রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম কমেছে কাগজে

রাজধানীতে রান্নায় ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কমলেও তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার বেঁধে দেওয়া সর্বোচ্চ খুচরা দামে কোথাও মিলছে না; ডিসেম্বরের নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়তি দিয়েই কিনতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

শুক্রবার ঢাকার বেশ কয়েকজন পরিবেশক দাবি করেছেন, তারা এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারে প্রায় ১০০ টাকা দাম কমিয়েছেন।

এরপরও যে দামে তারা বিক্রি করার কথা বলছেন, তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশি।

পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগ যাদের নেই, সেসব বাসা-বাড়ি ও রেস্তোরাঁয় সিলিন্ডারই ভরসা।  আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে বিইআরসি এখন প্রতি মাসে এলপিজির দাম ঠিক করে দেয়।

টানা পাঁচ মাস দাম বাড়ার পর গত বৃহস্পতিবার দাম কমানোর সুখবর দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। প্রতি কেজি এলপিজির দাম সাত টাকা ১০ পয়সা বা ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমিয়ে ভ্যাটসহ ১০২ টাকা ৩২ পয়সায় বেঁধে দেওয়া হয়, যা শুক্রবার সকাল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।

নতুন হার অনুযায়ী ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম আগের মাসের চেয়ে ৮৫ টাকা কমে ১২২৮ টাকায় নামার কথা; কিন্তু গ্রাহকদের এর চেয়ে বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে।

বিইআরসি নির্ধারিত দরে জুন মাসেও ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ৮৪২ টাকা।  তখনও বাজারে এই দর কার্যকর হয়নি। 

এলপিজির দাম কমল পাঁচ মাস পর  

বাগেরহাট শহরের বাসিন্দা এসএম রাজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজই (শুক্রবার) ওমেরা কোম্পানির ১২ কেজির সিলিন্ডার ১২৫০ টাকায় কিনেছি। গত মাসে (নভেম্বরে) ১৩০০ টাকায় কিনেছিলাম।”

ঢাকার মিরপুর ৬০ ফুট সড়কে হান্ডি রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক জানান, তারা শুক্রবার বসুন্ধরার ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার কিনেছেন ১৩৫০ টাকায়।

নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের চেয়েও বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির কথা পরিবশেকরা অপকটেই স্বীকার করেছেন। তাদের কারও কারও কাছে বাড়তি দাম নেওয়ার পক্ষে নিজস্ব ব্যাখ্যাও আছে।

মিরপুরের মনিপুর এলাকার পরিবেশক জাহিদ হোসেন জানান, তিনি টোটাল গ্যাসের সিলিন্ডার ১৩০০ টাকায় এবং বিএম এনার্জিরটা ১২০০ টাকায় বিক্রি করছেন।

বাড়তি দামে বিক্রির কারণ জানতে চাইলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, টোটাল গ্যাসের সিলিন্ডার কিনে দোকানে আনতে তার খরচ পড়েছে ১১৯০ টাকা। গ্রাহকের বাসায় বা দোকানে পুনস্থাপন করতে গিয়ে শ্রমিকের মজুরি বাবদ তার আরও কিছু টাকা খরচ হয়। সব মিলে টোটাল গাসের সিলিন্ডারে তাকে ১০০ টাকা লাভ ধরতে হচ্ছে।

তবে বিএম এনার্জি মাস শেষে বিক্রির ওপর ‘বিশেষ প্রণোদনা’ দেওয়ায় সেটা কম দামে দেওয়া যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

আগারগাঁও বিএনপি বাজারে নাভানা এলপিজির ডিলার জামাল হোসেন জানান, ১২ কেজির সিলিন্ডার তিনি ১২৫০ টাকায় বিক্রি করছেন (সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১২২৮ টাকা)।

প্রতি সিলিন্ডারে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত দামের চেয়ে অন্তত ২২ টাকা বেশি নিলেও এই বাজারে ‘সবচেয়ে কম দামে’ বিক্রির দাবি করেন এ পরিবেশক।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ডিসেম্বরে এলপিজির দাম কমবে বলে কোম্পানি আগেই জানিয়ে দিয়েছিল। ঘোষণা আসার দুদিন আগে থেকেই তিনি কমিয়ে বিক্রি করা শুরু করেন।

এ বাজারের আরেক দোকানি হাবিব উল্লাহ জানান, তিনি ইউনিগ্যাসের সিলিন্ডার ১২৫০ টাকা ও বসুন্ধরার সিলিন্ডার ১৩০০ টাকায় বিক্রি করছেন।

বেশি দামে বিক্রি করেও সিলিন্ডারপ্রতি ‘৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা’ লোকসান হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

টানা পঞ্চম মাসে দাম বাড়ল এলপিজির  

এলপিজির দাম: দ্বিতীয় দফা শুনানিতেও খুলছে না ‘জট’  

বাগেরহাট শহরের খান জাহান আলী সড়কের ওমেরা ও অরিয়ন এলপিজির ডিস্ট্রিবিউটর আব্দুল্লাহ ট্রেডার্সের পরিচালক শেখ মজনুর রহমান বলেন, দাম কমার পর এখন ১২৫০ টাকা করে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি করছেন তারা। এ মাসে এরচেয়ে দাম কমানো সম্ভব নয়।

তবে উত্তরের জেলা নওগাঁর দেওয়ান পেট্রোল পাম্পের মালিক দেওয়ান জোবায়ের আহমেদের দাবি, তার কাছে বসুন্ধরার ১২ কেজির সিলিন্ডার ১২০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, ওমেরা মিলছে ১১৭০ টাকায়।

এখানকার খুচরা বিক্রেতা সুমন বলেন, চলতি মাসে বসুন্ধরার সিলিন্ডার ১২২০ টাকা থেকে ১২৫০ টাকায় এবং যমুনার সিলিন্ডার ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এলপিজির দাম নিয়ে টোটাল গ্যাস কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক সবুর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

এলপিজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যবসায়ী আজম জে চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলতে কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নওগাঁ প্রতিনিধি সাদেকুল ইসলাম ও বাগেরহাট প্রতিনিধি অলীপ ঘটক।]