‘টানা ১০ বল মানে ১০ উইকেট ও তিন হ্যাটট্রিকের সুযোগ’

টানা ১০ বল করা চাট্টিখানি কথা নয়। ফিটনেস তো বটেই, পাশাপাশি বোলারদের স্কিল, টেম্পারামেন্টেরও কঠিন পরীক্ষা এটি। তবে সেই চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে আছেন রশিদ খান। আফগান এই লেগ স্পিনারের কাছে টানা ১০ বল মানে টানা ১০ উইকেট ও তিন হ্যাটট্রিকের সুযোগ!

ক্রিকেটে একসময় ৪ বলের ওভার ছিল। ৮ বলের ওভারও ছিল। এখন অনেক বছর ধরেই চলে আসছে ৬ বলের ওভার। এবার ‘দা হান্ড্রেড’ সুযোগ করে দিচ্ছে নতুন অভিজ্ঞতার। ইংল্যান্ডের আলোচিত এই ১০০ বলের ক্রিকেটে প্রচলিত ওভারের হিসেবে নেই, আছে ৫ বলের একেকটি সেট। প্রতি বোলার ম্যাচে চারটি সেট, অর্থাৎ সর্বোচ্চ ২০ বল করতে পারেন।

তবে সবচেয়ে কৌতূহল জাগানিয়া নিয়ম ওই টানা ১০ বলের। অধিনায়ক চাইলে কোনো বোলারকে টানা ১০ বলও করাতে পারেন।

এই টুর্নামেন্টের প্লেয়ার্স ড্রাফটে দল পাওয়া প্রথম ক্রিকেটার ছিলেন রশিদ। বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তার যে চাহিদা, তাতে সেটি অস্বাভাবিক ছিল না মোটেও। ট্রেন্ট রকেটস দলের হয়ে এই টুর্নামেন্টে প্রথম মাঠে নামবেন শনিবার।

টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচে টানা ১০ বল করতে দেখা গেছে কিউই ফাস্ট বোলার অ্যাডাম মিল্ন, রশিদের আফগান সতীর্থ মোহাম্মদ নবিসহ কয়েকজনকে। রশিদ যে ধরনের বোলার, তাতে টানা ১০ বলের ভার তার ওপরও পড়তে পারে।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে রশিদ বললেন, নতুন এই চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষায়।

“টানা ১০ বল করতে আমি দারুণ রোমাঞ্চিত। এটি সুযোগ করে দিচ্ছে টানা ১০ উইকেট নেওয়ার ও তিনটি হ্যাটট্রিক করার! এই সুযোগ আমাদের থাকছে। অবশ্য টানা ১০ ছক্কাও হতে পারে কিংবা ১০ বলে ৫০ রানও হজম করতে পারি।”

“এটা আসলে নির্ভর করবে কন্ডিশন ও ম্যাচের পরিস্থিতি ওপর। তবে কোনো ব্যাটসম্যান যদি কোনো বোলারকে খেলতে ভুগতে থাকে, তখন অবশ্যই প্রতিপক্ষ অধিনায়ক চাইবেন ওই বোলারকে টানা ১০ বল করিয়ে চাপ ধরে রাখতে।”

রশিদ খান প্রথম ম্যাচ খেলবেন ট্রেন্ট ব্রিজে, যেখানকার উইকেট ব্যাটসম্যানদের জন্য স্বর্গ। মাঠের আকারও ছোট। গত কয়েক বছরে এখানে বিশ্বরেকর্ডনহ রানের বন্যা বয়ে গেছে নিয়মিতই। কদিন আগেও ইংল্যান্ড-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টিতে রান উঠেছে ৪৩৩!

রশিদ অবশ্য এসবে ভড়কে যাচ্ছেন না। নিজের স্কিলে ভরসা আছে তার।

“স্পিনার হয়ে যদি নিষ্প্রাণ উইকেট, ছোট মাঠ, এসব মাথায় রাখি, তা কোনো কাজে দেয় না। বরং নিজের স্কিল ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগালে উপকার হয়। এটাই নিজের নিয়ন্ত্রণে আছে।”

“সবসময় সব মাঠে ৭৫-৮০ মিটার সীমানা পাওয়া যাবে না। বাজে বল করলে বাউন্ডারি ১০০ মিটার হলেও ছক্কা হজম করতে হবে। এটা অবশ্যই চ্যালেঞ্জ। বোলিংয়ে আমার ধারাবাহিক হতে হবে এবং পরীক্ষাটা সেখানেই। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত ইতিবাচক মানসিকতা থাকছে আমার, অবশ্যই পারফর্ম করতে পারব।”