ষষ্ঠ পর্বের উপজেলা নির্বাচনের প্রচারণা শেষ

ষষ্ঠ পর্বে ১২ উপজেলার ভোট সোমবার। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের শেষ ধাপের সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা শনিবার মধ্য রাতে শেষ হচ্ছে।

শনিবার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনীসহ নিরাপত্তা সদস্যরা। ৫ দিনের জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে টহলে থাকছেন তারা।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী সচিব [নির্বাচন ব্যবস্থাপনা] আশফাকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, রোববার সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে নির্বাচন সামগ্রী।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শেষ ধাপে ১২টি উপজেলায় ১৭৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অনুপস্থিতিতে শেষ চার ধাপের নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ভোট জালিয়াতি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ নিয়ে সমালোচনাও ওঠে। সিইসির উপস্থিতিতে শেষ ধাপের ভোট সুষ্ঠু হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

গত ১৬ এপ্রিল ১৪টি উপজেলায় ভোটগ্রহণের তফসিল দিয়েছিল ইসি। কিন্তু সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও নারায়নগঞ্জ বন্দর উপজেলা নির্বাচন স্থগিত করা হয়। তাই এখন ১২টি উপজেলায় নির্বাচন হচ্ছে। সেগুলো হচ্ছে রংপুর সদর, কাউনিয়া, গঙ্গাচড়া, পীরগাছা উপজেলা, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা, বরগুনার তালতলি উপজেলা, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা, গাজীপুর সদর, টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজলা, ব্রাক্ষণবাড়িয়ার বিজয়নগর, কুমিল্লার আদর্শ সদর ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা।

তবে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাচনের পুনঃতফসিল দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেখানে নির্বাচন হবে আগামী ১৯ জুন। এদিন ময়মনসিংহ তারাকান্দা উপজেলাতেও উপনির্বাচন হবে। এ উপজেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৩ জন প্রার্থী।

গত পাঁচ পর্বে দেশের ৪৮৭ উপজেলার মধ্যে ৪৫৯টিতে নির্বাচন হয়। এতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ২৩৪ জন, বিএনপি সমর্থিত ১৬২ জন প্রার্থী বিজয়ী হন। এছাড়া জামায়াতের ৩৫, জাতীয় পার্টি ৩, জেএসএস ৮, ইউপিডিএফ ৪, এলডিপির ১ এবং নির্দলীয় ও অন্যান্য ১২ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রার্থী, ভোটকেন্দ্র ও ভোটার

শেষ ধাপে ১২টি উপজেলায় ভোটযুদ্ধে অংশ নেবেন ১৭৯ জন প্রার্থী। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৬১ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬৯ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৯ জন। এসব উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৭২৪টি। ভোট কক্ষের সংখ্যা ৪ হাজার ৭৬৭টি। অস্থায়ী কেন্দ্র থাকবে ৩৮১টি। ১২টি উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৯০১ জন এবং নারী ভোটার ৮ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫৫ জন।

প্রচার-প্রচারণা বন্ধ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটের ৩২ ঘণ্টার আগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচারণা বন্ধের বিধান রয়েছে। এ হিসাবে শেষ ধাপের ভোটের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় শনিবার মধ্যরাতেই বন্ধ হচ্ছে মিছিল-মিটিংসহ সব ধরণের প্রচার-প্রচারণা।

ইসি সচিবালয়ের সহকারী সচিব আশফাকুর রহমান জানান, নির্বাচনের ৩২ ঘণ্টা আগ থেকে সব প্রচার-প্রচারণা বন্ধ থাকবে। তা অব্যাহত থাকবে নির্বাচনের পর ৬৪ ঘণ্টা পর্যন্ত। কেউ আইনভঙ্গ করলে কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করা হতে পারে। প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতাও ইসির রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

সেনাবাহিনী নির্বাচনের আগে ও পরে মিলিয়ে পাঁচদিন নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকছে তারা। প্রতি উপজেলায় ১ প্লাটুন করে সেনাবাহিনীর সদস্য টহল দেবে।

এছাড়া মোবাইল ফোর্স হিসেবে পর্যাপ্ত পরিমাণ র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকছে। প্রতি কেন্দ্রে একজন পুলিশ (অস্ত্রসহ), অঙ্গীভূত আনসার একজন (অস্ত্রসহ), অঙ্গীভূত আনসার ১০ জন (মহিলা-৪, পুরুষ-৬ জন) এবং আনসার একজন (লাঠিসহ) ও গ্রামপুলিশ একজন করে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকছে।