কোভিড: ঢাকার ৬৮টি ওয়ার্ডে ব্র্যাকের সচেতনতা কর্মসূচি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাদেক খান কৃষি মার্কেট এলাকা। অনেক বিক্রেতাকেই মাস্ক ছাড়া দেখা গেল সেখানে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের একদল কর্মী বিষয়টি দেখতে পেয়ে এগিয়ে গেলেন। কর্মীরা মাস্ক পরতে উৎসাহিত করলেন। যাদের নেই তাদের মাস্কও দিলেন।

এ বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আসলাম মোল্লা জানালেন, মাস দেড়েক আগে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে বাজারে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এবার তারা প্রথম মাস্কও বিতরণ করছে।

এখানকার বাজার কমিটির ম্যানেজার মো. সামি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওরা যখনই আসে, আসলে মাস্ক দেয়। সবাইকে পরতে বলে। যাদের মাস্ক নাই, তাদেরকে পরতে বলে। মাইকিং করে।”

করোনাভাইরাস মহামারীতে সংক্রমণের গতি কমাতে নগরীর জনসাধারণের মাঝে এভাবে সচেতনতা তৈরির কাজ করছে ব্র্যাকের ‘কমিউনিটি সাপোর্ট টিম’।

গত রোববার সাদেক খান কৃষি মার্কেট এলাকাসহ আরও কিছু এলাকায় গিয়ে এ দলের কার্যক্রমে জনসাধারণের মাঝে পরিবর্তনের দিকটি দেখা গেছে।

ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ৬৮টি ওয়ার্ডে ১৭০ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও ১৩৬ জন সেচ্ছাসেবক কাজ করছেন।

এই টিমের কাজ শুরু হয় চলতি বছরের জুনে, শেষ হবে চলতি মাসে।

ব্র্যাকের এই সচেতনতামূলক কাজে সহযোগিতা করছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল। এই উদ্যোগে অর্থায়ন করেছে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস।

ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির পরিচালক মোর্শেদা চৌধুরী বলেন, “মানুষ যাতে বুঝতে পারে কিভাবে কোভিড প্রতিরোধ করতে হবে, তারা একটিভলি তাদের কমিউনিটিতে কোভিড প্রতিরোধে কাজ করবে; এটাই হচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্য।

“এটা করতে গিয়ে সব জায়গা থেকে সমান ভাবে রেসপন্স পাওয়া যায়নি। তারপরও আমরা চেষ্ট করছি।”

ব্র্যাক জানিয়েছে, এ কর্মসূচির আওতায় দুইজন সেচ্ছাসেবক কাজ করেন একেকটি ওয়ার্ডের ২০টি হটস্পট নিয়ে। মাস্ক পরা, হাত ধোয়া ও সামাজিক দূরত্ববিধি মানার বিষয়ে সচেতন করেন তারা।

দিনে পাঁচটি হটস্পটে ৫০০টি মাস্ক বিতরণ করেন কমিউনিটি টিমের সদস্যরা।

৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সেচ্ছাসেবক কাওসার ইসলাম বলেন, “পানি ও সাবানের বিষয়টি আমরা প্রতিদিন স্থানীয় একজন প্রতিনিধির মাধ্যমে মনিটর করি। সাবানের খরচটা ব্র্যাকের পক্ষ থেকেই দেওয়া হয়।”

ব্র্যাকের পক্ষ থেকে সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ধর্মীয় উপসনালয়েও। তার একটি জাফরাবাদ জামে মসজিদ। পাঁচ তলা এ মসজিদে দিনে মুসল্লী আসেন চার থেকে পাঁচশ জন।

মসজিদের ইমাম ও খতিব আমানউল্লাহ ফারুকী বলেন, “৭০ ভাগ মুসল্লি মাস্ক পরছেন, বাকিটা হয়ে যাবে। একসময় আনইজি ফিল করতেন। যেসব মুসল্লি মাস্ক পরে আসেন না, তাদের এখান থেকে দেই। ব্র্যাক হাত ধোয়ার সাবান দিচ্ছে, স্যানিটাইজার দিচ্ছে।” 

জুমার খুতবায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ করা বলে জানিয়েছেন তিনি।

রায়েরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরুন নিসা ব্র্যাকের পক্ষ থেকে ২০ বক্স মাস্ক পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “মাস্কগুলো আমি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দিয়েছি। তারা যদি সামনের মাসগুলোতেও এভাবে মাস্ক দেয় তাহলে আমরা উপকৃত হব।”

মোহনের বাড়ি বস্তিতে গিয়েও সেখানকার অনেক বাসিন্দাদের মাস্ক ছাড়াই চলাচল করতে দেখা গেছে।

এখানকার বাসিন্দা পিয়া বলেন, “কয়দিন পরপরই ব্র্যাকের লোকজন মাস্ক দিয়ে যায় এসে। প্রায়ই এসে আমাদের রোগ-বালাই সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেয়।”

নূরজাহান নামের একজন বলেন, “আমরা আগে মাস্ক পরতাম না, এরা দেওয়ার পর থেকেই আমরা পরি। করোনার মধ্যে ঠাণ্ডা-কাশির ওষুধ দিছে।”

দক্ষিণ সিটির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সেচ্ছাসেবক ইমন হোসাইনের পর্যবেক্ষণ, ব্র্যাকের এই উদ্যোগের ফলে মাস্ক পরার হার বেড়েছে।