শাবির আন্দোলন ‘বিতর্কিত’ করার ‘চেষ্টা চলছে’: ছাত্র অধিকার পরিষদ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে 'দমিয়ে রাখতে' নানাভাবে 'বিতর্কিত' করার 'চেষ্টা চলছে' বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে এসব অভিযোগ জানায় সংগঠনটি।

মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে লাগাতার এ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা জানান, শাবিপ্রবি উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে গত বুধবার অনশন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার তাদের এ কর্মসূচি সপ্তম দিনে গড়িয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ ক’জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে বিন ইয়ামিন বলেন, “আন্দোলনকারীদের মধ্যে এপর্যন্ত ১৬ জন অসুস্থ; কিন্তু তার পরও সরকারের টনক নড়ছে না। আমরা তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে এখানে অবস্থান করছি, যাতে তারা নিজেদের একা মনে না করেন।"

শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, "আমরা লক্ষ্য করছি, তাদের যৌক্তিক আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে এসে এ আন্দোলনকে সরকার নানাভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।

"শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অর্থ সংগ্রহের জন্য যে মোবাইল ব্যাংকিং চালু করেছিল, সেটাও সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। স্বাস্থ্যসেবাও বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।"

ঢাবি শিক্ষক সমিতির বিবৃতির বিষয়ে ইয়ামিন মোল্লা বলেন, “আমরা হতাশ হয়ে যাই- যখন শিক্ষক সমিতি থেকে বলা হয় যে, এই আন্দোলন থেকে তৃতীয় পক্ষ ফায়দা হাসিল করার চেষ্টা করছে।

"অথচ এই শিক্ষকদের উচিৎ ছিল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হওয়ার পরপরই তাদের পাশে দাঁড়ানো, প্রতিবাদ করা এবং এই সমস্যার সমাধান করা।"

অবস্থান কর্মসূচিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানান ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসাইন।

"শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করে আসছে, তাতে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনোরকম ইতিবাচক বার্তা না পাওয়াতে আমরা বাধ্য হয়ে তাদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এখানে বসেছি।

“আমরা মনে করি যে, এই ভিসির অপসারণ হওয়ার আগ পর্যন্ত এবং শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলা করা হয়েছে সে হামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের এই অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকবে।"

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘অসদাচরণের’ অভিযোগ তুলে গত ১৩ জানুয়ারি রাতে আন্দোলনে নামেন ওই হলের কয়েকশ শিক্ষার্থী।

এ সময় তারা হলের প্রাধ্যক্ষ ও সহকারী প্রাধ্যক্ষদের পদত্যাগসহ হলের যাবতীয় অব্যবস্থাপনা দূর করে সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত এবং ছাত্রীবান্ধব ও দায়িত্বশীল প্রাধ্যক্ষ কমিটি নিয়োগের দাবি জানায়।

১৫ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘প্রশাসনের উপস্থিতিতে’ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে যোগ দেন।

পরদিন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। ওইদিন বিকালে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েনের প্রতিবাদ করলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেয় পুলিশ।

ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে লাঠিপেটা করে এবং কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এতে শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাসহ অন্তত অর্ধশত আহত হন।

উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে ১৭ জানুয়ারি দুপুরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিলেও তা উপেক্ষা করে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবি তোলেন।

ওই ঘটনায় পুলিশ ‘গুলি বর্ষণ ও হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিটের অভিযোগে’ বিশ্ববিদ্যালয়ের অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ৩০০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করে।

পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে অনশন শুরু করে।

আরও পড়ুন

শাবির ৫ প্রাক্তনি গ্রেপ্তার আন্দোলনকারীদের ‘টাকা দেওয়ায়’  

অসত্য তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, অভিযোগ শাবি শিক্ষার্থীদের  

শাবি শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি, ঢাবিতে শিক্ষক নেটওয়ার্কের 'প্রতীকী অনশন'  

শাবির আন্দোলনে ‘প্রভাব আছে কি না’ দেখতে বললেন শিক্ষামন্ত্রী  

আরও পড়ুন