সোমবার ভোটগ্রহণ চলাকালে একই কারণে জামতৈল মডেল সরকারি দক্ষিণ ও উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে সাতটি ব্যালট বই জব্দ করা হয়। এ কারণে কেন্দ্র দুটিতে ২০ মিনিট ভোট গ্রহণ স্থগিতও রাখা হয়।
আটককৃতরা হলেন জামতৈল দক্ষিণপাড়ার আব্দুল আলিমের ছেলে ফয়সাল আহমদ নাইম, ভদ্রঘাট কুটির চর গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে জয় সরকার ও একই গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে সাব্বির আহমদ।
জামতৈল মডেল দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, সকাল পৌনে ১১টার দিকে কর্তব্যরত পুলিশের সহায়তায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বেশ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দুটি মহিলা বুথে ঢুকে জোরপূর্বক ব্যালট বই নিয়ে সিল দিচ্ছিলেন।
এ সময় তিনি চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের তিনটি পদের জাল সিল যুক্ত ছয়টি ব্যালট বই জব্দ করেন। সংবাদ পেয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসার শফিকুল ইসলামও ঘটনাস্থলে আসেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কেন্দ্রে কোনো ঝামেলা হয়নি। জাল সিল দেয়ার সময় আমি সেখানে ছিলাম না।”
কর্তব্যরত উপ-পরিদর্শক নাজমুল আলম টুটুল বলেন, জাল সিল দেয়ার বিষয়টি কেন্দ্রে দায়িত্বরত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার তাকে অবগত করেননি।
পাশের জামতৈল মডেল উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, সহকারী রিটার্নিং অফিসার কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে জাল সিল দেয়ার অভিযোগে চেয়ারম্যান পদের একটি ব্যালট বই জব্দ করেন।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ইশরাত ফারজানা জানান, জাল সিল দেয়ার অভিযোগে ব্যবহৃত সাতটি ব্যালট বই জব্দ করা হয়েছে। এ কারণে পাশাপাশি অবস্থিত জামতৈল মডেল উত্তর সরকারি প্রাথমিক ও দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০ মিনিট ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখা হয়।
এছাড়াও দুপুর ১২টার দিকে ভদ্রঘাট কুটিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে পুলিশ আরো দুজনকে আটক করেছে বলে জানান তিনি।