নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহানের জামিন

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত
নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশের নামে প্রতারণার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহানের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত।

সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে আইনজীবী শাহীনুল ইসলাম অনির মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি।

অন্যদিকে দুদকের পক্ষ থেকে আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল তার জামিনের বিরোধিতা করেন।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক ২০ হাজার টাকা মুচলেকায় ১১ নভেম্বর পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান পেশকার ফয়েজ আহমেদ।

নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, গত বছর নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এনামুল হক, বুয়েটের প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদের নাম প্রস্তাব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি সার সংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

সেই সংক্ষেপের নথি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করার পর তিনি অধ্যাপক ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নথিটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর প্রস্তুতির পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমার কাছে এলে এম আবদুস সালাম আজাদ অনুমোদন পাননি বলে গোপনীয় তথ্য ফোনে ছাত্রলীগ নেতা তরিকুলকে জানিয়ে দেন।

এরপর ২০২০ সালের ১ মার্চ নথিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কৌশলে বের করে ৪ নং গেটের সামনে আসামি ফরহাদের হাতে তুলে দেন ফাতেমা। এই কাজের জন্য ফাতেমাকে আসামিরা ১০ হাজার করে বিকাশে মোট ২০ হাজার টাকা দেন বলে অভিযোগ আনা হয়।

৩ মার্চ আসামিরা নথিটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠায়। তবে এক পর্যায়ে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। জালিয়াতির ওই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৭ মোহাম্মদ রফিকুল আলম বাদি হয়ে গত ৫ মে মামলা করেন। এ মামলায় পুলিশ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র  দাখিল করে।

অভিযোগ দুদকের এখতিয়ারভুক্ত হওয়ায় পরবর্তীতে কমিশনের উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী ৮ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।