ভার্চুয়াল বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে ২৭১ বিদেশি কোম্পানি

ব্যবসা, বিনিয়োগ ও শিল্পায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে সাত দিনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্মেলন শুরু হয়েছে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ আয়োজনে এই ভার্চুয়াল সম্মেলনে অংশ নিতে ৩৭টি দেশের ২৭১টি কোম্পানি নিবন্ধন করেছে বলে আয়োজকরা জানান। 

মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সম্মেলনটির পর্দা ওঠে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এই আয়োজন ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আয়োজকরা জানান, উদ্বোধন ছাড়া সম্মেলনের বাকি আসরগুলো হবে পুরো ভার্চুয়াল। এতে অংশ নিতে দেশি-বিদেশি ৫৫২টি কোম্পানি নিবন্ধন করেছে। এর মধ্যে দেশি কোম্পানি ২৮১টি। সম্মেলনে মোট ৪৫০টি বিজনেস টু বিজনেস বৈঠক হবে।

উদ্বোধনী পর্বে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, ডিসিসিআইয়ের সভাপতি রিজওয়ান রহমান।

সালমান এফ রহমান বলেন, গত ১১ বছরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে। ৫ হাজার মেগাওয়াট গত এক দশকে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে ২১ হাজার মেগাওয়াট হয়েছে। জিডিপিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেকেছে এই উৎপাদন। সরকারের কর্মকাণ্ডে ডিজিটাইজেশনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। আইসিটিভিত্তিক রপ্তানি বাজারও এখানে তৈরি হয়েছে।

এই দেশে বিনিয়োগে নানান সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের আরেকটি সুবিধা হচ্ছে সুলভ শ্রমবাজার। বিদ্যুৎ, পানি, শ্রমিকের বেতন ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় বিবেচনায় ‘কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস’ বা ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে কম। এদেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশই বয়সে তরুণ। তাছাড়া বাংলাদেশ হচ্ছে একই সঙ্গে চীন ও ভারতের বাজারের প্রবেশদ্বার। সম্প্রতি চীনেও ৯৭ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা চালু হয়েছে। বিশ্বের ৩৮টি দেশে জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ যার মধ্যে ২৮টিই রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত।

“আমি এটা নিশ্চিত করতে চাই যে, বিদেশি বিনিয়োগকারী ও উৎপাদনকারীরা সব সময় এখানে সরকারি সহায়তা পবেন। বাংলাদেশ এখন অন্যরকম একটি রাষ্ট্র। বাংলাদেশ এখন অনেক বেশি ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের এখন আর কোনো সঙ্কোচ নেই। মহামারীপরবর্তী পরিস্থিতি বাংলাদেশে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আসবে বলেই আমার বিশ্বাস।”

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা, ক্ষুদ্র অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা, রপ্তানি বাণিজ্য ও বিদেশি বিনিয়োগে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময় দেশে পরিচিত হয়ে উঠছে। বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোড মডেল হিসাবে বিবেচিত।

“পর্যাপ্ত শ্রমিক, জনঘনত্বের সুফল, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রযুক্তিগত উন্নতি, নতুন বিনিয়োগে নানা ধরনের প্রণোদনা দেশ-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় লক্ষ্যে পরিণত করেছে।”

ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনায় ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল, আইটি খাতের জন্য ২৮টি হাইটেক পার্ক, ওষুধ শিল্পের জন্য এপিআই পার্ক, বড় বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ও ১০টি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।

“বাংলাদেশ শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ, নির্বিঘ্নে রয়ালিটি প্রত্যাহারের সুযোগ, কর অবকাশ সুবিধা এবং প্রণোদনার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য এক উদার পরিবেশ তৈরি করেছে।”

আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশ ব্যবসা, বিনিয়োগ ও শিল্পায়নে যে উন্নতি করেছে তা অংশগ্রহণকারীদের জানানো এই সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য। অবকাঠমো (ফিজিক্যাল, লজিস্টিক অ্যান্ড এনার্জি), তথ্যপ্রযুক্তি এবং ফিনটেক, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, অটোমোটিভ অ্যান্ড লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, প্লাস্টিক পণ্য, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য, পাট ও বস্ত্র, খুচরা ব্যবসা খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও করণীয় তুলে ধরা হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ.কে আব্দুল মোমেন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছে। হাইটেক পার্ক থেকে শুরু করে, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে, যা বিনিয়োগকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। এই পরিস্থিতিতে যারই এখানে বিনিয়োগ করবেন আকর্ষনীয় প্রফিট মার্জিন অর্জন করতে পারবেন। তাই আমি সবাইকে বিনিয়োগের আহ্বান জানাই।

সাতদিন ব্যাপী এই সম্মেলনে এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন, এপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান মঞ্জুর এলাহী, একেখান গ্রুপের পরিচালক ও ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান, ডব্লিউটিও’র বোর্ড মেম্বার তৌফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মশিউর রহমান, ঢাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলি আলহামদি, পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান প্লামি ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল হক, সৌদি ইন্‌টারন্যাশনাল এক্সপোর্ট কোম্পানির সিইও সোলাইমান আল জাদাই, লাল তীর সিডসের পরিচালক তিজওয়ার এম আওয়াল, ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি, এমসিসিআইয়ের সভাপতি ব্যরিস্টার নিহাদ কবির, প্রযুক্তিবিদ সোনিয়া বশির কবির, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গির আলম, প্রাণ আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমানসহ অন্যান্য দেশ বিদেশি অতিথিরা বিভিন্ন সেশনে বক্তব্য রাখবেন।