সকালে ফিরছে বাংলাদেশ, বিকেলে আসছে অস্ট্রেলিয়া

হোটেল ব্যবস্থাপনায় আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন। ম্যাচ অফিসিয়ালরাসহ অনেকের চলছে ১০ দিনের কোয়ারেন্টিন। অস্ট্রেলিয়া দলের ইমিগ্রেশন হবে বিশেষ ব্যবস্থায়, বিমানবন্দরেই ঢুকতে হবে না তাদের। ম্যাচে বা অনুশীলনে ক্রিকেটারদের কাছাকাছি যেতে পারবেন না মাঠকর্মীরা। সব মিলিয়ে প্রস্তুত কঠোরতম জৈব-সুরক্ষা বলয়। অপেক্ষা এখন দুই দলের। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় পা রাখবে বাংলাদেশ দল, বিকেলে অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশ দল সিরিজ খেলে ফিরছে জিম্বাবুয়ে থেকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে সিরিজ খেলে আসছে অস্ট্রেলিয়া। ক্রিকেট দুনিয়ার দুই প্রান্ত থেকে বুধবার ঢাকার পথে রওনা হয়ে গেছে দুই দলই। অস্ট্রেলিয়ানরা আসছে চার্টার্ড ফ্লাইটে। আগামী মঙ্গলবার শুরু হবে দুই দলের পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

ঢাকায় পা রেখে দুই দলই সরাসরি চলে যাবেন টিম হোটেলে। সেখানে তিন দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে সবাইকে। নিজ কক্ষ থেকেও বের হওয়া যাবে না।

জৈব-সুরক্ষা বলয়ে গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ও এপ্রিলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ। এবারের সুরক্ষা বলয় তবু ভিন্ন। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চাওয়ার প্রেক্ষিতে অনেক সতর্কতায় কঠোর সুরক্ষা বলয় রাখা হয়েছে এই সিরিজের জন্য।

হোটেলে সিরিজ সংশ্লিষ্টরা ছাড়া বাইরের আর কোনো অতিথি এবার থাকতে পারবে না। কেবল হোটেলের স্থায়ী কয়েকজন অতিথি থাকবেন, যারা মূলত সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছেন। সেই কজনকেও রাখা হচ্ছে আলাদা ব্লকে।

আগের সুরক্ষা বলয়গুলির সঙ্গে এবার কতটা পার্থক্য, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তা শোনালেন বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরি।

“তিনটি জায়গায় মূল পার্থক্য এবার। হোটেল থাকছে এক্সক্লুসিভ। অস্ট্রেলিয়া দলের ইমিগ্রেশনসহ এয়ারপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা হবে বিশেষ ব্যবস্থায়। ওরা টারমার্ক থেকেই গাড়িতে উঠবে। এয়ারপোর্টের ভেতরে ঢোকা এড়ানো হচ্ছে। এই দুটি হচ্ছে মূল পরিবর্তন। এছাড়াও কিছু পরিবর্তন আছে, যেগুলো অলরেডি হচ্ছে। যেমন, সুরক্ষা বলয়ে যারা থাকবে, তাদের সবার ১০ দিনের কোয়ারেন্টিন চলছে।”

“আরেকটা বড় পার্থক্য হলো, মাঠকর্মীরা ক্রিকেটারদের কাছে আসতে পারবে না। যদিও মাঠকর্মীরা বাবলে আছে। তারপরও প্র্যাকটিস ও ম্যাচ চলার সময় তারা ক্রিকেটারদের কাছে আসতে পারবে না। পিচ-মাঠ তৈরি করে তারা ১-২ ঘণ্টা আগে মাঠ ছেড়ে যাবেন। ম্যাচের সময় বৃষ্টি হলে বিশেষ ব্যবস্থায় তারা মাঠে ঢুকবেন। সেখানেও যথেষ্ট দূরত্ব থাকবে।”

শেষ নয় এখানেই। বিসিবির মূল প্রবেশপথ ক্রিকেটারদের ড্রেসিং রুম লাগোয়া হওয়ায় সেটি এড়িয়ে চলতে হচ্ছে বিসিবির কর্মকর্তাদের। দিন দুয়েক ধরেই তারা ভিন্ন পথে বিসিবিতে ঢুকে অফিস করছেন। সতর্কতার মাত্রা এবার এতটাই।

সতর্কতার মধ্যেও অবশ্য কোভিড আক্রান্ত হওয়ার নজির কম নেই। গত আইপিএলে সুরক্ষা বলয়ের মধ্যেই একের পর এক আক্রান্ত হওয়ায় টুর্নামেন্ট স্থগিত করা হয়। সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া সিরিজেই সুরক্ষা বলয়ে থাকা ক্যারিবিয়ানদের সাপোর্ট স্টাফের একজন কোভিড পজিটিভ হওয়ায় বদল আনতে হয় সূচিতে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজে ওয়ানডে সিরিজ জিতে বাংলাদেশে আসছে অস্ট্রেলিয়া। ছবি : ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও তেমন কিছু হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, জানালেন বিসিবির প্রধান চিকিৎসক।

