সোনার বাংলা গড়ার ‘অগ্রসেনা’ হবে সশস্ত্র বাহিনী, আশা প্রধানমন্ত্রীর

জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়তে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘অগ্রসেনা’ হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২১’ এবং ‘আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২১’-এর গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের এইটুকুই বলব যে, আমার ২০৪১ এর যে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, তার বাস্তবায়নে অগ্রসেনা হিসেবে আপনারা কাজ করে যাবেন আমি আশা করি।

“আর ২০৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার শতবর্ষপূর্তি হবে। সেটাও আমাদের মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে।”

২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে রূপান্তর করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষ্যে একটি ২০ বছর মেয়াদী প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের পাশাপাশি সরকারের এই পরিকল্পনা কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আর পিছিয়ে যাবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ ইনশাল্লাহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা গড়ে তুলব।”

শোষিত, বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন সংগ্রাম এবং আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে তার নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন সরকার প্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, “তিনি চেয়েছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশে আমাদের বাঙালিদের জন্য একটা পেশাদার, প্রশিক্ষিত ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলবেন।”

এ লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা সব সময় চেষ্টা করেছি যে, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন। আজকে আমাদের প্রচেষ্টার ফলে অনেকদূর অগ্রসর হয়েছে।

“২০১৬ সালে বাংলাদেশ পিস বিল্ডিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছি। জাতির পিতার প্রতিরক্ষা নীতিকে যুগোপযোগী করে জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি ২০১৮ প্রণয়ন করেছি। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি।”

সশস্ত্র বাহিনী যেন পিছিয়ে না থাকে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যেন আমাদের সেনাবাহিনী চলতে পারে। তার কারণ হচ্ছে, জাতিসংঘ কর্তৃক যে শান্তিরক্ষী বাহিনীতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী অংশগ্রহণ করে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সাথে তাদের চলতে হয়।

“কাজেই আধুনিক প্রযুক্তি এবং আধুনিক অস্ত্র থেকে শুরু করে সব ধরনের সরঞ্জাম সম্পর্কে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সব সময় প্রশিক্ষিত হবে এবং জ্ঞান লাভ করবে- সেটাই আমার চেষ্টা।”

করোনাভাইরাস মোকাবেলা এবং নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার পাশপাশি দেশের অবকাঠামো এবং আর্থ সামাজিক উন্নয়নে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কাজের প্রশংসা করেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশপাশি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যে কোনো ক্রান্তিলগ্নে সর্ব্বোচ্চ আত্মত্যাগে সদা প্রস্তুত থাকে।”

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির মানদণ্ডে বিশ্বের প্রথম পাঁচটি দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৪১১ বিলিয়ন ডলার। দারিদ্র্যের হার ৪০ ভাগ থেকে ২০ দশমিক ৫ ভাগে নামিয়ে আনা হয়েছে। মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৫৫৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

“আর্থ সামাজিক সব সূচকে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। করোনা মহামারীর সময়ও সকল মেগা প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।… আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আমরা আধুনিক করে গড়ে তুলছি। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি।”

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আজকে আল্লাহর রহমতে সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে বলেই করোনা মহামারী মোকাবেলা করেও আওয়ামী লীগ সরকার আর্থ সামাজিক উন্নয়নের কাজ অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে।”

দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “দেশের মানুষ ব্যবহার করছে ইন্টারনেট এবং মোবাইল টেলিফোন। এবং সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখছে।”