আখাউড়া-আগরতলা রেল চালুতে জোর প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সংযোগ বাড়াতে আখাউড়া-আগরতলা রেল যোগাযোগ আবার চালুর উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  

মঙ্গলবার সকালে গণভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ অভিমত দেন।

প্রেস সচিব ইহসানুল করিম প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের কানেকটিভিটি বাড়াতে হবে। আখাউড়া আগরতলা রেল যোগাযোগের এখানে সবই আছে- এটাকে কানেক্ট করতে হবে। এই রুটটা পুনরায় চালু করতে হবে।

দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়লে ব্যবসা বাণিজ্য বাড়ার কথাও প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন বলে ইহসানুল করিম জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের কথা স্মরণ করেন. যখন তিনি পরিবারসহ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে কারাবন্দি ছিলেন।

“৬ই ডিসেম্বর যখন ভারত বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এটা- আমাদের জন্য একটা বিশাল বার্তা ছিল।”

কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশকেই সতর্ক থাকার উপর জোর দেন বলে প্রেস সচিব জানান।

ভারতের হাই কমিশনার দোরাইস্বামী বলেন, এটা একটা বিশেষ বছর যখন বাংলাদেশের বিজয় দিবসের উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বাংলাদেশ সফর করবেন। একই বছরে তার এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফর তাৎপর্যপূর্ণ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে।

বাংলাদেশ ভারতের অত্যন্ত প্রিয় দেশ উল্লেখ করে ভারতীয় দূত বলেন, “আমরা চাই দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটা প্রদর্শনী করতে। এখন দুই দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অগ্রগতি হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন ক্ষেত্রে।”

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে ভারতকে চিকিৎসাসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করায় দোরাইস্বামী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।

সাক্ষাতের সময় ভারতের হাই কমিশনার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরল একটি ছবি ও একটি পেনড্রাইভে ভিডিও ক্লিপ, অডিও ক্লিপ তার কন্যার কাছে হস্তান্তর করেন।

প্রধানমন্ত্রীর অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ও মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস উপস্থিত ছিলেন।