কাজ বুঝে নিল ঢাকা অঞ্চলের কারখানা পরিদর্শক দল

শিল্প-কারখানার নিরাপত্তা পরিস্থিতির মাঠের চিত্র পর্যবেক্ষণের কাজ বুঝে নিয়েছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর অঞ্চলে পরিদর্শনকারী দলগুলো।

মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে বিডা কার্যালয়ে ২৭টি পরিদর্শনকারী দলের ২৫১ জন সদস্যের উপস্থিতিতে এসওপি ও চেকলিস্ট সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেয় বিডা এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, দেশের শিল্প-কলকারখানায় বিভিন্ন সময় অগ্নিকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে গত ১৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে কলকারখানাগুলোর অবকাঠামোগত এবং অগ্নি-দুর্ঘটনা ও অন্যান্য-দুর্ঘটনা নিরোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ২৪ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়।

“বিডার নেতৃত্বে বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে অতিদ্রুত সময়ের মাধ্যমে তিনটি উপ কমিটি তৈরি এবং এর মাধ্যমে চেক লিস্ট তৈরিসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যার ফলে আমরা কলকারখানা পরিদর্শন করে, আমাদের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে সমাধান বের করতে পারব।”

মাত্র তিন মাসের মধ্যে ৪৬ হাজার কারখানা পরিদর্শন শুরুর প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

বিডার নির্বাহী চেয়াম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘খুবই স্বল্প সময়ে’ বিডার নির্বাহী সদস্য অভিজিৎ চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে একটি কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি গঠন ও অগ্রাধিকার ভিত্তিক কলকারখানার তালিকা তৈরি করা হয়।

পোশাক শিল্প ও রপ্তানিমুখী শিল্পের বাইরে বিভিন্ন খাতের প্রায় ৪৬,০০০ শিল্প কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে পরিদর্শনের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার কারখানা পরিদর্শনের লক্ষ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার জন্য মোট ২৭টি পরিদর্শন দল গঠন করা হয়েছে।

সিরাজুল বলেন, “এ ২৭টি পরিদর্শন টিমকে তাদের কাজের প্রকৃতি, কার্যপদ্ধতি ও সামগ্রিকভাবে করণীয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে আজকের এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। পরবর্তীতে আরও ৮১টি টিম গঠন করা হবে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে এ ধরণের প্রশিক্ষণের আয়োজন করে টিমের সদস্যদেরকে তাদের দায়িত্ব ও কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে।”

এ পরিদর্শন কার্যক্রম কোনোভাবেই ‘অভিযান নয়’ জানিয়ে কারখানা মালিকদের উদ্দেশে বিডি চেয়ারম্যান বলেন, “যে কোনো কাজ শুরুর আগে মাঠের চিত্র জানা থাকা প্রয়োজন। এর অংশ হিসেবে মাঠের চিত্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এটাকে কোনোভাবেই অভিযান মনে করা যাবেনা। এখানে কারও ভয় পাওয়ার কিছু নেই “

শ্রম সচিব এহছানে এলাহী বলেন, “আমরা সবাই কাজ করছি। কিন্তু সমন্বয়হীনতার কারণে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছি না। তাই দেশের স্বার্থে আমাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের কাজের মাধ্যমে কেউ যেন বিরক্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।, কলকারখানার মালিকদের বুঝাতে হবে আমরা ফ্যাক্টরি বন্ধ করতে আসি নাই, আমরা ফ্যাক্টরিগুলোর বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে এসেছি।”

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসীম উদ্দিন বলেন, “কোনো ভবনের নকশা অনুমোদনের সঙ্গে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকে। কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটলে শুধু মালিক পক্ষকে দায়ী করা হয়। দুর্ঘটনা তদন্তে বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু আস্তে আস্তে কমিটিগুলোর কার্যক্রম দেখা যায় না। তাই সমস্যারও সমাধান হয় না “

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিডার নির্বাহী সদস্য অভিজিৎ চৌধুরী কমিটির সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মোকাব্বির হোসেন, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক নাছির উদ্দিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।