমনি রক্ষাকালী মন্দিরে হামলার পরদিন বৃহস্পতিবারও ভাঙা কাচ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ছবি: মাহমুদ জামান অভি
কুমিল্লায় কোরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে দেশের কয়েকটি স্থানে পূজামণ্ডপে হামলা, সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র-আসক।

এ মানবাধিকার সংগঠন বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে এ ধরনের অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা বন্ধে সরকার ও ধর্মীয় নেতাদের যেমন আরও উদ্যোগী হতে হবে, তেমনি দোষীদের চিহ্নিত করতে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষকেও আরও দায়িত্ব নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে আসকের নির্বাহী পরিচালক গোলাম মনোয়ার কামাল বলেন, একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শহরে উত্তেজনা, মণ্ডপে হামলা ও সংঘর্ষ দেখা দেয়।

“এ ঘটনার জের ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে চাঁদপুরে সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে হামলা হয়েছে।”

কারা এভাবে ‘অরাজকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে’ তার নিরপেক্ষ তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয় আসকের বিবৃতিতে।

সেই সাথে হিন্দু সম্প্রদায় ও পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে এ সংস্থা।

বিবৃতিতে বলা হয়, “সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল পক্ষ থেকে বারবার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণা সত্ত্বেও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এমন একটি ঘটনা অত্যন্ত গর্হিত কাজ।”

যে ‘অপশক্তি’ এ কাজ করছে তারা দেশের ধর্মীয় সংহতি, সংবিধান ও মানবাধিকার সর্বোপরি সরকারের অঙ্গীকারকে ‘চ্যালেঞ্জ ’জানাচ্ছে বলে মনে করছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র।

আসক বলছে, “এমন প্রচারের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষত ফেসবুক কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্ব রয়েছে। তারা কীভাবে এ ধরণের কনটেন্টকে প্রকাশ করার ও ভাইরাল হওয়ার সুয়োগ দিচ্ছে- সে প্রশ্ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।”

এ বিষয়ে দ্রুততার সাথে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কৃর্তপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়া ‘অত্যাবশ্যক’ বলে মনে করে আসক।

অন্যদিকে ধর্মীয় নেতারাও প্রায়ই এসব ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা ‘রাখছেন না’ মন্তব্য করে বিবৃতিতে বলা হয়, “আসক লক্ষ্য করছে, এ ধরনের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৃহত্তর স্বার্থে প্রত্যাশিত ভূমিকা না নিয়ে বরং অনেক সময় তাদের মতামত বা কার্যক্রম উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে তুলছে।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা অপপ্রচারের মাধ্যমে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সন্ত্রাসের আগের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়ায় এ ধরনের ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলেও মনে করে আইন ও সাশিল কেন্দ্র।

এসব ঘটনা ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ‘নিরাপত্তাহীনতা ও ভীতি’ তৈরি করছে মন্তব্য করে বিবৃতিতে বলা হয়, “তাই কুমিল্লা, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ছড়ানোর জন্য দায়ীদের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে চিহ্নিত করে তাদের বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। আসক প্রত্যাশা করছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।”

প্রাসঙ্গিক খবর