মহাসড়ক বিল সংসদে পাস

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের সময় নতুন রূপে গড়ে তোলা হয়েছে ভাঙ্গার এ গোলচত্বরকে। ঢাকা থেকে সড়কপথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলায় পৌঁছাতেও ভাঙ্গার গোলচত্বর হয়ে যেতে হয়। ছবি: মোস্তাফিজুর রহমান
মহাসড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং টোল আদায়ের ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন আইন করার প্রস্তাব সংসদে পাস হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শনিবার ‘মহাসড়ক বিল-২০২১’ সংসদে পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস।

এর আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠান এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

গত ৪ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে তোলার পর পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়া জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল।

বিলে বলা হয়, এই আইন অমান্য করলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হবে।

১৯২৫ সালের হাইওয়ে অ্যাক্ট রহিত করে মহাসড়ক, নির্মাণ, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং অবাধ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ যান চলাচলের জন্য নতুন এই আইন করা হচ্ছে।

এ আইনের অধীনে গেজেট দিয়ে সরকার বলে দেবে কোন সড়ক বা মহাসড়কে কে প্রবেশ করবে বা কে প্রবেশ করবে না। কোন মহাসড়ককে এক্সপ্রেসওয়ে ঘোষণা করা হবে, পরিচালনা কেমন হবে, কোন সড়কে টোল নেওয়া হবে- সেসব বিষয়ও সরকার ঠিক করে দেবে।

সরকার বা সরকারের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি মহাসড়ক উন্নয়ন, মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণ, মহাসড়ক সংশ্লিষ্ট সুয়ারেজ সিস্টেম, ড্রেন, কালভার্ট, সেতু নির্মাণ ও সংস্কার করবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব থেকে মহাসড়কের সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে মহাসড়ক নেটওয়ার্কের ঝূঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করে সহনশীল টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ করার কথাও বলা হয়েছে বিলে।

এ আইনের আওতায় নাগরিক সেবাপ্রদানকারী সরকারি, বাধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত মাশুল দিয়ে মহাসড়কের প্রান্তসীমা বরাবর ইউটিলিটি সংযোগ নিতে পারবে।

তবে শর্ত থাকবে, মহাসড়কের উন্নয়ন, মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণের সময় প্রয়োজন হলে ওই ইউলিটি সংযোগগুলো সেবা প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিজ খরচে নির্দিষ্ট সময়ে অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে স্থানান্তর করবে।

মহাসড়ক নির্মাণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের সময় এ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি ও মহাসড়ক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করতে হবে তাও বলে দেওয়া হয়েছে।

বিলে মহাসড়ক বা সড়কের স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি, অবৈধ দখল বা প্রবেশমুক্ত রাখার জন্য কী করণীয় হবে এবং সার্ভে করার জন্য কতদূর পর্যন্ত মানুষের বাড়ি পর্যন্ত ঢোকা যাবে, সেসব বিষয়ও এসেছে।

পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, মহাসড়কে ফসল, খড় বা অন্য কোনো পণ্য শুকানো বা অনুরূপ কাজে মহাসড়ক ব্যবহার করা যাবে না। নির্ধারিত জায়গা ছাড়া মহাসড়কে গবাদি পশু চরানো, প্রবেশ করানো, পরাপার করানো যাবে না। নির্ধারিত স্থান ছাড়া পায়ে হেঁটে যাওয়াও যাবে না।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া মহাসড়কে কোন বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, তোরণ বা অনুরূপ কিছু টাঙানো বা স্থাপন করা যাবে না। ধীর গতির বাহনগুলো মহাসড়কের নির্ধারিত লেইন ছাড়া অন্য কোনো লেইন ব্যবহার করতে পারবে না।

মহাসড়কের ক্ষতি হ্রাস, স্থায়িত্ব, সার্বিক নিরাপত্তা ও যানবাহন চলাচলের গতিশীলতা নিশ্চিত করতে ওভারলোড নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয় এসেছে এই বিলে।

প্রতিবন্ধী, শিশু ও বায়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের মহাসড়কে নির্দিষ্ট স্থান ও নিরাপদে ব্যবহারের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।