রোমাঞ্চকর ম্যাচ জিতে সিরিজে ফিরল শ্রীলঙ্কা

৪০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। ছবি: আইসিসি।
মন্থর উইকেটে রানের জন্য ভুগলেন দুই দলের ব্যাটসম্যানরাই। তাতে বড় ইনিংসের দেখা মিলল না। কিন্তু লড়াই জমল বেশ, ম্যাচ গড়াল শেষ ওভারে। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার হার না মানা ইনিংসে রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচ জিতে সিরিজে ফিরল স্বাগতিকরা।

কলম্বোয় বুধবার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। তিন ম্যাচের সিরিজটি এখন ১-১ সমতায়।

মিলিত চেষ্টায় ভারত করতে পারে ৫ উইকেটে ১৩২ রান। এই রানই শ্রীলঙ্কার জন্য হয়ে দাঁড়ায় বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে ম্যাচ সেরা হওয়া ধনাঞ্জয়ার অপরাজিত ৪০ রানের সুবাদে ২ বল বাকি থাকতে তা পেরিয়ে যায় লঙ্কানরা।

ম্যাচটি মূলত মঙ্গলবার হওয়ার কথা থাকলেও ক্রুনাল পান্ডিয়া কোভিড-১৯ পজিটিভ হওয়ায় তা একদিন পিছিয়ে যায়। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসায় ভারত দলের আট জন ক্রিকেটারকে রাখা হয় আইসোলেশনে। তাই ভারতের মূল দলের কেবল ১১ জনই ছিল অবশিষ্ট। তাদের নিয়েই দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করল সফরকারীরা।

দলে থাকা কেবল পাঁচ বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানের তিন জনেরই হলো অভিষেক। এমন ব্যাটিং লাইন-আপ নিয়ে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ভারতের শুরুটা খারাপ হয়নি। সাবধানী ব্যাটিংয়ে উইকেট না হারিয়ে পাওয়ার প্লেতে ৪৫ রান তোলে তারা।

পরের ওভারেই ঘটে বিপত্তি। দাসুন শানাকার বাউন্সারে বল তুলে দেন অভিষিক্ত রুতুরাজ গায়কোয়াড। সহজ ক্যাচ নেন কিপার মিনোদ ভানুকা।

থিতু হয়ে ফিরে যান শিখর ধাওয়ান। ৫ চারে ৪২ বলে ৪০ রান করে তিনি বোল্ড হন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার বলে। একটি করে ছক্কা-চারে ২৩ বলে ২৯ করা আরেক অভিষিক্ত দেবদূত পাডিক্কেলের স্টাম্প ভাঙেন ভানিন্দু হাসারাঙ্গা।

উইকেট বুঝে লঙ্কান বোলাররা করেছেন বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং। রানই তুলতে পারছিল না ভারত। সাঞ্জু স্যামসন হতাশ করেন। এই কিপার-ব্যাটসম্যানের মতো দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি দেশের হয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা নিতিশ রানাও।

শ্রীলঙ্কার আট বোলারের মধ্যে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নিয়েছেন আকিলা ধনাঞ্জয়া।

রান তাড়ায় শুরু থেকেই ধুঁকছিল দুই পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নামা শ্রীলঙ্কা। তৃতীয় ওভারেই তারা হারায় আগের ম্যাচে দারুণ খেলা আভিশকা ফার্নান্দোকে। বাউন্ডারিতের রাহুল চাহারের দারুণ এক ক্যাচে ফেরেন লঙ্কান ওপেনার।

ভারতের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাওয়ার প্লেতে শ্রীলঙ্কা তুলতে পারে ৩৬ রান।

উইকেটে ছটফট করতে থাকা সাদিরা সামারাবিক্রমাকে বোল্ড করে দেন বরুণ চক্রবর্তী। উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে কুলদিপ যাদবের বলে স্টাম্পড হন অধিনায়ক দাসুন শানাকা।

এক প্রান্ত আগলে রেখে মিনোদ ভানুকা চালিয়ে যান লড়াই। তার ৪ চারে ৩৬ রানের ইনিংস থামে কুলদিপকে স্লগ-সুইপ করে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে।

এরপর দলের হাল ধরেন ধনাঞ্জয়া। দেখেশুনে খেলতে থাকেন তিনি। মাঝে হাসারাঙ্গা ২ চারে ১১ বলে ১৫ করে ব্যবধান কিছুটা কমান। তার বিদায়ের পর দ্রুত ফেরেন অভিষিক্ত রমেশ মেন্ডিসও।

তখনও জয় বেশ দূরে। ধীরে ধীরে দলকে লক্ষ্যের কাছে নিয়ে যান ধনাঞ্জয়া। শেষ দুই ওভারে যখন প্রয়োজন ২০ রান, ভুবনেশ্বর কুমারকে ছক্কায় ওড়ান চামিকা করুনারত্নে। ওভার থেকে আসে ১২ রান। শেষ ৬ বলে ৮ রানের সমীকরণ মেলাতে সমস্যা হয়নি ধনাঞ্জয়ার। 

বৃহস্পতিবার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে মাঠের লড়াইয়ে নামবে দুই দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ২০ ওভারে ১৩২/৫ (রুতুরাজ ২১, ধাওয়ান ৪০, পাডিক্কেল ২৯, স্যামসন ৭, নিতিশ ৯, ভুবনেশ্বর ১৩*, সাইনি ১*; চামিরা ৪-০-২৩-১, চামিকা ১-০-৬-০, আকিলা ৪-০-২৯-২, উদানা ১-০-৭-০, হাসারাঙ্গা ৪-০-৩০-১, শানাকা ২-০-১৪-১, রমেশ ২-০-৯-০, ধনাঞ্জয়া ২-০-১৩-০)।

শ্রীলঙ্কা: ১৯.৪ ওভারে ১৩৩/৬ (আভিশকা ১১, মিনোদ ৩৬, সামারাবিক্রমা ৮, শানাকা ৩, ধনাঞ্জয়া ৪০*, হাসারাঙ্গা ১৫, রমেশ ২, চামিকা ১২*; ভুবনেশ্বর ৪-০-২১-১, সাকারিয়া ৩.৪-০-৩৪-১, বরুণ ৪-০-১৮-১, চাহার ৪-০-২৭-১, কুলদিপ ৪-০-৩০-২)।

ফল: শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ এ সমতা।

ম্যান অব দা ম্যাচ: ধনাঞ্জয়া ডি সলভা।