গ্রামেও যাচ্ছে এটিএম ও পিওএস

ব্যাংক ছাড়াও যে কোনো প্রতিষ্ঠান গ্রামাঞ্চলে এটিএম বুথ এবং পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) মেশিন স্থাপন করতে পারবে।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নগদ অর্থ লেনদেন সহজ করতে ব্যাংকগুলোর বাইরে ‘থার্ড পাটি’ বা বেসরকারি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লাইসেন্স নিয়ে এই সেবা দিতে পারবে।

এটিএম সেবা দিতে লাইসেন্স পেতে হলে কোনো কোম্পানির ৪৫ কোটি টাকা মূলধন থাকতে হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুকুলে ১০ কোটি টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে। আর পিওএস সেবা দিতে ১০ কোটি মুলধন ও ১০ কোটি টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোমবার এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগ থেকে জারি করা ওই নীতিমালায় বলা হয়েছে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে এখন থেকে ব্যাংক বহির্ভূত যে কোনো প্রতিষ্ঠান গ্রামে অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) স্থাপন করতে পারবে। যেখান থেকে টাকা উত্তোলন-জমা এবং পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) মেশিনে সেবামূল্য পরিশোধের সুবিধা পাওয়া যাবে।

হোয়াইট লেবেল এটিএম অ্যান্ড মার্চেন্ট অ্যাকুয়ারিং সার্ভিসের (ডব্লিউএলএএমএ) মাধ্যমে বেসরকারি উদ্যোগে এ সেবা দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত ডব্লিউএলএএমএ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও পরিশোধ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা এ সুবিধা পাবেন।

ডব্লিউএলএএমএ হচ্ছে, একটি এটিএম ও পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) সেবাদান প্রক্রিয়া।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মেজবাউল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই এ সুবিধা আছে। বাংলাদেশে ছিল না। গ্রামাঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

“এর ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের যে সব জায়গায় কোনো ব্যাংকের এটিএম বুথ ও পয়েন্ট অব সেলস মেশিনে লেনদেন করা যেত না, সেসব জায়গা থেকে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের আওতায় এখন থেকে লেনদেন করা ও টাকা তোলা যাবে।”

ফাইল ছবি

মেজবাউল বলেন, যে সব প্রতিষ্ঠান এই সেবা দেবে তাদের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর একটা চুক্তি থাকবে। এক বুথ থেকেই অনেক ব্যাংকের টাকা তোলা ও জমা দেওয়াসহ অন্যান্য সেবা পাওয়া যাবে।

“দেশে এখন পযর্ন্ত শুধু ব্যাংকগুলোই এটিএম বুথ স্থাপন করতে পারে। এর ফলে শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে এই সেবা। এখন আলাদা লাইসেন্স নিয়ে ব্যাংকের বাইরে অন্য কোম্পানিও এটিএম বুথ স্থাপন করতে পারবে। শুধু এটিএম বুথ নয়, আলাদা লাইসেন্স নিয়ে পিওএস মেশিনও বসানো যাবে। আর এসব সেবার বেশিরভাগই যাবে গ্রামে।”

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের সঙ্গে এসব বুথ ও পিওএসের সংযোগ থাকবে। ফলে যে কোন ব্যাংকের গ্রাহকেরা মাশুল দিয়ে এই সেবা ব্যবহার করতে পারবে। শুধু ব্যাংক নয়, মোবাইলে আথিক সেবা দাতা (এমএফএস), পেমেন্ট সাভিস প্রোভাইডারদের (পিএসপি) গ্রাহকেরাও এসব সেবা ব্যবহার করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এর ফলে এটিএম ও পিওএস সেবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে। এতে নগদ টাকার ব্যবহার কমে আসবে। আর ব্যাংকগুলো কার্ড সেবার দিকে আগের চেয়ে বেশি ঝুঁকবে।

গ্রাহকরা এই সেবার মাধ্যমে টাকা উত্তোলন, জমাদান, ব্যালেন্স অনুসন্ধান, ফান্ড ট্রান্সফার এবং বিল পেমেন্ট করতে পারবেন।