পি কে’র সহযোগী রতনের বিরুদ্ধে মামলা

‘হাজার কোটি টাকা পাচার করে’ পালিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ধরা পড়া পি কে হালদারের সহযোগী রতন কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদ বিবরণী জমা না দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ সংস্থার উপ পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

আসামি রতন কুমার বিশ্বাস ‘কাগুজে’ কোম্পানি আনান কেমিক্যাল লিমিটেডের পরিচালক ও আরবি এন্টারপ্রাইজের মালিক। প্রতিষ্ঠান দুটি পি কে হালদারের সহযোগিতায় ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস থেকে ঋণের নামে শত কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ ও পাচার করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, রতন কুমার বিশ্বাসকে সম্পদ বিবরণী জমা দিতে গত বছরের ৪ এপ্রিল নোটিস দেয় দুদক। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তিনি তা দাখিল করেননি। অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৮২ লাখ ৪৭ হাজার ২৬৪ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় রতন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুদক আইন-২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে গত ১০ মে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের হিসাব জমা না দেওয়ার অভিযোগে আনান কেমিক্যালের পরিচালক পূর্ণিমা রানী হালদার ও রাহমান কেমিক্যাল লিমিটেডের পরিচালক স্বপন কুমার মিস্ত্রির বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

২০১৯ সালে দুদকের তদন্ত শুরুর পর পি কে হালদারের পালিয়ে যাওয়ার খবর মেলে। তখন শোনা গিয়েছিল, তিনি কানাডায় চলে গেছেন।

কিন্তু গত শুক্রবার হঠাৎ করেই খবর আসে, পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের অবৈধ সম্পদের খোঁজে পশ্চিমবঙ্গে অভিযানে নেমেছে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। পরদিন আসে গ্রেপ্তারের খবর।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে নানা আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুলে হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে ইতোমধ্যে ৩৪টি মামলা হয়েছে।