৫৪ দেশকে নিয়ে ঢাকায় বসছে বিনিয়োগ সম্মেলন

মহামারীর ঢেউ পেরিয়ে দেশের অগ্রগতি বিশ্বের সামনে তুলে ধরার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় বসছে দুই দিনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন।

রোববার গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হোটেল র‌্যাডিসনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ- বিডা আয়োজিত এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম।

সম্মেলনে ৫৪টি দেশের প্রতিনিধিরা যোগ দিচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সালমান রহমান জানান, সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য গত এক দশকে ব্যবসা বাণিজ্যের বিভিন্ন সূচকে অগ্রগতি হওয়া নতুন বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা।

“সম্প্রতি আমরা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রোড শো বিনিয়োগ সম্মেলন করতে গিয়ে যে বিষয়টি উপলব্ধি করেছি সেটা হচ্ছে- বিশ্ব এখনও বাংলাদেশেকে বন্যা আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ হিসাবেই বেশি চেনে।

“কিন্তু এখানে ব্যবসা ও বিনিয়োগের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে সে বিষয়ে খুব একটা প্রচারণা হয়নি। তাই এ ধরনের বিনিয়োগ সম্মেলন যত বেশি করা যাবে, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বিনিয়োগের জন্য ততই মঙ্গলজনক হবে।”

বিডা চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশ সরাসরি এবং আরেকটি অংশ ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অংশ নেবেন।

তিনি বলেন,“সম্মেলনের সময়ে সারাবিশ্বে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু এখন ইউরোপে নতুন একটি ভ্যারিয়েন্ট বা ধরন ধরা পড়েছে।”

গত মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনাভাইরাসের নতুন এ ধরনটি প্রথম শনাক্ত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর নাম দিয়েছে ‘ওমিক্রন’।

এরই মধ্যে বতসোয়ানা, বেলজিয়াম, হংকং এবং ইসরায়েলেও শনাক্ত হয়েছে এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট। বিশ্বব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘ওমিক্রনকে’ বলছে ‘ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন’ বা ‘উদ্বেগজনক ধরন’।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো বাংলাদেশও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

বিনিয়োগ সম্মেলনে যোগ দিতে ইতোমধ্যে দুই হাজার ৫৭৪ জন নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি ২,১০৯ জন আর বিদেশি রয়েছেন ৪৬৫ জন।

বিডা চেয়ারম্যান বলেন, “বিনিয়োগ পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য এবারের সম্মেলনে ১১টি সেক্টরকে টার্গেট করা হয়েছে। এর বাইরে কোনো সেক্টর নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা আগ্রহ দেখালে তাদের স্বাগত জানাব আমরা।”

সম্মেলনে ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড লজিস্টিকস, পুঁজিবাজার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, চামড়া  ও চামড়াজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য উৎপাদন, স্বাস্থ্য ও ওষুধশিল্প নিয়ে আলোচনা হবে।

তিনি জানান, এবারের সম্মেলনে সৌদি আরব থেকে একটি সরকারি প্রতিনিধি দল যোগাযোগ খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ নিয়ে যোগ দেবে। তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি দল আসবে।

এছাড়া ভারত, চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনামের বাণিজ্যিক প্রতিনিধিরা ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে যোগ দেবেন। আন্তর্জাতিক ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি সিঙ্গারের প্রধানও সম্মেলনে ভার্চুয়াল যোগ দেবেন।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতি বহির্বিশ্বে খুব একটা জানা নেই। এই সম্মেলনের মাধ্যমে সাম্প্রতিক অগ্রগতিগুলো তুলে ধরা হবে।”