ডিপিএসসহ ব্যাংক আমানতে বকেয়ায় বিলম্ব ফি মওকুফ

কোভিড-১৯ মহামারীর ক্ষতি পুষিয়ে দিতে ছোট-বড় ব্যবসায়ী, কৃষক থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের মানুষদের কম সুদে ঋণ এককালীন নগদ টাকাসহ নানা ধরনের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার পর এবার ব্যাংক আমানতকারীদের দিকে তাকিয়েছে সরকার।

সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকে কোনো আমানতকারী গত এপ্রিল-মে মাসে ডিপিএস বা অন্য কোনো সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা নির্ধারিত সময়ে জমা দিতে না পারলেও তার কাছ থেকে কোনো বিলম্ব ফি নেওয়া যাবে না। কিস্তি পরিশোধ না করার কারণে তা বন্ধ বা বাতিলও করা যাবে না।

এপ্রিল ও মে মাসের নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধের জন্য আগামী ২০ জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কারও থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিলে তা ফেরত দিতে বলা হয়েছে।

সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশনা দেয় সরকার। এই সময়ে সীমিত সময়ের জন্য ব্যাংক খোলা থাকলেও জরুরি কাজ ছাড়া কাউকে না যেতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ফলে অনেক আমানতকারীর পক্ষে তাদের ডিপোজিট পেনশন স্কিম (ডিপিএস) ও বিভিন্ন সঞ্চয়ী আমানতের কিস্তি নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলেই এই পদক্ষেপ বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি এই মহামারীকালে দেশের নিম্ন আয়ের ও শ্রমজীবী মানুষ যেমন জীবিকা হারিয়েছে, তেমনি মধ্যবিত্ত পরিবারও পড়েছে আর্থিক সঙ্কটে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই সঙ্কটে দেশের ৭৪ শতাংশ পরিবারের আয় কমে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে সব শেণি-পেশার মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সঙ্কটের সময় ঋণ গ্রহীতাদের নানা সুবিধা দেওয়া হলেও আমানতকারীদের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

“এর প্রধান কারণ ছিল এ ধরনের নির্দেশনা আগে থেকে দিলে সুযোগ ও সামর্থ্য থাকা ব্যক্তিও টাকা জমা দিতেন না। তাতে ব্যাংকগুলো তহবিল সঙ্কটে পড়ত। যে কারণে সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর এখন এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”