সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত ভিসিরাই ‘সমস্যার উৎস’: আনু মুহাম্মদ

সরকারের ‘নিয়োগ দেওয়া’ উপাচার্যরাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমস্যার ‘মূল উৎস’ বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

তিনি বলেছেন, “শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সমস্যা, সেই সমস্যার উৎস বিশ্ববিদ্যালয়ে না, এ সমস্যার উৎস হল সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত ভিসি।”

শুক্রবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর সংহতি সমাবেশে এ কথা বলেন আনু মুহাম্মদ।

সমাবেশ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলার বিচার এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

শাবি উপাচার্যকে উদ্দেশ্য করে আনু মুহাম্মদ বলেন, “আপনার সম্মানবোধ যদি থাকে নিজের মধ্যে, তাহলে অন্যকে সন্মান করতে শিখুন এবং পদত্যাগ করলে আপনার সন্মানটা থাকবে।

“আপনি যত ক্ষমতা টিকিয়ে রাখবেন, যতক্ষণ ঐ চেয়ারে বসে থাকবেন তত আপনার সম্মানহানি ঘটবে।”

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের ছাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে গত ১৩ জানুয়ারি রাত থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

পরদিন পুলিশের লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেডে অন্তত অর্ধশত আহত হন। সে ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলারপর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করলে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি তোলেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্বিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগে সরকারের সমালোচনা করে সংহতি সমাবেশে আনু মুহাম্মদ বলেন, “সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যরাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমস্যার মূল উৎস।

“বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়, যারা সরকারের অনুগত হতে পারে তারাই আজ  ওই পদের (উপাচার্য) জন্য যোগ্য হয়ে থাকে। উপাচার্য নিয়োগে কোনো মেধা বা যোগ্যতার যাচাই করা হয় না।

“যে সরকারের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পারবে তাকেই নিয়োগ দেওয়া হয়। শাবিপ্রবিতে চলমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের প্রতি উপাচার্যের আচরণের মাধ্যমে সেই বিষয়টিই পরিলক্ষিত হয়।”

অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের অবস্থা দেখে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরাও বার্তা নেবেন, এমন আশা প্রকাশ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন আনু মুহাম্মদ।

তিনি বলেন, “একটা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবসময় প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে থাকে। যারা দেশের ন্যায় অন্যায় নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন, তারা দেশের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত থাকেন।

“আর সেসবকিছুর চর্চা হয়ে থাকে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। অথচ আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে আগত প্রথম বর্ষেই শিক্ষার্থীদের মেরুদণ্ডহীন করে দেওয়া হয়। আজ যখন শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলনে রত তাদের উপরে নিপীড়ন শুরু করা হচ্ছে।”

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ইকবাল কবিরের সভাপতিত্বে এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা রিতু, সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আইনুন্নাহার সিদ্দিকা জুঁথি, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. হারুনুর রশিদ, ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সুনয়ন চাকমা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন প্রিন্স, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি অনিক রায়, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সহ-সভাপতি সায়েদুল হক নিশান।

শাবিপ্রবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি সাবেক শিক্ষার্থীদের

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনশনরত শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে তারা এই দাবি জানান।

সমাবেশে শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী জামশেদুল আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের প্রতি অনশনে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষার আহ্বান জানান।

“মহামান্য আচার্য, অনশনরত ২৪ জন শিক্ষার্থীদের জীবন বাঁচান। উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনকে অপসারণ করে সেখানে একজন যোগ্য ব্যক্তিকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিন।”

গত বুধবার থেকে অনশন শুরু করে শাবিপ্রববি শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন, উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। অনশনের তৃতীয় দিনে ১২ জন অসুস্থ হলে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সমাবেশে সাবেক শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে নানা ধরনের স্লোগান দেন।

‘যেই ভিসি ছাত্র মারে সেই ভিসি চাই না’, ‘শিক্ষার্থী দিলো ফুল বিনিময়ে গুলি কেন?’, ‘বর্তমান সাবেক এক হও শাবিপ্রবি বাঁচাও’ ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন সাবেক শিক্ষার্থীরা।

পরে তারা রাজু ভাস্কর্য থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মিশুক-মনির চত্ত্বর, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দোয়েল চত্ত্বর এবং বাংলা একাডেমি হয়ে আবারও রাজু ভাস্কর্যে আসেন।

আরও পড়ুন