নিরাপদ সড়কের দাবিতে শাহবাগে কফিন মিছিল

নিরাপদ সড়ক এবং সারাদেশে  শিক্ষার্থীদের জন্য 'শর্তহীন হাফ ভাড়া’সহ নয় দফা দাবিতে শাহবাগে কফিন নিয়ে মিছিল করেছে একদল শিক্ষার্থী।

রোববার বেলা পৌনে ১টার দিকে শাহবাগ মোড় থেকে 'সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ' ব্যানারে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। আধা ঘণ্টা পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে এ কর্মসূচি শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে  'আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই', 'বিচার বিচার চাই, সড়ক হত্যার বিচার চাই,' 'জাস্টিস জাস্টিস,  উই ওয়ান্ট জাস্টিস',  'আইন করে হাফপাস, দিতে হবে দিয়ে দাও'- ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

রাজু ভাস্কর্যের সমাবেশ থেকে সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও প্রতিবাদী গানের আসর আয়োজনের কর্মসূচি দেওয়া হয়।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ইনজামুল হক বলেন, “নয় দফা দাবিতে আমরা গত কয়েকদিন যাবৎ আন্দোলন করছি।  নিরাপদ সড়ক ও হাফ পাসের দাবিতে আজকে দেশের ১৮টি জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বরিশালে আমাদের শিক্ষার্থীদের বাধা দেওয়া হয়েছে।

" বৃষ্টির কারণে আজকে আমাদের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করেছি। কিন্তু আমাদের আন্দোলন চলবে। আজকে আমরা রেল মন্ত্রণালয় ও নৌ মন্ত্রণালয়ে হাফ পাসের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করব।"

পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “সড়ক ব্যবস্থায় আলোর পথ দেখানোর জন্য আগামীকাল আমরা শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি পালন করব। পাশাপাশি সেখানে প্রতিবাদী গানের আসর হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”

ইনজামুল হক বলেন, "আমাদের দাবি ও আন্দোলন নিয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। উনাদের এ বিষয়গুলো জাতির সামনে ক্লিয়ার করার অনুরোধ করছি।"

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি হল-

১. বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই বিধান সংবিধানে সংযোজন করতে হবে।

২. নৌপরিবহন মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।

৩. ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবেন না।

৪. বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না।

৫. শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভারব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৬. প্রত্যেক সড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিডব্রেকার দিতে হবে।

৭. সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্রছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।

৮. শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে থামিয়ে তাদের নিতে হবে।

৯. শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য নিঃশর্ত হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

ডিজেলের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ানোর পর পরিবহন মালিকদের চাপে গত ৭ নভেম্বর সরকার বাসের ভাড়া ২৭ শতাংশ বাড়ায়। এর পর থেকেই বাসে অর্ধেক ভাড়া দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা।

এর মধ্যে ২৪ নভেম্বর ঢাকা সিটি করপোরেশনের গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের এক শিক্ষার্থী এবং তারপর রামপুরায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হলে আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়।

এই প্রেক্ষাপটে ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতি গত ৩০ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে ঢাকা মহানগরে শিক্ষার্থীদের ‘হাফ’ ভাড়ার দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন।

এরপর রোববার চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলনে দেশের সব মহানগরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাসে ‘হাফ’ ভাড়া নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

বাস মালিকরা বলছেন, সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বাসে অর্ধেক ভাড়া দিতে পারবে শিক্ষার্থীরা। সেজন্য যার যার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেওয়া ছবিসব পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বা সরকারি ছুটির দিনে অর্ধেক ভাড়া প্রযোজ্য হবে না। মহানগর ছাড়া দেশের অন্য কোনো জেলা বা উপজেলায় কিংবা দূর পাল্লার বাসে হাফ ভাড়া নেওয়া হবে না।

অন্যদিকে শিক্ষার্থদের দাবি, সারা দেশে ২৪ ঘণ্টার জন্য বিনাশর্তে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাসে অর্ধেক ভাড়া নিতে হবে।