বাণিজ্য বাড়াবে, কর্মীও নিতে চায় সার্বিয়া

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি ‘পেশাদার কর্মী’ নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ সার্বিয়া।

বুধবার রাজধানীর ফরেইন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আগ্রহের কথা জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোলা সেলাকোভিচ।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মোমেন বলেন, “আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য খুব কম। কীভাবে এটা বাড়ানো যায় সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।”

“তারা বলেছেন, আমাদের দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াবেন। আমরাও বাড়াতে চাই।”

সার্বিয়ান মন্ত্রী সেলাকোভিচ বলেন, “উভয়পক্ষ ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে রাজি হয়েছে। দুই দেশের চেম্বার অব কমার্সের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে আমরা একমত হয়েছি।”

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ছাড়াও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

“আমরা বিদেশি বিনিয়োগে নিরাপত্তা এবং দ্বৈত কর পরিহার নিয়ে আলাপ করেছি। এগুলো নিয়ে এমওইউ (সমঝোতা স্মারক) তৈরি করব, যাতে আমরা কাজ করতে পারি।”

এসময় বাংলাদেশের বিশাল জনশক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দেশটি অবদান রাখতে চায় বলে জানান, সার্বিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেলাকোভিচ।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জনশক্তির সম্ভাবনা অনেক। আমরা চাই, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা সার্বিয়ার বৃত্তি নিয়ে পড়তে যাক। ৫০ দেশের বেশি শিক্ষার্থী সার্বিয়ায় পড়তে আসে। আমরা চাই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা আসুক।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, “তারা আমাদের লেবার ফোর্স নিয়ে খুশি। তাদের যেসব কোম্পানি আমাদের লেবার নিয়োগ করেছে, তাদের সার্ভিস নিয়ে তারা সন্তুষ্ট।”

“তারা মনে করে, আমাদের এখান থেকে আরও কর্মী যাবার সুযোগ রয়েছে। তারা ডাক্তার, প্রকৌশলী, নার্স ও ইংরেজি শিক্ষক নিতে চায়।”

বৈঠক শেষে কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের ভিসাবিহীন যাতায়াত এবং নিয়মিত ফরেইন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) বিষয়ে দুটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ ও সার্বিয়া।

নিয়মিত এফওসি আয়োজনের প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, “আমরা রাজনৈতিক কনসালটেশন করব ঠিক করেছি। আগামীতে আমরা বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলাপ করব।”

“যেভাবে আমরা ভারতের সঙ্গে জেসিসি (জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশন) করি, ওই ধরনের সার্বিয়ার সঙ্গেও করতে চাই।”

পারস্পরিক স্বার্থ নিয়েও আলাপ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে আমরা একসঙ্গে কাজ করি এবং নতুন নতুন কয়েকটি ক্ষেত্রে আমরা একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছি।

“যেমন-আমরা মানবাধিকার কমিশনের সদস্য হতে চাই। তারা সেখানে আমাদের সহায়তা করবে।”