অনন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সিলেটে হরতাল আহ্বান

ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বুধবার সিলেটে আধাবেলা হরতাল ডেকেছে গণজাগরণ মঞ্চ।

মঙ্গলবার সকালে তাকে হত্যা করার পরপরই সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাৎক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র দেবাশীষ দেবু।

“এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সিলেটে কাল (বুধবার) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল পালিত হবে,” বলেন তিনি।

লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাসের মাথায় সিলেটে খুন হলেন ব্লগার অনন্ত। অভিজিৎ পরিচালিত মুক্তমনায় বিজয়ও লিখতেন। ২০০৬ সালে তিনি মুক্তমনা র‌্যাশনালিস্ট অ্যাওয়ার্ড পান।

৩০ বছর বয়সী অনন্ত ছিলেন সিলেটে গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক। অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকায় হত্যাকাণ্ডের শিকার ফেইসবুক অ্যাকটিভিস্ট ওয়াশিকুর রহমান বাবুও গণজাগরণের সমর্থক ছিলেন।

অনন্ত হত্যার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকালে শাহবাগে বিক্ষোভ মিছিল করবে গণজাগরণমঞ্চ। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, সরকারের ব্যর্থতার কারণেই একের পর এক ব্লগার হত্যাকাণ্ড ঘটছে।  

মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার এক বিবৃতিতে বলেন, “এই খুনের ঘটনায় প্রমাণিত হয়, সরকার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সম্পূর্ণ উদাসীন ও ব্যর্থ। সরকারের ব্যর্থতার কারণেই একের পর এক মুক্তচিন্তকদের উপর এই আঘাতের ঘটনাগুলো ঘটছে।”

লেখালেখির কারণে হুমকির মুখে থাকা অভিজিৎকে ধর্মীয় উগ্রবাদীরাই হত্যা করেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ওয়াশিকুর হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার দুজনও ধর্মীয় উগ্রবাদী সংগঠন দ্বারা প্ররোচিত বলে পুলিশ জানিয়েছে।     

গণজাগরণ আন্দোলন শুরুর পর ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার খুন হন। তখন হামলার শিকার হয়েছিলেন আরেক ব্লগার আসিফ মহীউদ্দীনও। প্রতিটি ঘটনায়ই মূল সন্দেহ জঙ্গিদের।

অনন্ত বিজয় দাশ

মঙ্গলবার সকালে সিলেটের সুবিদবাজার এলাকায় যেভাবে অনন্তকে হত্যা করা হয়, ঠিক একইভাবে গত ৩০ মার্চ ঢাকার বেগুনবাড়িতে ওয়াশিকুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছিল।

এরপরও আন্দোলনে অবিচল ইমরান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সর্বশেষ মানুষটি যতদিন জীবিত আছে, ততদিন গণজাগরণ মঞ্চের এ লড়াই চলবে।

“শোককে শক্তিতে পরিণত করে গণজাগরণ মঞ্চ তার লড়াই চালিয়ে যাবে এই মৌলবাদী অপশক্তি ও তার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে।”