এক সপ্তাহে কোভিড রোগী বেড়েছে ১৮১%

দেশে এক সপ্তাহের ব্যবধানে করোনাভাইরাসে শনাক্ত রোগী ও মৃত্যু উল্লেখযোগ্যহারে বাড়লেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১০ হাজার ৯০৬ জন নতুন কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে; মৃত্যু হয়েছে আরও ১৪ জনের।

বিশেজ্ঞরা বলছেন, এখন রোগী শনাক্তের যে হিসাব দেওয়া হচ্ছে তা প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কম। শনাক্তের হারে ঊর্ধ্বগতির কারণে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে মৃত্যু বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।

ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে আবার সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়া শুরু হয়েছে। কোভিডের নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাবেই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ধরনের সামাজিক বিস্তারও (কমিউনিটি ট্রান্সমিশন) হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। রোববার শনাক্তের হারও ছাড়িয়েছে ৩১ শতাংশ।

এমন প্রেক্ষাপটে সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পর এবার সব ধরনের অফিসে জনবল অর্ধেক কমানোর নির্দেশ দিয়েছে।

রোববার প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ হিসাবে দেখা গেছে, ১৭ থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬৭ হাজার ৪২৫ জন। এর আগের সপ্তাহে ১০ থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত আক্রান্ত রোগী ছিল ২৪ হাজার ১১ জন।

অর্থাৎ এক সপ্তাহে রোগী বেড়েছে ৪৩ হাজার ৪১৪ জন। শতকরা হিসাবে ১৮০ দশমিক ৮১ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যা বলছে, গত সাত দিনে মারা গেছেন আরও ৭৯ জন। আগের সপ্তাহে কোভিডে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৪২ জন। অর্থাৎ এক সপ্তাহে কোভিডে মৃত্যুর সংখ্যা ৮৯ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে।

ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ডা. বে-নজীর আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সংক্রমণ পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই ডেল্টা ভাইরাসের বিস্তারের কারণে গত বছরের জুলাই-অগাস্টকে ছাড়িয়ে গেছে। এখন রোগী শনাক্তের হিসাবে প্রকৃত চিত্র আসছে না।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ওমিক্রনে আক্রান্ত হলেও মানুষ সেভাবে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন না, নমুনাও পরীক্ষা করছেন না। বাংলাদেশে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সংক্রমণ চূড়ায় উঠলেও সেটা প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হবে না বলে মনে করছেন তিনি। ডেল্টার সময় সংক্রমণ মারাত্মক হতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন এ কারণে লোকজন পরীক্ষা করাতেন, হাসপাতালে ভর্তি হতেন। এবার কারও কারও শুধু নাক দিয়ে পানি পড়ছে, কারও শুধু সর্দি-কাশি। অনেক পরিবারের সবাই আক্রান্ত কিন্তু পরীক্ষা করছে শুধু একজনের।

“আনরিপোর্টেড কেইস এবার অনেক বেশি। যেই সংখ্যা বলা হচ্ছে এটা ‘টিপ অব দা আইসবার্গ’।”

আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এখন যে মৃত্যু হচ্ছে তা গত তিন সপ্তাহ আগের সংক্রমণের প্রভাবে। এখন যে পরিমাণ আক্রান্ত হচ্ছে তাদের মধ্যে কত লোকের মৃত্যু হবে তা বোঝা যাবে তিন সপ্তাহ পর।

“মৃত্যু আরও বাড়বে কি না তা দেখার বিষয় আছে। কারণ আমাদের টিকা নেওয়ার হার কম, এ কারণে মৃত্যু বাড়ার একটা আশঙ্কা রয়েছে। যেসব দেশ টিকা ভালোভাবে নিয়েছে সেখানে মৃত্যুর হার কম। প্রাকৃতিক ইমিউনিটি কম।”

আগামী সপ্তাহ ধরে মৃত্যু বাড়তে থাকলে বলতে হবে মৃত্যুর কারণ ওমিক্রন মন্তব্য করে তিনি বলেন, যদি শনাক্তের হার অনুযায়ী মৃত্যু কম হয়- তাহলে বলা যাবে ওমিক্রনে মৃত্যু কম হচ্ছে। এখানে বিষয় হলো, শনাক্ত অনেক বেশি হলে আনুপাতিক হারে মৃত্যু কম হলেও সংখ্যায় সেটা বেড়ে যাবে।

রোববার পর্যন্ত দেশে নতুন রোগীদের নিয়ে মোট শনাক্ত কোভিড রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৮৫ হাজার ১৩৬ জনে। তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ২২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এ ভাইরাসে।

কোভিড: শনাক্তের হার ফের ৩১% ছাড়াল, মৃত্যু ১৪ জনের

ওমিক্রনের প্রধান উপসর্গ নাক দিয়ে জল গড়ানো

সোমবার থেকে অফিস চলবে অর্ধেক জনবলে, নির্দেশ সরকারের

ওমিক্রন: বাস-ট্রেনে অর্ধেক যাত্রী, অনুষ্ঠান-সমাবেশ বন্ধ  

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, অফিসে লাগবে টিকা সনদ