স্কুলে দেখা শেখ রাসেলের গল্প শোনালেন পররাষ্ট্র সচিব

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেল যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের ছাত্র, তখন একই স্কুলে পড়তেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তখনকার রাষ্ট্রপতির ছেলে রাসেলের ‘অন্যদের মত’ সাধারণ চলাফেরার স্মৃতি সোমবার এক অনুষ্ঠানে তিনি তুলে ধরেছেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি শেখ রাসেলের সাথে একই স্কুলে পড়ার সুযোগ পেয়েছি, ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলে, তিনি আমার চেয়ে কয়েক বছরের জুনিয়র ছিলেন।

”ক্ষুদে শিক্ষার্থী হিসাবে তিনি ছিলেন সজীব, মেধাবী ও প্রাণবন্ত। বিরতির সময়ে বন্ধুদের সাথে এমনভাবে ঘুরে বেড়াতেন, কেউ বলতে পারত না তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের ছেলে। এটাই সাধারণভাবে থাকতেন, ছিল না কোনো অতিরিক্ত নিরাপত্তা বা প্রটোকল।”

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘাতকচক্র যখন ১১ বছরের শিশু রাসেলের প্রাণ কেড়ে নেয়, তখন তিনি ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র।

তার জন্ম ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর। এবারই প্রথম তার জন্মদিন সরকারিভাবে শেখ রাসেল দিবস হিসাবে পালন করা হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ।

তিনি বলেন, “একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হিসাবে আমি যেভাবে গর্ববোধ করি, সেভাবে এটা আমাকে গভীরভাবে মর্মাহতও করে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, “শেখ রাসেল দিবসে আমাদের প্রতিজ্ঞা হবে, আমাদের প্রত্যেক শিশুকে সুন্দর জীবনদান করব।

”আমরা চাই, কোনো নিরপরাধ লোক কখনো মারা না যায়, কোনো শিশুর জীবন যেন এভাবে না যায়। একেতো জীবন চলে যাওয়া, তার সাথে জীবনের আনন্দ, আহ্লাদ উপভোগের সুযোগ শেষ হওয়া।”

অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর নজরুল ইসলাম খান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।