স্বাধীনতা পদক পেলেন ৮ জন

বঙ্গবন্ধুর হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠকারী এমএ হান্নান এবং মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদসহ আট বিশিষ্ট ব্যক্তিকে স্বাধীনতা পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই বেসামরিক পদক বিতরণ করেন। 

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য এবার স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এম এ হান্নান (মরণোত্তর)। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

তার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেন তার ছেলে সৈয়দ মো. ফারুক। 

চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় চট্টগ্রাম জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপার শহীদ মো. শামসুল হককে ও (মরণোত্তর) এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে। তার পক্ষে পদক গ্রহণ করেন তার মেয়ে রায়ান শামস। 

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মো. আবদুল হামিদও এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন।

তার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক গ্রহণ করেন আবদুল হামিদের স্ত্রী রাশিদা হামিদ।

মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৭২ সালের শুরুতে ঢাকার মিরপুর এলাকা মুক্ত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করায় এ পুরস্কার পেয়েছেন ডা. মো. মোশারফ হোসেন। 

ভারতে প্রায় চার হাজার মুক্তিযোদ্ধার কবর চিহ্নিত করে দেহাবশেষ দেশে আনার কার্যক্রমে বিশেষ ভূমিকা রাখায় স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বীরপ্রতীক।আর কৃষি-গবেষণায় ও কৃষির উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য কৃষিবিদ ড. মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ মিয়া এ পুরস্কার পেয়েছেন।

তারা তিনজনেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেন। 

এছাড়া অর্থনীতির ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ভাষা সংগ্রামী, মুক্তিযোদ্ধা ও অর্থনীতিবিদ স্বদেশ রঞ্জন বোস এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য সুরকার, অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্য সাহা মরণোত্তর এ পুরস্কার পেয়েছেন। 

স্বদেশ বোসের স্ত্রী নূর জাহান বোস এবং সত্য সাহার স্ত্রী রমলা সাহা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেন।  

প্রধানমন্ত্রী ১৮ ক্যারেট সোনার ৫০ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক ও সম্মাননাপত্র এবং দুই লাখ টাকার চেক তুলে দেন প্রত্যেকের হাতে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই পদক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা এবং তিন বাহিনীর প্রধান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।  

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত ১৯৪ জন ব্যক্তি ও ২৩টি প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতা পদক পেয়েছে।