“বিভিন্ন পরিস্থিতির জন্য আলাদা বিস্তারিত প্রটোকল করা আছে। মাঠকর্মী পজিটিভ হলে কী করা হবে, হোটেলের স্টাফ হলে কী করা হবে বা ক্রিকেটার, ম্যাচ অফিসিয়ালরা আক্রান্ত হলে কেমন হবে, সবকিছুরই আলাদা গাইডলাইন আছে।

“এতকিছু করার পরও কিন্তু কেউ আক্রান্ত হতে পারে। টোকিও অলিম্পিকের মতো জায়গায়, বা আইপিএল, যেখানে সাপোর্ট সিস্টেম আরও কত ভালো, সেখানেও হয়েছে। যে কোনো সময়ই হতে পারে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার চেষ্টা করব।”

বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সহায়তায় এই বিশাল যজ্ঞ চলছে বলে জানালেন দেবাশীষ চৌধুরি।

“সরকার সম্পৃক্ত না থাকলে এসব করা যেত না। সরকারের বিভিন্ন বিভাগ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান মন্ত্রণালয়, সবার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সম্ভব হচ্ছে। একা বিসিবির পক্ষে সম্ভব হতো না।”

বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরির আশাবাদ, সিরিজটি সফলভাবেই শেষ করতে পারবেন তারা।

“কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেই দুটি আন্তর্জাতিক সিরিজ আমরা আয়োজন করেছি। আমাদের দলও বাইরে সফর করেছে। আমাদের কিন্তু ওই অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে কোন বিষয়গুলোয় গুরুত্ব দিতে হবে, প্রয়োজনীয়তাগুলো কী এবং কোন কোন বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করলে সফলভাবে সিরিজ শেষ করা যাবে।”

“এখন ফাইন টিউনিং করা হচ্ছে বেসিক চাওয়াগুলো। যেমন অনুশীলনের সময় বা অন্যান্য সময় কী কী প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে এখন শেষ সময়ের আলোচনা হচ্ছে। আমাদের ক্রিকেট অপারেশন্স, মেডিকেল টিম তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছে। এত কিছুর পরও যদি এই ধরনের পরিস্থিতি হয় যে কেউ পজিটিভ হলো, আমরা দুই বোর্ড এ ব্যাপার আলোচনা করে কাজ করব এবং সফলভাবে সিরিজটি শেষ করব।”

১০ দিন আগে থেকেই কোয়ারেন্টিনে থাকার নিয়মের কারণেই এই সিরিজে খেলতে পারছেন না বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিম, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও লিটন দাস। পারিবারিক কারণে জিম্বাবুয়ে থেকে আগেই দেশে ফেরেন মুশফিক। আমিনুল ফেরেন বাবার মৃত্যুতে। লিটনের বুধবার রাতেই দেশে ফেরার কথা নিকটাত্মীয়ের অসুস্থতায়। চোটের কারণে তামিম ইকবাল সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন আগেই।

চোট ও ব্যক্তিগত কারণ মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এই সফরে নেই ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভেন স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, অ্যারন ফিঞ্চ, মার্কাস স্টয়নিস, প্যাট কামিন্স, জাই রিচার্ডসন, কেন রিচার্ডসনের মতো শীর্ষ কয়েকজন।

সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে সিরিজটি শেষ করতেই ৫টি ম্যাচ হবে স্রেফ ৭ দিনের মধ্যেই। সবগুলি ম্যাচই মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে।

অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াড: অ্যাশটন অ্যাগার, ওয়েস অ্যাগার, জেসন বেহরেনডর্ফ, অ্যালেক্স কেয়ারি, ড্যানিয়েল ক্রিস্টিয়ান, জশ হেইজেলউড, মোইজেস হেনরিকেস, মিচল মার্শ, বেন ম্যাকডারমট, রাইলি মেরেডিথ, জশ ফিলিপি, মিচেল স্টার্ক, মিচেল সোয়েপসন, অ্যাশটন টার্নার, অ্যান্ড্রু টাই, ম্যাথু ওয়েড, অ্যাডাম জ্যাম্পা।

সফরসঙ্গী রিজার্ভ: ন্যাথান এলিস, তানভির স্যাঙ্ঘা।

বাংলাদেশ স্কোয়াড: মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), মোহাম্মদ নাঈম শেখ, সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার, আফিফ হোসেন, শামীম হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, নাসুম আহমেদ, মেহেদি হাসান,মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ,শরিফুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, মোহাম্মদ মিঠুন, তাইজুল ইসলাম।