দেশে সাড়ে ২৭ হাজার জনের ঈদ করোনাভাইরাসকে সঙ্গে নিয়ে

ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বসানো বুথে করোনাভাইরাস শনাক্তের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর জন্য রাখা হচ্ছে। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি
মহামারী পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দেশে ঈদের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত থাকছেন ২৭ হাজার ৫৯৮ জন।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন থেকে সক্রিয় কোভিড রোগীর এ সংখ্যা জানা যায়।

এদিন গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জনের এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর দিয়েছে অধিদপ্তর। গত কয়েক দিনের মত গত এক দিনেও মৃত্যু হয়নি কারও।  

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত কোভিড আক্রান্ত হয়েছে ১৯ লাখ ৫২ হাজার ৭২৬ জন। আর বিশ্বকে নাড়িয়ে দেওয়া এই রোগে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ১২৭ জন। এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হওয়ার পর ১৮ লাখ ৯৬ হাজার ১ জন সেরে উঠেছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য।

''

সেই হিসেবে দেশে এই মুহূর্তে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রয়েছেন ২৭ হাজার ৫৯৮ জন।

মঙ্গলবার দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন হচ্ছে। সেক্ষেত্রে এই সংখ্যক মানুষকে সংক্রমিত অবস্থায় ঈদ পার করতে হচ্ছে।

সোমবার দেশে আরও ১০ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এই সংখ্যা মহামারীর শুরুর দিকে ২০২০ সালের ৪ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। ওইদিন সারাদেশে ৯ জন রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

''

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় আড়াই হাজার নমুনা পরীক্ষা করে এই ১০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

নমুনা পরীক্ষা অনুযায়ী শনাক্তের হার শুন্য দশমিক ৪০ শতাংশ। আগের দিন এই হার শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ ছিল।

গত একদিনে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে টানা ১২ দিন মৃত্যুহীন দিন দেখল বাংলাদেশ। তাতে মোট মৃতের সংখ্যা ২৯ হাজার ১২৭ জনই থাকল।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছে ৩০৪ জন। তাদের নিয়ে ১৮ লাখ ৯৬ হাজার একজন সুস্থ্য হয়ে উঠলেন।

গত একদিনে দেশে শনাক্ত রোগীর ১০ জনই ঢাকা বিভাগের। তাদের মধ্যে ৯ জন ঢাকা মহানগরের বাসিন্দা। আক্রান্ত অন্যজন থাকেন টাঙ্গাইল জেলায়।

এছাড়া দেশের বাকি সাতটি বিভাগের কোথাও করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি।

মহামারীর মধ্যে সার্বিক শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। আর মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ব্যাপক বিস্তারের মধ্যে গত বছরের ২৮ জুলাই দেশে রেকর্ড ১৬ হাজার ২৩০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়।

প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ২০২০ সালের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২০২১ সালের ৫ অগাস্ট ও ১০ অগাস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যুর খবর আসে, যা মহামারীর মধ্যে এক দিনের সর্বোচ্চ সংখ্যা।

বিশ্বে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৬২ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ। বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ৫১ কোটি ৩৮ লাখের বেশি।

বাংলাদেশে কোভিড-১৯: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য নিয়ে পুরনো সব খবর