পদ্মাসেতু পার হতে কোন বাহনে কত টোল

ফাইল ছবি
আসছে জুনের শেষে দক্ষিণ জনপদের স্বপ্নের পদ্মাসেতু ‍খুলে দেওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই যানবাহনের টোলের হার চূড়ান্ত করেছে সরকার।

মোটরসাইকেল নিয়ে পদ্মা সেতু পার হতে চাইলে টোল দিতে হবে ১০০ টাকা। কার ও জিপের জন্য ৭৫০ টাকা আর পিকআপের জন্য ১২০০ টাকা দিতে হবে। মাইক্রোবাসে লাগবে ১৩০০ টাকা।

বাসের জন্য আসনের ভিত্তিতে তিন ধরনের টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। ছোট বাসে (৩১ আসন বা এর কম) ১৪০০ টাকা, মাঝারি বাসে (৩২ আসন বা এর বেশি) ২০০০ টাকা এবং বড় বাসে (৩ এক্সেল) ২৪০০ টাকা টোল দিতে হবে।

পণ্যবাহী বাহনের ক্ষেত্রে ছোট ট্রাক (৫ টন পর্যন্ত) ১৬০০ টাকা, মাঝারি ট্রাক (৫ থেকে ৮ টন) ২১০০ টাকা, মাঝারি ট্রাক (৮ থেকে ১১ টন) ২৮০০ টাকা, ট্রাক (৩ এক্সেল পর্যন্ত) ৫৫০০ টাকা এবং ট্রেইলার (৪ এক্সেল পর্যন্ত) পার হতে ৬০০০ টাকা টোল দিতে হবে।

৪ এক্সেলের বেশি হলে ট্রেইলারে ৬ হাজার টাকার সঙ্গে প্রতি এক্সেলে বাড়তি ১৫০০ টাকা দিতে হবে টোল বাবদ।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক প্রজ্ঞাপনে টোলের এই হার জানিয়ে বলেছে, সেতু খুলে দেওয়ার দিন থেকে এই টোল কার্য্কর হবে।

সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।”

পারাপারের খরচ

বাহন

পদ্মা সেতু

ফেরি

বঙ্গবন্ধু সেতু

মোটর সাইকেল

১০০ টাকা

৭০ টাকা

৫০ টাকা

কার-জিপ

৭৫০ টাকা

৫০০ টাকা

৫৫০ টাকা

পিকআপ

১২০০ টাকা

৮০০ টাকা

৬০০ টাকা

মাইক্রোবাস

১৩০০ টাকা

৮৬০ টাকা

৬০০ টাকা

ছোট বাস (৩১ আসন বা কম)

১৪০০ টাকা

৯৫০ টাকা

৭৫০ টাকা

মাঝারি বাস (৩২ আসনের বেশি

২০০০ টাকা

১৩৫০ টাকা

১০০০ টাকা

বড় বাস (থ্রি এক্সেল)

২৪০০ টাকা

১৫৮০ টাকা

১০০০ টাকা

ছোট ট্রাক (৫ টন পর্যন্ত)

১৬০০ টাকা

৮০০-১০৮০ টাকা

১০০০ টাকা

মাঝারি ট্রাক (৫ টনের বেশি থেকে ৮ টন)

২১০০ টাকা

১৪০০ টাকা

১২৫০ টাকা

মাঝারি ট্রাক (৮ টনের বেশি-১১ টন)

২৮০০ টাকা

১৮৫০ টাকা

১৬০০ টাকা

ট্রেইলার (থ্রি এক্সেল পর্যন্ত)

৫৫০০ টাকা

৩৯৪০ টাকা

২০০০ টাকা

ট্রেইলার (ফোর এক্সেল পর্যন্ত)

৬০০০ টাকা

 

৩০০০ টাকা

ট্রেইলার (ফোর এক্সেলের অধিক)

৬০০০ + প্রতি এক্সেলে ১৫০০ টাকা

 

৩০০০+প্রতি এক্সেলে ১০০০ টাকা

পদ্মা সেতুতে টোল তুলে লাভও করব: অর্থমন্ত্রী  

জুনের শেষেই খুলবে পদ্মা সেতু: কাদের

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯টি জেলার সঙ্গে ঢাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এডিবির ধারণা অনুযায়ী, শুরুর দিকে প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে প্রায় ২৪ হাজার যানবাহন চলাচল করবে।

এখন যেসব যাত্রী বা পণ্যবাহী গাড়ি শিমুলিয়া-বাংলাবাজার এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া হয়ে দক্ষিণের বিভিন্ন গন্তব্যে যায়, সেসব যানবাহন সেতু দিয়ে পদ্মা পার হবে। তাতে আর ফেরি পার হতে হবে না, যাত্রার সময় কমে আসবে।

পদ্মা সেতু চালু হলে পণ্যবাহী যানবাহনের একটা বড় অংশ হবে ভারতের। দেশটির পশ্চিমাংশ থেকে পূর্বাংশে মাল পরিবহন হবে এই পথে।

চার লেইনের এ সেতুর মূল কাজ প্রায় ৯৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। সার্বিক কাজের অগ্রগতি ৯৩ দশমিক ৫০ শতাংশ।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, জুন মাসের শেষ দিকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হবে। প্রধানমন্ত্রীর যেদিন সম্মতি দেবেন, সেই তারিখেই এ সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।