করোনাভাইরাস: দেশে আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও মৃত্যুতে রেকর্ড

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোভিড আইসোলেশন ওয়ার্ডের বুধবার দুপুরের চিত্র। করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনে দিনে বাড়তে থাকায় হাসপাতালটির কোভিড ওয়ার্ডে কোনো শয্যাই খালি ছিল না সেদিন। ফাইল ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি
দেশে করোনাভাইরাসে একদিনে ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা এ যাবৎ সর্বাধিক। তবে দিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা গত কয়েক দিনের তুলনায় কমেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শনিবার জানিয়েছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় ৫ হাজার ৩৪৩ জন নতুন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৯৩৭ জন।

সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত কয়েক দিন ধরেই দিনে ৬ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়ে আসছিল। এর মধ্যে গত বুধবার রেকর্ড ৭ হাজার ৬২৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

গত এক দিনে ৭৭ জনের মৃত্যুতে দেশে মোট ‍মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৬৬১ জন।

এর আগে একদিনে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর খবর এসেছিল গত বৃহস্পতিবার। সেদিন ৭৪ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত ২৪ ঘণ্টায় সেরে উঠেছেন ৩ হাজার ৮৩৭ জন। তাদের নিয়ে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৭৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল ২০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আর সর্বমোট নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

''  

''  

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১২১টি আরটি-পিসিআর ল্যাব, ৩৪টি জিন-এক্সপার্ট ল্যাব ও ৮৮টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ল্যাবে মিলিয়ে সর্বমোট ২৪৩টি ল্যাবে ২৬ হাজার ৭৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৪৮৯টি নমুনা।

শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৪ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪২ শতাংশ।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছর ৮ মার্চ; তা ৬ লাখ পেরিয়ে যায় গত ১ এপ্রিল।

প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বছর ৩১ মার্চ তা ৯ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ৩৩তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ৩৯তম অবস্থানে।

''  

''  

গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৫৩ জন পুরুষ আর নারী ২৪ জন। তাদের প্রত্যেকেই হাসপাতালে মারা গেছেন।

মৃতদের মধ্যে ৪৪ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ২২ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর,  ৫ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ২ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ৩ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং ১ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ছিল। 

মৃতদের মধ্যে ৫১ জন ঢাকা বিভাগের, ১৫ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩ জন রাজশাহী বিভাগের, ২ জন খুলনা বিভাগের, ১ জন করে ২ জন বরিশাল ও সিলেট বিভাগের এবং ৪ জন রংপুর বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৯ হাজার ৬৬১ জনের মধ্যে ৭ হাজার ২২৬ জনই পুরুষ এবং ২ হাজার ৪৩৫ জন নারী।

বাংলাদেশে কোভিড-১৯: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য নিয়ে পুরনো সব খবর