নতুন দুয়ার খুললো ‘হ্যালো’

শিশুদের সংগ্রহ করা খবর নিয়ে শিশুদের জন্য চালু হলো বিশেষায়িত ওয়েবসাইট hello.bdnews24.com।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু রোববার রূপসী বাংলা হোটেলে এক অনুষ্ঠানে নতুন এই ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন।

তিনি বলেন, হ্যালোর এই ‘নতুন যাত্রা’ গণমাধ্যমে যুক্ত করল ‘নতুন মাত্রা’; যা রাষ্ট্র, সমাজ ও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।

এই ওয়েবসাইটের জন্য সংবাদ সংগ্রহ থেকে পরিবেশন পর্যন্ত সব কাজেই যুক্ত থাকবে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু ও কিশোর সাংবাদিকরা।

সংবাদভিত্তিক এই ওয়েবসাইটটি পরিচালনা করছে দেশের প্রথম ইন্টারনেট সংবাদপত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। আর এ উদ্যোগে সহযোগিতা দিচ্ছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল -ইউনিসেফ।

ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি প্যাসকেল ভিলনোভ এ উদ্যোগকে অভিহিত করেন ‘নতুন ইতিহাসের সূচনা’ হিসাবে।

এ উদ্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, এ সাইটের মাধ্যমে শিশুরা তাদের বহুদিনের না-বলা কথাগুলো বলবে।

শিশুদের নিয়ে নতুন এই উদ্যোগের অভিযাত্রায় যোগ দেন অধ্যাপক হায়াৎ মামুদ, কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা, প্রকৃতিবিদ দ্বিজেন শর্মা, নাট্যব্যক্তিত্ব খায়রুল আলম সবুজও।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স এডিটর বেবী মওদুদ এবং তথ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

হ্যালোর শিশু সাংবাদিকদের পক্ষে অনুষ্ঠানে নিজেদের কথা তুলে ধরে পূর্বা বিশ্বাস ও আলিফ মো. ইফতিয়াজ নূর নিশান।

অনুষ্ঠানটি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ওয়েসসাইটে সরাসরি দেখানো (ওয়েবকাস্ট) হয়।

২০০৭ সালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমই প্রথমবারের মতো বাংলায় শিশুদের জন্য একটি বিশেষায়িত ওয়েবসাইট চালু করে। অল্প সময়ের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয়তা পায় kidz.bdnews24.com।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কর্তৃপক্ষ বলছে, শিশু-কিশোরদের নিয়ে আয়োজন হলেও এই সংবাদ সেবাকে একেবারে ‘শিশুতোষ’ বলা যাবে না। শিশুরা যাতে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সংবাদ মাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতা ও পেশাদারিত্বের বিষয়গুলো শিখতে পারে, সে চেষ্টা থাকবে পুরো মাত্রায়।

হ্যালোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন তথ্যমন্ত্রী উচ্ছ্বসিত হাসানুল হক ইনু

শিশুদেরকে রাষ্ট্রের ‘হবু মালিক’ অভিহিত করে হাসানুল হক ইনু প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, “১৮ বছর হলেই তারা এদেশের মালিক হবেন। তাই তাদের নীতি নৈতিকতার বিষয়টিতে খেয়াল রাখতে হবে।”

দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ যেখানে শিশু, সেখানে তারা কীভাবে আছে তা তুলে ধরতে উপস্থিত শিশু সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কথা গণমাধ্যমে আরো ভালভাবে তুলে ধরার অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “এরা আপনাদেরই প্রতিনিধি। এদের সুখ দুঃখ বেদনার কথা তুলে ধরা আপনাদেরই দায়িত্ব।”

শিশুদের অবস্থা সমাজ ও রাষ্ট্রকে ‘চোখে আঙুল দিয়ে’ দেখিয়ে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গণমাধ্যমকে ‘গণতন্ত্রের দর্পণ’ অভিহিত করে ইনু বলেন, “এটা পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের এবং গণমাধ্যমকর্মীদের। এটা অপরিষ্কার হলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

বক্তব্য দেয়ার পর ওয়েবসাইটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। তাৎক্ষণিকভাবে হ্যালো সাইটে অনুষ্ঠানের ছবি দেখে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে তিনি বলেন, “এটাই হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, “বাংলা ভাষায় শিশুদের জন্য তৈরি করা জনপ্রিয় সাইট kidz.bdnews24.com চালুর প্রায় ছয় বছর পর পেশাদারি সাংবাদিকতায় তাদের অভিষেকলগ্ন আমাদের জন্য উৎসব।”

