শিমু হত্যায় ‘দাম্পত্য কলহের’ কথাই এসেছে জবানবন্দিতে

আদালতের স্বীকারোক্তিতেও ‘দাম্পত্য কলহের’ জেরেই অভিনয় শিল্পী রাইমা ইসলাম শিমুকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বামী নোবেল ও তার বন্ধু ফরহাদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত ঢাকার দুজন বিচারিক হাকিমের আলাদা খাস কামরায় ১৬৪ ধারায় তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেলের স্বীকারোক্তি নেন বিচারিক হাকিম মো. সাইফুল ইসলাম। তার বন্ধু আব্দুল্লাহ ফরহাদের জবানবন্দি নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মিশকাত সুকরানা।

আদালত পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দাম্পত্য কলহের সূত্র ধরেই এ খুনের কথা স্বীকারোক্তিতে এসেছে।”

নোবেল ও ফরহাদ হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আনোয়ারুল কবির বাবুল।

বিচারিক হাকিমদের কাছে তাদের স্বীকারোক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, “পুলিশের কাছে যেরকম কথা বলেছিল, প্রায় সেরকমই হাকিমদের কাছে বর্ণনা দিয়েছেন।”

এর আগে পুলিশ জানিয়েছে, দাম্পত্য কলহের জের ধরে স্ত্রী শিমুকে হত্যার পর রোববার বন্ধু ফরহাদের সহায়তায় বস্তাবন্দি করে কেরানীগঞ্জে ফেলে দেন নোবেল। তবে তাদের দাম্পত্য কলহের কারণ জানা যায়নি।

শিমুর বড় ভাই শহীদুল ইসলাম খোকন হত্যা মামলা দায়েরের পর গত মঙ্গলবার দুই আসামি নোবেল এবং ফরহাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিন করে রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

হত্যাকাণ্ডের জন্য বোনজামাইকে দায়ী করে খোকন দাবি করেন, ‘মাদকাসক্ত’ নোবেলের সঙ্গে শিমুর দাম্পত্য কলহ ছিল।বাসাতেই শিমুকে খুন করে লাশ সরিয়ে নেওয়া হয় নোবেলের গাড়িতে।

মঙ্গলবার পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “রোববার সকাল ৭টা-৮টার দিকে শিমুকে গলাটিপে হত্যা করেন নোবেল। এরপর বন্ধু ফরহাদকে মুঠোফোনে কল করে ডেকে নেন।

“পরে ফরহাদ ও নোবেল পরিকল্পনা করে বাইরে থেকে বস্তা আনেন। শিমুর লাশ লম্বালম্বিভাবে দুটি পাটের বস্তায় ভরে প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে সেলাই করেন।”

এরপর বাড়ির দারোয়ানকে নাশতা আনতে বাইরে পাঠিয়ে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ির পেছনের আসনে শিমুর লাশ নিয়ে বেরিয়ে প্রথমে মিরপুরের দিকে যান বলে পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

“কিন্তু সেখানে লাশ গুমের উপযুক্ত পরিবেশ না পেয়ে তারা আবার বাসায় ফেরেন। সন্ধ্যায় আবার তারা লাশ গুম করতে মোহাম্মদপুর, বছিলা ব্রিজ হয়ে কেরানীগঞ্জের হজরতপুর ইউনিয়নের কদমতলী এলাকায় যান।

“রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা আলীপুর ব্রিজের ৩০০ গজ দূরে সড়কের পাশে ঝোঁপের ভেতর লাশটি ফেলে চলে যান। পরদিন সোমবার কলাবাগান মডেল থানায় স্ত্রী নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন নোবেল।”

স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকার গ্রিনরোড এলাকার বাসায় থাকতেন ৪০ বছর বয়সী শিমু।

আরও পড়ুন

শিমুর স্বামী নোবেল, তার বন্ধু ফরহাদ রিমান্ডে  

শিমু হত্যার পেছনে দাম্পত্য কলহ, স্বামীই ঘাতক: পুলিশ