ঢাবির হলগুলোতে ‘শিক্ষার্থীবান্ধব’ নেতৃত্ব চায় ছাত্রলীগ

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সম্মেলনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ‘শিক্ষার্থীবান্ধব’ নেতৃত্ব নিয়ে আসতে চায় ছাত্রলীগ।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সমন্বিত বার্ষিক হল সম্মেলন উপলক্ষে শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলেনে এ কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস।

তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতের অধিকার আদায়ে কাজ করবে, ক্যান্টিনে খাবারের মান উন্নয়ন ও গণরুম ব্যবস্থা উচ্ছেদ করে ‘জাদুঘরে পাঠাবে’ এমন কর্মী বান্ধব নেতৃত্ব হলগুলোতে নিয়ে আসা হবে।”

দীর্ঘদিন পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে রোববার বেলা ১১ টায় টিএসসি প্রাঙ্গণে  সমন্বিত বার্ষিক হল সম্মেলন আয়োজন করছে ছাত্রলীগ।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর এক বছরের জন্য ১৮টি হলের কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রলীগ। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখাসহ কেন্দ্রীয় কমিটির রদবদল হলেও প্রায় পাঁচ বছরেও হয়নি হল কমিটি।

এই সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপে জড়িতদের নেতৃত্বে আসতে দেওয়া হবে না বলেন জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যারা মামলা, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা বা সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপে যারা জড়িত, তাদেরকে অবশ্যই আমরা নেতৃত্বে আসতে দেব না। ”

“সবোচ্চ চেষ্টা চালাব সৎ, মেধাবী, যারা দেশের জন্য আপেষহীন, দেশরত্ম শেখ হাসিনার জন্য আপোষহীন, যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে যারা প্রস্তুত, সামনে জাতীয় নির্বাচন রয়েছে, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে যারা প্রস্তুত রয়েছে, আমরা সেই ধরনের নেতৃত্ব বাছাই করব।”

করোনাভাইরাস মহামারী পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারের নীতিমালী অনুযায়ী রোববারের সম্মেলনে লোক সমাগম সীমিত রাখা হবে বলে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্মেলনস্থলে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ ছাত্রলীগের সকল কর্মীদের রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তাদের জন্য লাইভের ব্যবস্থা থাকবে।

“সম্মেলনে দুই ডোজ টিকার সনদ থাকা সাপেক্ষে হলের প্রদপ্রত্যাশীরা, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ হলশাখার নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং  সাংবাদিকরা থাকতে পারবেন।”

সাদ্দাম বলেন, “নেতা-কর্মীদের মধ্যে যারা অসুস্থ বা যাদের মৃদু সংক্রমণ রয়েছে, তাদেরকে আসতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। টিকার সনদ ছাড়া সম্মেলনে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। টিকার সনদ যাচাই করার জন্য ছাত্রলীগের উপ-কমিটি রয়েছে।”

কীভাবে নেতা নির্বাচন হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই ১৮টি হলে কর্মীসভা করেছি, সেখানে কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আমাদের পদপ্রত্যাশীদের অবস্থান নিয়ে আমরা জরীপ করেছি। পদপ্রত্যাশীদের সিভি অনেক আগেই সংগ্রহ করেছি এবং অনেকবার যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। সম্মেলনের পর আমাদের প্রথম ও দ্বিতীয় অধিবেশনে তাদের বিষয়ে আমরা সাংগঠনিক কোরামে আলোচনা করেই চূড়ান্ত নেতা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

কমিটিতে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে যারা হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে জড়িত, তাদের বিষয়ে সংগঠনের অবস্থান জানতে চাইলে সাদ্দাম বলেন, “হলের পদপ্রত্যাশীরা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের জন্য কাজ করেছে। আমরা আহ্বান জানিয়েছি, পদপ্রত্যাশীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা অসঙ্গতি থাকে, তাহলে আমাদের কাছে যেন তা সরবরাহ করে, সে অনুযায়ী আমরা তদন্ত করে নেতা নির্বাচন করব।

“আমরা চেষ্টা করব যতটা সম্ভব স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে নেতৃত্ব নিয়ে আসা, এক্ষেত্রে অনুপ্রবেশের ঘটনা যেন না ঘটে, সেজন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।”

লিখিত বক্তব্যে সভাপতি সনজিত বলেন, “সম্মেলন আয়োজনের জন্য শুরু থেকেই আমাদের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও বৈশ্বিক মহামারি ও নানাবিধ বাস্তবতায় সম্মেলন আয়োজনে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বটে।”

তিনি বলেন, সমন্বিত হল সম্মেলনের আয়োজনকে সফল করার লক্ষ্যে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ইতিমধ্যে ১৮টি হলের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মী সমাবেশে উপস্থিত হয়ে নেতা কর্মীদের বিভিন্ন বক্তব্য, দাবি-দাওয়া, পরামর্শ শুনেছি, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

হল সম্মেলনের কতদিন পর হলের কমিটি ঘোষণা করা হবে, এমন প্রশ্নে সনজিত বলেন, “আমরা ৩০ জানুয়ারি সম্মেলন করার পর যতদ্রুত সম্ভব কমিটি ঘোষণা করব।”

“হয়তো দুই-তিনদিন বা এক সপ্তাহ লাগতে পারে। আমাদের ছোট ভাই-বোনরা প্রায় পাঁচ বছর ধরে অনেক কষ্ট করেছে। আমরা তাদের কষ্ট বুঝি, তাই দ্রুতই হল কমিটি দিয়ে দিব। এর মাধ্যমে আমাদের ছাত্রলীগ দ্রুত সাংগঠনিকভাবে গতিশীল হবে।”

সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি বরিকুল ইসলাম বাঁধন বলেন, আমরা উৎসবমুখর পরিবেশে সব হলের কর্মীসভা সম্পন্ন করেছি৷ এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো হলে কর্মীরা কাজ করছে। এখন উৎসব আমেজ বিরাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রনক জাহান রাইন।

 

পুরনো খবর

‘দাবির মুখে’ ছাত্রলীগ ঢাবি শাখার হল সম্মেলনের নতুন তারিখ  

৫ বছর পর ‘হল কমিটি’ পাবে ঢাবি ছাত্রলীগ  

আরও পড়ুন