এই উদ্যোগের সঙ্গী হওয়ায় ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

প্রধান সম্পাদক বলেন, “বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কেবল বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বে অনেক কিছুই প্রথম করেছে। পেশাদার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার প্রতি নিষ্ঠা এবং নীতির কারণে আমরা এসব ‘প্রথম’ উদ্যোগগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে পেরেছি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কাজের বিভিন্ন দিক ও ধরন অনুষ্ঠানে তুলে ধরে তিনি বলেন, এই অনলাইন সংবাদপত্রটি কাজ করছে অনলাইন ও সনাতন গণমাধ্যমের মাঝে সেতুবন্ধ হিসাবে।

হ্যালোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী

“আমি বিশ্বাস করি, এই কার্যক্রম ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী সেইসব শিশুসাংবাদিকের মধ্য থেকে বিশ্বমানের সাংবাদিক গড়ে তুলবে, আমাদের সহকর্মীরা বাংলাদেশ জুড়ে হাজারো আগ্রহীদের মধ্য থেকে যাদের অনেক পরিশ্রম করে খুঁজে নিয়েছেন।”

শিশুদের জন্য এই ওয়েবসাইটের নাম কেন ‘হ্যালো’ হলো- তার ব্যাখ্যাও অনুষ্ঠানে তুল ধরেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী।  

“আমরা এমন একটি নাম খুঁজছিলাম যা সববয়সী শিশুরা বিনা আয়াসে উচ্চারণ করতে পারবে। পাশাপাশি সেই নাম দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে আরও ভালো। ‘হ্যালো’ শব্দটি দুটি দাবিই মিটিয়েছে।

“আমাদের শিশুকিশোররা, এই সাইটের মাধ্যমে তাদের বহুদিনের না-বলা কথাগুলো বলার সূচনাই তো করবে। আর এর জন্য ‘হ্যালো’র চেয়ে ভালো নাম আর কী হতে পারে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক জানান, সারা দেশ থেকে বাছাই করা শিশু সাংবাদিকদের কাজ শেখার জন্য ‘শিশু অধিকার সনদ’ সামনে রেখে একটি নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। নিজেদের অধিকারের বিষয়ে শিশুদের সচেতন করে তোলার পাশাপাশি মূল ধারার অন্যান্য সংবাদের প্রতিও শিশুদের আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা  এতে থাকবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি প্যাসকেল ভিলনোভ বলেন, “এই প্ল্যাটফর্ম শিশুদের নিজেদের স্পেস তৈরি করতে এবং তাদের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখবে। এই সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলো অন্য গণমাধ্যমগুলোও প্রচার করতে পারবে।

এ উদ্যোগে সহযোগী হওয়ায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ধন্যবাদ জানিয়ে মূলধারার গণমাধ্যম কর্মীদের হ্যালো সাইটটি দেখার আমন্ত্রণ জানান তিনি।

শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যাগুলো প্রতিরোধে ‘হ্যালো’ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন ইউনিসেফ প্রতিনিধি।

শিশু সাংবাদিকদের পক্ষে হ্যালোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ভোলার মেয়ে পূর্বা বিশ্বাস

প্রতিবেদন তৈরির জন্য হ্যালোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসা অতিথিদের সঙ্গে কথা বলছেন দুই ক্ষুদে সাংবাদিক

ভোলা থেকে নির্বাচিত শিশু সাংবাদিক পূর্বা বিশ্বাস বলেন, “সামাজিক, রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আমাদের নিজস্ব ভাবনাগুলো এই সাইটে প্রকাশের মাধ্যমে আমরা নিজেরাও সচেতন হয়ে উঠতে পারব।”

শিশুদের সুবিধা অসুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিনিধিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ‘হ্যালো’ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করে কক্সবাজার থেকে আসা আলিফ মোহাম্মদ ইমতিয়াজ নূর নিশান।

বক্তব্য শেষে শিশু সাংবাদিকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ম্যানুয়াল ‘সাংবাদিকতার সহজ পাঠ’ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হাসানুল হক ইনুর হাতে তুলে দেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী।

এরপর ম্যানুয়ালটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশু সাংবাদিকদের হাতে তুলে দেন মন্ত্রী।

সবশেষে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স এডিটর বেবী মওদুদ সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, “এই উদ্যোগ বাংলা ভাষাভাষী সব শিশুর জন্য একটি সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিল।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশিক্ষিত শিশু সাংবাদিকরা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের তত্ত্বাবধানে মূলধারার গণমাধ্যমে ভূমিকা রাখবে। প্রধানত বাংলায় করা তাদের প্রতিবেদনগুলো বাংলাদেশের সব সংবাদমাধ্যমের কাছে উন্মুক্ত থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনগুলো ইংরেজিতেও অনূদিত হবে।