পুরান-হোল্ডারের ফিফটিতে সমতায় উইন্ডিজ

দারুণ জুটিতে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন হোল্ডার ও পুরান। ছবি: উইন্ডিজ ক্রিকেট।
ব্যাটিং দুরূহ উইকেটে খাবি খেলেন দুই দলের ব্যাটসম্যানরাই। বোলারদের দাপটের ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিল একটি জুটি। নিকোলাস পুরান ও জেসন হোল্ডারের জোড়া ফিফটি আর দারুণ জুটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফিরল সমতায়।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে ৪ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বারবাডোজে শনিবার অস্ট্রেলিয়া ৪৫ রানে হারায় ৬ উইকেট। সেখান থেকে লোয়ার অর্ডারদের লড়াইয়ে তারা যেতে পারে ১৮৭ পর্যন্ত।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ রান তাড়ায় জিতে যায় ১২ ওভার বাকি রেখেই। তবে ওভার এতগুলো থাকলেও এক পর্যায়ে ভীষণ বিপদে ছিল তারাও। ৭২ রানে হারাতে হয়েছিল ৫ উইকেট। সেখান থেকে পুরান ও হোল্ডার উদ্ধার করেন দলকে।

অস্ট্রেলিয়া ভুগেছে নিজেদের ভুলেও। ২৬ রানে পুরানোর সহজ ক্যাচ ছাড়েন মোইজেস হেনরিকেস। ৫৯ রানে অপরাজিত থেকে এই পুরানই হন ম্যান অব দা ম্যাচ।

সুরক্ষা বলয়ের ভেতরে থাকা একজন কোভিড পজিটিভ হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার টসের পর স্থগিত হয়েছিল এই ম্যাচটি। শনিবার নতুন করে আর টস হয়নি। তবে অস্ট্রেলিয়াকে একাদশে একটি পরিবর্তনের অনুমতি দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চোট পাওয়া জশ হেইজেলউডের জায়গায় সুযোগ পান ওয়েস অ্যাগার। লোয়ার অর্ডারে ব্যাট হাতে বড় ভূমিকাও রাখেন এই পেসার।

প্রথম ওভার থেকেই শুরু হয় অস্ট্রেলিয়ার দুর্দশার। শেলডন কটরেলের বলে ওপেনার বেন ম্যাকডারমট আউট হন শূন্য রানে।

আরেক ওপেনার জশ ফিলিপি আউট হন আলজারি জোসেফের বাউন্সারে। তিনে নামা মিচেল মার্শকে দুর্দান্ত ডেলিভারিতে ফেরান হোল্ডার।

এরপর জাদুকরি বোলিংয়ে মিডল অর্ডার ধসিয়ে দেন আকিল হোসেন। ১০ বলের মধ্যে ৩ উইকেট তুলে নেন এই বাঁহাতি স্পিনার দুর্দান্ত তিনি ডেলিভারিতে।

ত্রয়োদশ ওভারেই অস্ট্রেলিয়ার নেই ৬ উইকেট।

সপ্তম উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়েন ম্যাথু ওয়েড ও মিচেল স্টার্ক। ওয়েড যদিও স্বচ্ছন্দ ছিলেন না একটুও। তবে টিকে থেকে ৩৬ রান করে ফেলেন। স্টার্ক ফেরেন ১৯ রানে।

নবম উইকেটে আরেকটি মূলব্যান জুটি গড়েন দুই বোলার অ্যাডাম জ্যাম্পা ও ওয়েস অ্যাগার। দুজনই পান ক্যারিয়ার সেরা স্কোরের দেখা। জ্যাম্পা করেন ৬২ বলে ৩৬।

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নেমে অ্যাগার ৪১ করেন ৩৬ বলেই। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও তার সেরা স্কোর এটি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজও রান তাড়ায় হোঁচট খায় শুরুর দিকে। তৃতীয় ওভারেই স্টার্ক পরপর দুই বলে ফেরান এভিন লুইস ও ড্যারেন ব্রাভোকে।

স্টার্ককে দারুণভাবে সামলে নিলেও শেই হোপ ৩৮ রানে আউট হন অ্যাশটন টার্নারের স্পিনে। অনিয়মিত এই বোলার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বলেই দেখা পান উইকেটের।

অ্যাডাম জ্যাম্পা দুর্দান্ত দুটি গুগলিতে বোল্ড করেন জেসন মোহাম্মেদ ও কাইরন পোলার্ডকে। জয় তখন ক্যারিবিয়ানদের থেকে অনেক দূরে। পুরান ও হোল্ডার সেখান থেকেই জুটি গড়ে এগিয়ে নেন দলকে।

জ্যাম্পার বলেই মিড অফে পুরানের সহজ ক্যাচ ছাড়েন হেনরিকেস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তখন ১২৩। জীবন পেয়ে পরের বলেই বাউন্ডারি পুরান ইঙ্গিত দেন, অস্ট্রেলিয়াকে খেসারত দিতে হবে। শেষ পর্যন্ত হয় সেটিই।

এই জুটি থামে ৯৩ রানে। ৬৯ বলে ৫২ করে আউট হন হোল্ডার। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় তখন নাগালেই। শেষ দিকে পুরানের আরেকটি ক্যাচ ছাড়ে অস্ট্রেলিয়া। দুইবার জীবন পেয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

সিরিজ নির্ধারণী শেষ ওয়ানডে সোমবার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

অস্ট্রেলিয়া: ৪৭.১ ওভারে ১৮৭ (ফিলিপি ১৬, ম্যাকডারমট ০, মার্শ ৮, হেনরিকেস ৪, কেয়ারি ১০, টার্নার ১, ওয়েড ৩৬, স্টার্ক ১৯, জ্যাম্পা ৩৬, অ্যাগার ৪১, মেরেডিথ ০*; কটরেল ৮-১-২৯-২, হোল্ডার ৭-০-৪১-১, জোসেফ ৮.১-০-৩৯-৩, আকিল ১০-০-৩০-৩, ওয়ালশ ১০-০-৩২-১, জেসন ৪-০-১২-০)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৮ ওভারে ১৯১/৬ (লুইস ১, হোপ ৩৮, ব্রাভো ০, জেসন ১১, পুরান ৫৯*, পোলার্ড ২, হোল্ডার ৫২, জোসেফ ৫*; স্টার্ক ১০-১-২৬-৩, অ্যাগার ৫-০-২৪-০, মেরেডিথ ৫-০-৩৬-০, জ্যাম্পা ৯-১-৪৩-২, টার্নার ৬-০-৩৭-১, মার্শ ৩-০-১৯-০)।

ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা।

ম্যান অব দা ম্যাচ: নিকোলাস পুরান।