রাসেলের জন্মদিনে শিশু হত্যা বন্ধের কথা বলায় ‘প্রত্যাহার' হয়েছিলেন মান্নান

এরশাদ সরকারের আমলে শেখ রাসেলের জন্মদিনে ‘আর যেন কোনও শিশুকে হত্যা করা না হয়’, এমন বক্তব্যের জন্য ওই সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানকে এক দিনের মধ্যে প্রত্যাহার করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল।

সোমবার ‘শেখ রাসেল দিবস ২০২১’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এ মান্নান এ কথা জানান।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ আলোচনা সভা রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৭৪ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া মান্নান বলেন, “১৯৮৮ সালে আমি চট্টগ্রামের ডিসি ছিলাম। ওই বছর শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে পটিয়ার হরনায় শেখ রাসেল স্মৃতি সংঘ নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় যোগ দেই।

“ওই আলোচনায় আমি প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শেখ রাসেলের প্রসঙ্গ বলেছিলাম ‘দেশে আর যেন কোনও শিশুকে হত্যা করা না হয়’।“

পরদিন চট্টগ্রামের স্থানীয় দুই দৈনিক পত্রিকা আজাদী ও পূর্বকোণ এ বক্তব্যকে প্রধান শিরোনাম করে সংবাদ প্রকাশ করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মান্নান বলেন, “এরপর তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মো. মুজিবুল হক আমাকে ফোন করে বলেন, কি মুনশি (ক্লার্ক) তুমি ওখানে কি উল্টা পাল্টা বক্তৃতা কর। তোমাকে তো পাঠানো হয়েছে চাকরি করার জন্য। তুমি তো আর রাজনীতি কর না, আওয়ামী লীগ কর না। তুমি এসব কি বক্তৃতা কর।

রাসেলের মতো ভাগ্য যেন আর কোনো শিশুর না হয়: শেখ হাসিনা  

স্কুলে দেখা শেখ রাসেলের গল্প শোনালেন পররাষ্ট্র সচিব  

এরপর মন্ত্রিপরিষদ সচিব আমাকে বলেন- প্রতাপশালী, সামরিক প্রশাসক, স্বৈর শাসক (এরশাদ) আমাকে ফোন করে বলেছেন, সে বেশি মাতব্বর হয়ে গেছে তাকে তাড়াতাড়ি উঠিয়ে আনেন।

“তিনি (মুজিবুল হক) আমাকে আরও বলেন, যা হবার হয়ে গেছে এখন তুমি তাড়াতাড়ি স্যুটকেস গুছিয়ে ঢাকায় চলে এসো।”

এরপর পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান ঢাকায় এসে তখনকার মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে দেখা করেন। সেসময়ও সচিব বলেন, “তোমার এত কথা বলা ঠিক না। তুমি তো নেতা হয়ে গেছ। তুমি আওয়ামী লীগ কর নাকি?

“তখন আমি বলি না স্যার, আমি তো রাজনীতি করি না। ছাত্রলীগও করি নাই।”

‘তখন মুজিবুল হক বলেছিলেন, সাবধানে থাকবা’, যোগ করেন মন্ত্রী।

মান্নান সরকারি চাকরিকালীন কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর তিনি পদোন্নতি পেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক এবং এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন।

২০০৩ সালে তিনি স্বেচ্ছায় সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেন। পরে রাজনীতিতে নামেন।

পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আইএমইডি সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মো. মামুন-আল-রশিদ, আর্থ সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম ও শিল্প শক্তি বিভাগের সদস্য শরীফা খানসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।