সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস ইসির

প্রথম পর্বের পরের চার পর্বে সহিংসতা ও গোলযোগের মাত্রা বেশি থাকলেও সোমবার ১২ উপজেলায় ষষ্ঠ পর্বের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশ্বস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন।

শেরে বাংলা নগরের ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ১২ উপজেলার সাতশ’রও বেশি কেন্দ্রে এবং নির্বাচনী এলাকায় ২০ হাজারেরও বেশি আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম পর্ব প্রায় গোলযোগহীন হলেও তার পরের তিন পর্বে সহিংসতা ধারাবাহিকভাবে বাড়ে। চতুর্থ ধাপ পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংসতায় সারাদেশে নিহত হন সাতজন। পঞ্চম পর্বে গোলযোগ-সহিংসতা না থাকলেও অনিয়মের অভিযোগ ছিল বেশি।

রোববার বিকালে  সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমি আশ্বস্ত করছি, শেষ ধাপের এ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে। এজন্যে সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি আমরা।”

সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট চলবে।

সচিব জানান, ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনী সরঞ্জামাদিও সংশ্লিষ্ট এলাকায় পৌঁছে গেছে। নির্বাচন কমিশন থেকে সার্বক্ষণিক পযবেক্ষণ করা হবে।

তিনি বলেন, “এবার উপজেলার পরিমাণ কম। এ কারণে প্রতি উপজেলায় বেশি সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য নিয়োজিত করেছি। এর আগের নির্বাচনগুলোতে ৩ থেকে ৪ জন পুলিশ মোতায়েন করা হত।কিন্তু এবার যে কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ না, সেখানেও ৯-১০ জন পুলিশ থাকবে।”

গত ১৬ এপ্রিল ১৪টি উপজেলার তফসিল ঘোষণা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ। সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করা হয়।

ষষ্ঠ ধাপে ১২টি উপজেলায় ১৭৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৬১ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬৯ এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ফাইল ছবি

যে ১২টি উপজেলায় ভোট হচ্ছে সেগুলো হলো- রংপুর সদর, কাউনিয়া, গঙ্গাচড়া, পীরগাছা উপজেলা, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা, বরগুনার তালতলি উপজেলা, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা, গাজীপুর সদর, টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, কুমিল্লার আদর্শ সদর ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা।

এছাড়া ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপ নির্বাচনও হবে। এতে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

গত পাঁচ পর্বে দেশের ৪৮৭ উপজেলার মধ্যে ৪৫৯টিতে নির্বাচন হয়। এতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ২৩৪ জন, বিএনপি সমর্থিত ১৬২ জন প্রার্থী বিজয়ী হন। এছাড়া জামায়াতের ৩৫, জাতীয় পার্টি ৩, জেএসএস ৮, ইউপিডিএফ ৪, এলডিপির ১ এবং নির্দলীয় ও অন্যান্য ১২ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম পর্বের ভোটে তেমন কোনো গোলযোগ না হলেও পরবর্তী চার ধাপে সহিংসতা ও গোলযোগ হয়। এসময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদও দেশের বাইরে থাকায় এনিয়ে বেশ সমালোচনার মুখে পড়তে হয় ইসিকে।

প্রথম পর্বে ৬২ দশমিক ৪৪ শতাংশ, দ্বিতীয় পর্বে ৬৩ দশমিক ৩১ শতাংশ, তৃতীয় পর্বে ৬৩ দশমিক ৫২ শতাংশ, চতুর্থ পর্বে ৫৬ দশমিক ১২ শতাংশ ও পঞ্চম পর্বে ৬০ দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট পড়ে।